শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ, ২০২১, ০৬:৩৬ বিকাল
আপডেট : ২৩ মার্চ, ২০২১, ০৬:৩৬ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেচের পানির অভাবে ১০ সহস্রাধিক হেক্টর বোরো জমি ক্ষতিগ্রস্ত

তৌহিদুর রহমান : [২] আশুগঞ্জ-আখাউড়া চার লেন মহাসড়ক উন্নয়নের কাজ। এ কাজে সড়কে ব্যাসার্ধ বাড়াতে গিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে পানির প্রবাহ। কাজের প্রয়োজনে কখনো খালের দেয়া হচ্ছে বাঁধ। ফলে সেচ প্রকল্পে দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট। সবুজের ভরা মৌসমে জাফর খালে এখন গরু চড়ছে। লালচে হয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে অনেক জমি। বন্ধ হয়ে গেছে বিএডিসি’র অনুমোদিত অনেক সেচ পাম্প।

[৩] ফলে সরাইল উপজেলার চাষ করা ১০ সহস্রাধিক হেক্টর বোরো ধানের জমি এখন হুমকির মধ্যে পড়েছে। চিন্তায় ঘুম হারাম কৃষকদের। দিশেহারা কৃষকরা কখনো আসছেন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আবার পানির দাবিতে দাঁড়িয়ে পড়ছেন মহাসড়কে। এ বছর ধান না পাওয়ার চিন্তায় অনেক কৃষক চোখে মুখে শুধুই হতাশা।

[৪] বিএডিসি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আশুগঞ্জ থেকে সরাইলের বিশ্বরোড মোড় হয়ে আখাউড়া পর্যন্ত মহাসড়ক জুড়ে চার লেন উন্নয়নের কাজ চলছে। এ কাজের জন্য আশুগঞ্জ থেকে সরাইল পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কের পাশের খালের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি ভরাট হয়ে গেছে। কাজ শুরূর আগে ৩৫-৪০ ফুট প্রস্থে’র খাল দিয়ে পানি প্রবাহিত হতো। বর্তমানে ওই খালের প্রস্থ ৫-৬ ফুট। অনেক জায়গায় আরো কম। মাঝে মধ্যে বালু পড়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ।

[৫] সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পানিশ্বর, বিটঘর, বেড়তলা, নাইলা, সরাইল সদরের সৈয়দটুলা, কুট্টাপাড়া, চুন্টা ইউনিয়নের বড়বল্লা, রসুলপুর ও চুন্টায় পানি প্রবাহ অনেকাংশে কমে গেছে। প্রকল্পের প্রধান খালটি কুট্টাপাড়া এলাকার পর নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ (গোগদ) থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত একেবারে শুকিয়ে গেছে। খালের সাড়ে ৫ কিলোমিটার অংশে পানি নেই। সেখানে অন্তত ২০-২২টি সেচ পাম্প সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পাম্প বিকল হয়ে পড়ে আছে। ওইসব এলাকায় পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। পানি সংকটের কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে অগভীর সেচ পাম্প বসিয়েছেন। খাল ভরাটের কারণে সঠিক সময়ে কৃষকরা ধানের চারা রোপণ করতে পারেননি। সময়মত পাননি পানি। তাই এবার ধানের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

[৬] এখানকার কৃষকদের মুখে হাঁসি নেই। জমির আইল দিয়ে ঘুরছেন আর হা-হুতাশ করছেন। অনেকে জমির আশা ছেড়েই দিয়েছেন। শাহবাজপুর গ্রামের মাহফুজ মিয়া বলেন, সবসময় এই সময়ে এ খালে ৪-৫ ফুট উচ্চতার পানি থাকে। এবার শুকনা। ৭ কানি জমি চাষ করেছি। গত ১৭ দিন ধরে জমিতে পানি নাই। জমি ফেটে যাচ্ছে। সবুজের পানি আসছে না। ম্যানেজার সেলু মেশিন বসাইছে। তাতেও পানি পাচ্ছি না।

[৭] আরেক কৃষক রহিম হোসেন বলেন, আমরা কৃষকদের পানি দিতে পারছি না। গত ৪০-৪২ বছরের মধ্যে এমন সমস্যা হয়নি। স্কীমের অর্ধেকেরও বেশী জমি নষ্ট হওয়ার পথে। বিএডিসি’র আশুগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারি প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন, সরাইলে ৫৫০ কিউসেক পানির দরকার। খাল ভরাট হয়ে যাওয়াতে শুধু ১৫০ কিউসেক পানি দেয়া যাচ্ছে। ফলে কৃষকদের চাহিদামত পানি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। সম্পাদনা: সাদেক আলী

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়