প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বগুড়ার ধুনটে ১০ হেক্টর জমিতে কুলচাষ

আব্দুল ওয়াদুদ : [২] চলতি মৌসুমে উপজেলার জুড়ে গত বছরের তুলনায় ৩ হেক্টর বেশি জমিতে বল সুন্দরী, কাশ্মীর, আপেল কুলসহ নান জাতের কুল চাষ হচ্ছে। যা গত বছর চাষ হয়েছে ৭ হেক্টর জমিতে। কাঁচা-পাকা ফলে ভরা মাটিতে নুইয়ে পড়া বরই বাগান চোখ জুড়ানো এক অপরূপ দৃশ্য। বাগানের কাঁচা-পাকা কুল দেখে মুগ্ধ হবে না এমন মানুষ খুব কমই মেলে। কুল চাষ করে উপজেলার অনেক প্রান্তিক কৃষকেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন। অনেকের সংসারের অর্থনৈতিক চাকা সচল হতে বড় ভূমিকা রাখছে বিভিন্ন জাতের বরই চাষ।

[৩] উপজেলার বিভিন্ন বরই বাগান ঘুরে দেখা গেছে, ধুনট উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে কালেরপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম এলাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশ বেষ্টিত হেউটনগর কদলা পাড়া গ্রাম।

[৪] ওই গ্রামের মৃত মজিবর রহমান সাকিদারের ছেলে আব্দুল করিম সাকিদার ২০০২ সালে বগুড়া জেলার শেরপুর শহীদিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল পাশ করে। চাকরি না পাওয়ায় তিনি সংসারের প্রয়োজনে কৃষি কাজে যুক্ত হন। দির্ঘ বেকার জীবনে প্রায় ৫ বছর আগে পরীক্ষামূলক তার নিজ জমিতে বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা চাষ করে।

[৫] পরবর্তীতে তিনি পেয়ারা চাষের পাশাপাশি শুরু করেন বরই চাষ। আব্দুল করিম বর্তমানে ৩৩ শতাংশ জমিতে বরই চাষের পাশাপাশি কিছু পেয়ারা, আম ও লেবুর চাষও শুরু করেন। তার জমি হতে উৎপাদিত এসব বরই জেলা ছাড়িয়ে চলে যায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। এলাকার দরিদ্র পরিবারের লোকজন বাগানে বরই সংগ্রহের খণ্ডকালীন কাজ করে সংসার চালানোর পাশাপাশি পরিবারের মৌসুমি ফলের চাহিদাও মিটিয়ে থাকেন।

[৬] বথুয়াবাড়ী গ্রামের কুলচাষি রায়হান, ইমরানসহ অনেকে জানান, আমাদের এখানে প্রায় ৪৪-৪৫ বিঘা জমিতে আপেল কুল জাতের বরই চাষ করা হয়েছে। এতে প্রতি বিঘা জমিতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বরই চাষে খরচ হয়েছে।

[৭] চলতি মৌসুমে প্রতি মন বরই বিক্রি করা হচ্ছে ১৩০০-১৩৫০ টাকা। দাম ভালো থাকলে অনেক টা লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধুনট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে ১০ হেক্টর জমিতে বরই চাষ হচ্ছে। যা গত বছরের চেয়ে ৩ হেক্টর বেশি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিদুল হক জানান, গত বছরের চেয়ে ৩ হেক্টর জমি বৃদ্ধি পেয়ে ১০ হেক্টর জমিতে বরই চাষ হচ্ছে। চাষিরা কৃষি অফিসে এসে নানা ধরনের পরামর্শ নিয়ে বরই চাষ করছেন। সম্পাদনা : মুরাদ হাসান

 

সর্বাধিক পঠিত