শিরোনাম
◈ নতুন মার্কিন বাণিজ্য নীতি: বাংলাদেশের রপ্তানিতে মারাত্মক হুমকি ◈ গুরুতর আহত মোজতবা খামেনি, গোপনে মস্কোতে অস্ত্রোপচার—আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি ◈ সৌদির সাড়ে ৭০০ মাইলের পাইপলাইন কি হরমুজ প্রণালির বিকল্প হতে পারবে ◈ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ কীভাবে কোটি মানুষের খাদ্য সংকট ডেকে আনতে পারে: আরটি’র রিপোর্ট ◈ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন বাণিজ্য জোটে বাংলাদেশের নজর ◈ সি‌রিজ জ‌য়ে আন‌ন্দিত ত‌বে শেষ ওভা‌রে ১৪ রান লাগ‌বে ব‌লে ভ‌য়ে ছিলাম: মিরাজ ◈ ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা বাড়ালো কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সর্বোচ্চ মিলবে ৪০ লাখ টাকা ◈ তানজিদের সেঞ্চুরি, তাসকিনের ঝলক—পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় ◈ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এলোপাতাড়ি গুলি, একজন আহত ◈ প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সেজিল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইরান

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ০৪:৩৭ সকাল
আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ০৪:৩৭ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হেলাল মহিউদ্দীন: নিজের ভাষাকে ছোট করার দাস-মনোবৃত্তি আর আত্মমর্যাদাটুকু খুইয়ে দেবার নির্লজ্জতাটি পরিহার করুন

হেলাল মহিউদ্দীন: কানাডা-আমেরিকায় এসে কিছু বাংলাদেশি ‘বাংলাদেশ’কে বলে ‘বেংলাড্যাশ’! বিশেষত বিদেশিদের সামনে পরিচয় দেবার সময়। কারণ অজানা। যদি জিজ্ঞেস করা হয় ‘আপনার দেশ?’উত্তর আসে বরিশাল, পইট্যাখালি, অংপুর, সিলট ইত্যাদি। তখন যদি স্পষ্ট করে বলা হয়-না রে ভাই, আসলে জিজ্ঞেস করছিলাম আপনার ন্যাশনালিটি/দেশ কী ভারত, আপনি পশ্চিমবঙ্গের না বাংলাদেশের’, তখন তাঁরা খুব রেগে যান। কেন রাগেন কারণ অজানা!

ভারতীয়, পাকিস্তানি বা শ্রীলংকানদের দেখলেই আমার সোনার বাংলার বাংলাদেশিগণ আগ বাড়িয়ে ফটাফট চোস্ত হিন্দি-উর্দুতে কথা বলতে থাকেন। কারণ এখনো অজানা! এতোসব অজানা কারণের ফলাফল অবশ্য বেশ জানা হয়েছে। ভারতীয়রা বাংলাদেশি দেখলেই হিন্দিতে কথা বলতে শুরু করে। তাদের ভাবসাবই এমন যেন বাংলাদেশি হয়ে হিন্দি বলতে বা বুঝতে না পারা মহাপাপ! যখনই বলি ইংরেজিতে বলুন প্লিজ, তাঁরা রীতিমতো রেগে যান। খেঁকিয়ে ওঠেন- ‘কী? হিন্দি বলোনা, বুঝতে পারো না মানে? বাংলাদেশি হয়ে হিন্দি জানো না মানে? বাংলাদেশের সবাই তো হিন্দি জানে!’ অনেকে সীমাও লঙ্ঘন করে বসেন। বলে বসেন-হিন্দি সিনেমা তো দ্যাখো, তো হিন্দিটা শিখেই নাও না কেন! এসব হিন্দিভাষীরা নিজেরাই কিন্তু স্বদেশের মাদ্রাজি, তেলুগু, মালায়ালিদের সঙ্গে ইংরেজিতে অথবা মাদ্রাজি, তেলুগু, মালায়ালিতে কথা বলে।  কারণ, মাদ্রাজি, তেলুগু, মালায়ালিরা নিজ ভাষার মর্যাদা কখনোই বিকিয়ে দেয় না।

মাঝে মাঝে মনে হয় যদি এয়ারপোর্টে গিয়ে বসে থাকতে পারতাম। প্লেন হতে বাংলাদেশি কেউ নামার সঙ্গে সঙ্গে হাতে-পায়ে ধরে বলতে পারতাম-ভাইগো বোনগো, যা-ই করেন না করেন ‘বাংলাদেশ’কে ‘বেংলাড্যাশ’ কইয়্যেন না; সাউথ এশীয় দেখলেই হিন্দি ভাষায় আপনার/আপনাদের অগাধ সুপান্ডিত্য দেখাতে যাইয়্যেন না। আপনি/আপনারা তো জন্ম-জন্মান্তর উনাদের চাকরের বাইচ্চা-কাইচ্চা-ছাপোনা দাস-দসানুদাস নন!

এয়ারপোর্টে গিয়ে বসে থাকা যেহেতু সম্ভব নয়, ফেসবুকের মাধ্যমেই বরং সবার হাতে-পায়ে ধরে বলি- আপনাদের আশেপাশের সকলকে সতর্ক করুন, নিজেরাও সতর্ক থাকুন। সব ভাষাকে সমান সম্মান করুন, মর্যাদা দিন। কিন্তু নিজের ভাষাকে ছোট করার দাস-মনোবৃত্তি আর আত্মমর্যাদাটুকু খুইয়ে দেবার নির্লজ্জতাটি পরিহার করুন। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়