প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের জন্য স্বাধীন তদন্ত কমিশন চেয়ে রিট

নূর মোহাম্মদ : [২]সুপ্রিম কোর্টের ১০২ জন আইনজীবীর পক্ষে মোহাম্মদ শিশির মনির রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন  অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি, অবসরপ্রাপ্ত সচিব, আইনের শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এ কমিটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতামত আদালতে দাখিল করবেন। আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শককে আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে।

[৩] আইনজীবী শিশির মনির বলেন,  রিটে আটটি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী গঠনের উদ্দেশ্য, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান, পুলিশের গৌরবময় অর্জনের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তাদের শৃঙ্খলা বিধানের বর্তমান আইনি কাঠামোর বিষয়ে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে পুলিশ সদস্যদের করা অপরাধ ও অসদাচরণের বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

 [৪] ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ৫৮৯টি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে আবেদনে। শিশির মনির বলেন, ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পুলিশ বাহিনীর একটি অংশ বিচার বহির্ভূত হত্যা,  হেফাজতে মৃত্যু,  হেফাজতে নির্যাতন,  গুম, খুন, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়,

 [৫] মারধর, হুমকি ও হয়রানি, ধর্ষণ, ইভটিজিং ও নারী নির্যাতন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও লুটপাট, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, জমি দখল ও সম্পত্তি বিনষ্টকরণ, মাদক ব্যবসা, মাদক আত্মসাৎ, আটক বাণিজ্য; অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া, মামলা নিতে গড়িমসি ও মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া, মিথ্যা ও পাল্টা মামলা দিয়ে হয়রানি, তদন্তে গাফিলতি, হয়রানি ও ঘুষ গ্রহণ, সাংবাদিক নির্যাতন, কর্তব্যে অবহেলা, সাক্ষ্য-প্রমাণ নষ্ট

 [৬] করা ও আসামিদের নাম বাদ দেওয়া এবং নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতিতে দুর্নীতিসহ মোট ১৮ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।শিশির মনির আরও  বলেন, তদন্ত হলো বিচারের প্রাথমিক ধাপ। ন্যায়বিচারের জন্য প্রধান শর্ত হলো সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত। সুষ্ঠু তদন্ত সংবিধানের ৩৫(৩) ও ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যক্তির মৌলিক অধিকার। বর্তমান আইনি কাঠামোতে পুলিশের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপরই ন্যস্ত। ফলে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে ২০০৭ সালে ‘পুলিশ অধ্যাদেশ নামে একটি আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়। প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের ৭১ দফায় ‘পুলিশ কমপ্লেইন্ট কমিশন গঠনের বিধান প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু সেই খসড়া অধ্যাদেশ আজও আইনে পরিণত হয়নি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত