প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শেরপুর সীমান্ত অঞ্চলে আদিবাসীদের জীবন-জীবিকা চলে অতি কষ্টে

তপু সরকার হারুন: আমি কতবার আমার আইডি কার্ড নিয়ে আজাদ চেয়ারম্যানের গেছি, একটিও সরকারী সাহায্য পায়নি । একটি বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা কোনটি পায়নি।

২৫মাচ্র্ বৃহ্সপ্রতিবার দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ী  পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পূব্র্ সমসচুড়া গ্রামের মৃত আদিবাসী নিকলাস সাংমার স্ত্রী লুচি সাংমা ৮৩ তার গাড়ো আঞ্চলিক ভাষায় বলেন,।

শেরপুরে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবর্দী  উপজেলার সীমান্তর্বতী বিস্তীর্ণ এলাকায় বাস করে পাহাড়ি আদিবাসী গারো সম্প্রদায়। মুসলমান, হিন্দু, কোচ, ডালু, বানাই, হদি ইত্যাদি সম্প্রদায়রে পাশাপাশি গারো সম্প্রদায়ের মানুষ ক্ষুধা আর দারিদ্রের সাথে লড়াই করে আজও বেঁচে আছে।

এদের অধিকাংশ পরিবারই বন থেকে জ্বালানী কাঠ সংগ্রহ আর অন্যরে বাড়িতে দিন মজুরী করে জীবিকা নির্বাহ করে। এটা করতে গিয়ে অনেকেই আগাম শ্রম বিক্রি করে সংসার চালায়।

শেরপুর জেলার নালতিাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবর্দী সীমান্তের কিছ পরিবার দারিদ্রের সাথে সংগ্রাম, বিশেষ করে দীর্ঘ দিন ধরে ঘন, ঘন বন্য হাতির আক্রমনের সাথে লড়াই করে এযাবত কালের বাপ-দাদার ভিটায় কোন বেলা খেয়ে আবার কোন বেলা না খেয়ে বেঁচে আছে। কেউ কেউ বন থেকে বাঁশের পাতা সংগ্রহ করে ঘর নির্মাণ করে আদি পুরুষদের আদি নিবাসে বসবাস করছে।

এখনো কিছু কিছু পরিবার বন থেকে লাকড়ী বা জ্বালানী কাঠ সংগ্রহ করে কিংবা পরের বাড়িতে দিন মজুরী করে সংসার চালাচ্ছনে।

কেউবা ক্ষুধা তাড়াবার জন্য বন থেকে মাটি খুড়ে গাছ আলু সংগ্রহ করে সিদ্ধ করে খাচ্ছেন। শেরপুরের নালিতাবাড়ী  পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পূব্র্ সমসচুড়া গ্রামের মৃত নিকলাস সাংমার স্ত্রী লুচি সাংমা ৮৩ বলেন, আমরা খুব কষ্ট করে দিনাতিপাত করছি । গত ২৫ বছর আগে আমার স্বামীর মৃত্যুর পর ৪ সন্তান রেখে যান। এখন হিমেন্দ্র সাংমা ৪০, বেনাদেক সাংমা ৩৮, জসিংতা সাংমা ও প্রিতিনা সাংমা । সহায় সম্পদ বলতে এক খন্ডজমিতে এই খুপড়ি ঘর । সন্তানেরা বিভিন্ন মজুরের কাজ করলেও তাদেরই দিন চলে না । বৃদ্ধা লুচি সাংমার ৮৩ বছর বয়স হলেও কথা বলেন খুব ষ্পষ্ট ভাষায় কথা বলেন।সে খুপরি ঘরে নায়নাতি সহ মিলে ১০ থাকেন । তিনি বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনা এতো কিছু দিলেও আমি এই আইডি কাড্র্ টি নিয়ে কতবার আজাদ চেয়ারম্যানের কাছে গেছি এখনো কোন সরকারী সাহায্য পাই না। একটি বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা কোনটি পায়নি ।

এখানকার আদিবাসীদরে জীবন দারদ্র্যি, ভূমি সমস্যা, বন মামলা, এবং বন্য হাতরি তান্ডবে বর্পিযস্ত হয়ে পড়েছে। সামাজকি বনায়নে অনেক দরিদ্র পরিবারকে অংশীদার বানানো হয়নি।

আদিবাসী নেতারা বলনে সরকার গারো আদিবাসীদরে দিকে ঠিক মতো নজর দেয়  না। শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি আদিবাসীরা বধিবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও অন্যান্য সরকারী সাহায্য সহযোগতিা প্রয়োজনরে তুলনায় খুব কমই পায়।

আদিবাসীদের সংগঠন ট্রাইবাল ওয়লে ফয়োর এসোসয়িসেন (টিডাব্লিইএ) সুত্রে জানা গেছে, ৩২৭.৬১ র্বগ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্টি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টি ইউনিয়নের ৭৪টি গ্রামের ৫শতাধিক পরিবারে প্রায় ২০ হাজার আদিবাসী সদস্য রয়েছে। এরা র্আথিক ভাবে দরিদ্র বিধায় প্রকৃতির বিভিন্ন প্রতিকুলতার সাথে লড়াই করে বসবাস করে আসছে।

আদিবাসীদের  সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক। মা-ই পরিবারের কর্তা ও সম্পত্তির অধিকারী এবং এক্ষেত্রে পিতা পরিবারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে। পরিবারের সন্তানসন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে। গারোদের প্রথাগত আইন অনুযায়ী পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী  মেয়েরা।  শুধুমাত্র নির্বাচিত মেয়েই সম্পত্তির মালিকানা অর্জন করে।  বর্তমানে মা-বাবা তাদের জীবিতাবস্থাতেই পুত্রসন্তানের নামে জমি লিখে দিচ্ছেন।

১৩টি দল ছাড়াও সমগ্র গারো সমাজ ৫টি গোত্রে বিভক্ত। গোত্রগুলো হচ্ছে: সাংমা, মারাক, মোমিন, শিরা ও আরেং। গারো সমাজে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন সম্পূর্ণরূপে অসবর্ণ প্রথা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। একই উপগোত্রের মধ্যে বিবাহ গারোসমাজে নিষিদ্ধ।

গারো নামটি তাদের মতে অপরের চাপিয়ে দেওয়া এবং শ্লেষাত্মক বিধায় গারোদের কাছে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মনে করেন ।

গারোদের প্রধান খাদ্য ভাত। ভাতের সঙ্গে মাছ, মাংস, ডাল ও শাকসবজি তারা আহার করে। শুঁটকি মাছ গারোদের অন্যতম প্রিয় খাদ্য।

আদিবাসীদের মতে, আজ থেকে ২শ বছর আগে সুদুর চীনরে তিব্বত প্রদেশ থেকে আদিবাসী গারো সম্প্রদায়ের আগমন। দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ২ লক্ষের ও বেশি গারো আদিবাসী বিভিন্ন সীমান্তর্বতী অঞ্চলে বাস করে।

আদিকাল থেকেই গারোরা শিকারী পেশায় খুবই দক্ষ ছিল। গারোদের অধিকাংশ পরিবার বনে জঙ্গলে বাস করে থাকে। এ সম্প্রদায়রে প্রধান ও পছন্দনীয় খাবার হলো ভাত ও শূকরের গোশত। পাশাপাশি ‘নাখাম’ বা শুটকি মাছ দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম প্রধান খাদ্য।

শূকরের গোশত পছন্দীয় খাবার হওয়ায় গারোরা নিজ উদ্যোগে শূকর পালন করে থাকে। কৃষিকাজে খুবই পারর্দশী তাই তারা পুরুষের পাশাপাশি কৃষিকাজে অংশগ্রহণ করে থাকে। তবে অভাবের তাড়নায় অনেক গারো আদিবাসী পরিবার আগাম শ্রম বিক্রি করে থাকে।

গারোরা সংস্কৃতি র্চচা ও অতিথি অপ্যায়নকে খুব পছন্দ করে থাকে। তারা মনে করে ‘সবোই পরম র্ধম’। প্রাচীনকালে গারোদরে শিক্ষার হার খুব কম ছিল। র্বতমানে প্রায়  অনেটায়  গারো আদিবাসীরা শিক্ষিত। তারপরও শিক্ষিতরা বাংলায় ও ইংরজেীতে কথা বলতে পারে। গারোরা খ্রীষ্টান র্ধমাবলম্বী হওয়ায় তাদরে প্রধান র্ধমীয় উৎসব এখন বড়দনি।

তাদের  বিয়ে-শাদীর ব্যপারে গারোরা নিজেদের পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। পাত্র-পাত্রীর পছন্দ অনুযায়ী  মিশনারী র্ধমযাযকরা বিয়ের রেজিষ্টেশন করে থাকেন। র্বতমানে গারোদরে পোষাক-পরিচ্ছেদেও আধুনকিতার ছোঁয়া।

লক্ষ্যকর যায়। ময়েরো দকবান্দা-দকশাড়ী ও সেলোয়ার কামিজ আর ছেলেরা র্শাট, প্যান্ট ও লুঙ্গি পরিধান করে। গারো নারীরা

নালতিাবাড়ী ও ঝনিাইগাতীর অবহেলিত গারো পাহাড়রের পাদদেশ প্রায় ১৫শত আদিবাসী পরিবার দারিদ্ররে সাথে লড়াই করে বেঁচে আছে। তারা চায় সরকারি সাহায্য ও সহযোগিতার পরিমান বাড়ানো হোক।

সর্বাধিক পঠিত