প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নূরী জাহানারা: আসুন, শুদ্ধ উচ্চারণ আন্দোলন শুরু করি, শুদ্ধ উচ্চারণে বাংলা বলি

নূরী জাহানারা: আসুন, শুদ্ধ উচ্চারণ আন্দোলন শুরু করি। যদি দু’দুটো ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণের জন্য এখনও লড়তে পারি তো মায়ের ভাষার উচ্চারণ নিয়ে পারবো না কেন? জনান্তিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে মোটামুটি শুদ্ধ বাংলা বলতে পারতাম। আমি বরিশাইল্যা এবং নোয়াখাইল্যার শঙ্কর। কিন্তু এই দুই আঞ্চলিক ভাষার কোনোটিই ঠিক বলি না, বরং সাহিত্যের ভাষায় কথা বলি এই খবর শুনে এক গুন্ডা টাইপের মেয়ে পেছনে লেগে গেলো। আমাকে দেখলেই ভ্যাংচায়, ওই যে আইছে, রবীন্দ্রণাথের ভাষায় কথা কয়, কও দি হেই য়া মনু ... আমার এক সিলেটি বোন ছিলো তখন।

বোনের নাম উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে  গুন্ডিটা বলতো; ও ওই যে বালুবাসি বালুবাসি- আবার রবীন্দ্র-সঙ্গীত, যাই কই। ওর লগে এতো যে পোলার খাতির ওগলার লগে কী ভাষায় কথা কয় তোমার বইন? সিলডি না বাংলা। সিলেটিও একধরণের বাংলাই এটা তাকে বুঝাতে বেগ পেতে হতো আমাকে। ডায়লগ শুনেই নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন আপনারা, কী জাতের গুন্ডা ছিলো সে। একবার এক নেত্রী তারে চুমা খাওয়ায় কষে তাকে চড় কষিয়েছিলো। এই কন্যাটার ভাইয়ের প্রেমে পড়ার কথা ছিলো আমার, কিন্তু আমি কইন্যাটার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। সে আরেক ট্রাজেডি। এই মেয়ের হাসি ঠাট্টার কারণে আমার বহু যত্নে চর্চিত রাবীন্দ্রিক বাক্যবন্ধ ছুটে গিয়ে- লোকজ রূপ নেয়। একা ওর দোষই বা দিই কী করে! আসলে অনেকেই আমার ভাষা নিয়ে ঠাট্টা করতো। তাদের মধ্যে আজ যে সব পণ্ডিতন্মন্য প্রিয়জন ভাষার মর্যাদা নিয়ে গুরুগম্ভীর  প্রবন্ধ লেখেন তাদেরও কেউ কেউ আছেন।

শিক্ষকদের একজন তো বলেই বসলো, তুমি বরিশালের, তা তোমার ভাষা কেন বরিশালের নয়? আরেকজন হাসতে হাসতে বলেছিলো এমনকি নোয়াখালীর ভাষাও তো তোমার ভাষা নয়। এটা কি করে হলো? আমি বলেছিলাম, স্যার ছোটবেলা থেকেই আমি কথা কম বলি। চার বছর বয়সে ‘র’বলতে না পারার জন্য বড়ো ভাই মাথায় একটা মোক্ষম চাটি মেরেছিলো। তার ভয়ে সারাক্ষণ বইয়ের ভেতর থাকতাম। সে কারণেই বুঝি বা আমার অ কার আকার, ছ কিম্বা স খুব একটা দূষিত হয়নি। প ফ নিয়েও সমস্যা নেই। বহু মানুষের হাসির উৎস হতে পারাটা আমার জীবনের এক পরম সার্থকতা। আসুন শুদ্ধ উচ্চারণে বাংলা বলি। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত