শিরোনাম
◈ সংসদের প্রথম অধিবেশন কবে? যা জানাগেল ◈ জেলবন্দি ইমরানকে দু’বার সমঝোতার প্রস্তাব দেয়  সরকার! ফাঁস করলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, অস্বস্তিতে ইসলামাবাদ ◈ শরীরে আঘাতের চিহ্ন, সড়কে মিলল আওয়ামী লীগ নেত্রীর লাশ ◈ চল‌চ্চি‌ত্র শি‌ল্পের জন‌্য নতুন সরকারের কা‌ছে শাকিব খানের চাওয়া ◈ আমরা যদি পিছিয়ে থাকি, তাহলে বর্তমান বিশ্বে অন্যরা আমাদের প্রতি করুণার দৃষ্টিতে তাকাবে : বাণিজ্যমন্ত্রী ◈ যে কারণে ডিসি সারোয়ারকে আদালতের শোকজ হয়, যা জানা গেল ◈ এনআইডি আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ইসির জরুরি নির্দেশনা ◈ এবার ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিকদের জন্য সুখবর! ◈ ইরানে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার হুমকি ◈ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রং-তুলির ছোঁয়ায় প্রস্তুতির শেষ পর্যায়

প্রকাশিত : ০৫ মার্চ, ২০২১, ১০:৫৪ দুপুর
আপডেট : ০৫ মার্চ, ২০২১, ১০:৫৪ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] নীলফামারী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প

সোহেল রানা :[২] কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে নীলফামারীর মৃৎশিল্প। অধুনিকতার ছোঁয়ায় মৃৎশিল্পের জায়গা দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক, সিলভার বা মেলামাইনের তৈরি নানা রকম আধুনিক সামগ্রী। এসব পণ্য বাজার দখল করায় প্রাচীন ঐতিহ্য হারিয়েছে তার জৌলুস।

[৩] তবুও আশাহত হননি সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চওড়া চন্দ্রপাল পাড়ার মৃৎশিল্প কারিগররা। পূর্বের তৈজস পণ্যের চাহিদা একবারে কম। বেড়েছে কাঁচামালের দাম আগুনে পোড়াতে খরচ হচ্ছে দ্বিগুণ। আর মূলধনের অভাবে বিলুপ্তির পথে প্রাচীন এ ঐতিহ্য।

[৪] ইতিহাস ঐতিহ্যের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায় একসময়ের মৃৎশিল্পের কথা। আগে এখানকার মাটির তৈরি পণ্য দিয়ে বিভিন্ন জেলার তৈজসপণ্যের চাহিদা পূরণ হতো।

[৫] সময়ের বিবর্তনে কমে গেছে চাহিদা ও দিন দিন পেশা বদলিয়ে অন্য পেশায় যোগ দিচ্ছে কারিগড়রা। প্রতিদ্বন্দ্বী পণ্যের চেয়ে পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও পরবর্তী প্রজন্মকে নিয়ে দুচিন্তায় তারা। তবে সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বংশ পরম্পরায় বয়ে আসা হারানো প্রাচীন ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে পারবে বলে ধারনা মৃৎশিল্পিদের।

[৬] বাবা দাদার কাছ থেকে শেখা ৭০ বছরের সিন্ধুবালা রাণী পাল বলেন, এক সময়ে আমাদের তৈরি জিনিস খুব বিক্রি হতো। এখন আর আগের মতো হয় না। মাটির ও খড়ির দাম বেড়ে যাওয়া দিনের মজুরি তুলতে পারি না। এখন এই শেষ বয়সে পেটের দায়ে ক্ষতি হলেও এসব কাজ করতে। কিন্ত ছেলে-মেয়েদের নিয়ে চিন্তা হয়। আমাদের না হয় এভাবে দিন যাচ্ছে তার কি করে খাবে।

[৭] ৮০ বছর বয়সের লক্ষী চন্দ্র পাল বলেন, প্লাটিক, মেলামাইন, সিলভারের ও সিরামিক্সের তৈরি জিনিস পত্র বের হয়ে আমাদের মাটির তৈরি জিনিসের চাহিদা কমে গেছে। দিন মজুরি না হলেও পেট কোন রকমে চলে। করোনাকাল থেকে একদম ব্যবসা বন্ধ হয়ে আছে। কোন পাইকার আসে না আমাদের কাছে এমনকি আমরাও বাইরে বিক্রির জন্য নিতে পারি নাই। দিনগুলো অনেক কষ্টে পার করতে। আর খরচ বাড়ায় সুদে টাকা নিয়ে কাজ করতে হয়। এতে আবার বেশি ক্ষতি। সরকার বা কোন সংস্থা যদি সাহায্য করতো আমাদের জন্য এ শিল্পটাকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হতো।

[৮] জেলা সমবায় অফিসার আব্দুস সবুর বলেন, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে নিয়ে কাজ করে জেলা সমবায় অফিস। তেমনি মৃৎশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন প্রশিক্ষনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁজির সমন্বয়ে একটা বড় ধরনের সমিতি গঠন করে দেয়ার চিন্তা ভাবনা চলছে। সম্পাদনা: মুরাদ হাসান

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়