প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনাকালে ১৬০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানী ৪৭ কারখানার

বণিক বার্তা: বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত জুনে শেষ হয় বাংলাদেশের ২০১৯-২০ অর্থবছর। সংকটময় ওই পরিস্থিতিতে দেশের ৪৭টি পোশাক কারখানা ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন বা প্রায় ১৬০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। একটি জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য গতকাল প্রকাশ হয়েছে।

‘বাংলাদেশে পোশাক কারখানায় সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং স্টাডি’ শীর্ষক জরিপটি পরিচালিত হয়েছে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি সংক্রান্ত সংস্থা ইউএনডিপি এবং স্বাধীন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড সংক্রান্ত গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভের (জিআরআই) যৌথ উদ্যোগে।

জরিপের ভিত্তিতে তৈরি ‘এ পাথওয়ে টু ম্যানেজ সেক্টর ইমপ্যাক্ট অন বাংলাদেশ ন্যাশনাল প্রায়োরিটি ইন্ডিকেটরস (এনপিআই) অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস (এসডিজি’স): এ বিজিএমইএ এক্সপেরিয়েন্স’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জরিপে অংশ নেয়া ৪৭ কারখানায় করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবেলা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের গতি-প্রকৃতি উঠে এসেছে।

জরিপে অংশ নেয়া কারখানার মধ্যে আছে অবনি নিটওয়্যার লিমিটেড, অনন্ত গ্রুপ, এআর জিন্স প্রডিউসার, এশিয়ান গ্রুপ, বেস্ট শার্টস, ব্লু প্ল্যানেট ফ্যাশনওয়্যার, ক্যাপিটাল ফ্যাশনস, কালারস অ্যান্ড স্টিচেস, কিউট ড্রেস ইন্ডাস্ট্রি, ডেনিম এক্সপার্ট, দীপ্ত অ্যাপারেলস, ইকোটেক্স, ফ্যাব্রিকা নিট কম্পোজিট, ফখরুদ্দিন টেক্সটাইল মিলস, ফকির নিটওয়্যারস, ফ্যাশনডটকম, ফ্লেমিঙ্গো ফ্যাশনস, গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ, এইচকে-টিজি গার্মেন্টস, ইমপ্রেস-নিউটেক্স কম্পোজিট টেক্সটাইলস, ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস।

জরিপে আরো অংশ নিয়েছে কেইলক নিউএজ বাংলাদেশ, নিট কনসার্ন, মার্ক ফ্যাশন ওয়্যার, মাওনা ফ্যাশনস, মেহের গার্মেন্টস, এমজি নিশ স্টিচ, মোহরা এশিয়ান অ্যাপারেলস, নিডল ড্রপ, নিউএজ অ্যাপারেলস, নিউএজ গার্মেন্টস, নিপ্পন গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ, পশ গার্মেন্টস, পশমি সোয়েটার্স, আরএএম অ্যাপারেল, সি ব্লু টেক্সটাইল, স্নোটেক্স আউটারওয়্যার, সফটেক্স সোয়েটার ইন্ডাস্ট্রিজ, এসকিউ বিরিচিনা, এসকিউ সেলসিয়াস, সুবর্ণা গার্মেন্টস, সুরমা গার্মেন্টস, তারাশিমা অ্যাপারেলস, টিআরজেড গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি, উর্মি গার্মেন্টস, ইউতাহ নিটিং অ্যান্ড ডায়িং ও ভিয়েলাটেক্স।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৭ কারখানার ৩৮ শতাংশ ওভেন পোশাক পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত। ৩৬ শতাংশ নিট পোশাক পণ্য উৎপাদন করে। সোয়েটার উৎপাদনে ৭ শতাংশ। ১৯ শতাংশ কারখানায় ওভেন ও নিট পোশাক তৈরি হয়। ৪৭টি কারখানার মধ্যে ৩২টি কারখানা শতভাগ রফতানিমুখী। বাকি কারখানাগুলো স্থানীয় ও রফতানি দুই বাজারের জন্যই পোশাক উৎপাদন করে। ৪৭ কারখানার মধ্যে ১৩ শতাংশের কর্মী সংখ্যা এক হাজারের নিচে। ৪৪ শতাংশের কর্মী সংখ্যা ১ হাজার ১ থেকে ৩ হাজার। ১৩ শতাংশের ৩ হাজার ১ থেকে ৫ হাজার কর্মী। ৪৪ শতাংশ কারখানার কর্মী সংখ্যা পাঁচ হাজারের ওপরে।

প্রতিবেদনে পোশাক কারখানাগুলোর ওপরে করোনাভাইরাস মহামারীর প্রভাবও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে কভিডের সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে বলা হয়েছে। জরিপে অংশ নেয়া ২৪ শতাংশ কারখানা জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা কভিড-১৯ সংক্রমিত হয়েছে। কভিড পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসা পর্যন্ত এ কর্মীরা গড়ে ২৫ দিন পর পুনরায় কাজে ফিরে এসেছেন। জরিপে অংশ নেয়া ১৩ শতাংশ কারখানা জানিয়েছে, তারা কভিডের প্রভাবে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার প্রভাবে শ্রমিকদের কর্মচ্যুতির পদক্ষেপও গ্রহণ করতে হয়েছে।

ব্যবসা ও উৎপাদন পরিচালনায় কভিডের প্রভাব সম্পর্কেও জানিয়েছে জরিপে অংশ নেয়া কারখানাগুলো। তারা বলেছে, কিছু ক্রেতা ক্রয়াদেশ স্থগিত করায় উৎপাদন পিছিয়ে গেছে। আবার তৈরি হওয়া পণ্য অনেক দিন পর থাকায় গুদামজাত ব্যয়সংক্রান্ত ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। কিছু কারখানা বলেছে, উৎপাদন পুনরায় শুরুর পর নতুন লোকবল নিয়োগে তাদের বেগ পেতে হয়েছে। ৬ শতাংশ কারখানা জানিয়েছে, কভিডের প্রভাব থেকে পুনরুদ্ধারে তারা ব্যবসার নতুন কৌশল অবলম্বন ও সেগুলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে।

প্রতিবেদনে কভিড প্রেক্ষাপটে কারখানাগুলোর প্রধান প্রতিকূলতা বা চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ চক্রের নিরবচ্ছিন্নতা প্রসঙ্গে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কভিড-১৯ টেকসই ব্যবস্থাপনার ঘাটতিগুলো ফুটিয়ে তুলেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সম্ভাবনাও দেখিয়েছে। জরিপে অংশ নেয়া ২৭ শতাংশ কারখানা জানিয়েছে, নতুন করে সম্পদ বরাদ্দ দিতে হয়েছে কভিড মোকাবেলায়। টেকসই হওয়া সংক্রান্ত তথ্যের চ্যালেঞ্জের বিষয়েও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ টেকসই সংক্রান্ত ভাষা, প্রভাব, ঝুঁকি ও সম্ভাবনার মূল ধারায় নেই।

প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে আরো আছে প্রভাব পরিমাপ থেকে প্রভাব ব্যবস্থাপনায় সরে যাওয়া, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে অসচেতনতা এবং কাঠামোগতভাবে স্বল্প তারল্য। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, টেকসই হওয়ার চর্চাগুলোর গুরুত্ব অনুধাবন করলেও এ-সংক্রান্ত অর্থায়ন ও তারল্যের স্বল্পতা কারখানা কর্তৃপক্ষের জন্য প্রতিকূলতা সৃষ্টি করে। প্রতিবেদনে এসডিজির সূচকগুলো অর্জনে কারখানাগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত