প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]জ্ঞানের ভুবন বায়তুল হিকমাহ

ইসলামি ডেস্ক:  মধ্যযুগে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বইয়ের ভাণ্ডার ছিল বাগদাদের বায়তুল হিকমাহ বা হাউজ অব উইজডম। বিশ্বের তাবৎ পণ্ডিতকে এখানে আমন্ত্রণ জানানো হতো। বিজ্ঞান চর্চার মহামিলনক্ষেত্র ছিল এটি। গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, রসায়ন, প্রাণিবিদ্যা, ভূগোল ও মানচিত্র অঙ্কনবিদ্যা বেশি চর্চা হতো এখানে। ভারতীয়, গ্রিক ও পারস্যের অমূল্য গ্রন্থ সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়া হতো। সংগ্রহের পর সেগুলো অধ্যয়ন ও আলোচনা চলত দিনের পর দিন। অনুবাদ করার কাজও চলত সমানতালে।

প্রায় দেড় শ বছর ধরে বায়তুল হিকমাহতে গ্রিক ও সংস্কৃত ভাষার নানা বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক গ্রন্থ আরবিতে অনুবাদের কাজ চলে। পিথাগোরাস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল, হিপোক্রিটাস, ইউক্লিড, চরক, আর্যভট্ট বা ব্রহ্মগুপ্তের লেখা অনুবাদ করা হয়েছে। বায়তুল হিকমাহর পণ্ডিতরা আবিষ্কারে উৎসাহী ছিলেন। তারা প্রাচীন লেখাগুলো বোঝার সুবিধার্থে টীকা-টিপ্পনী যোগ করতেন। ব্যাখ্যা হাজির করতেন। অনেক ক্ষেত্রে শিরোনাম ও পরিভাষাও বদল করেছেন।

মৌলিক গবেষণার কাজও চলত হিকমায়। বিশেষ করে হিকমাহর গণিতবিদরা খুব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। গণিতবিদরা এখানে বীজগণিতের চর্চা করেন। বেশ কিছু অ্যালগরিদম তৈরি করেন হিকমাহর গণিতবিদরা। আলোকবিজ্ঞানের নতুন নতুন জ্ঞানও অর্জিত হয় হিকমায়।

পৃথিবীর সর্বপ্রাচীন প্রোগ্রামড-মেশিনের নমুনা তৈরি হয়েছিল এখানেই। সেটি ছিল একটি স্বয়ংক্রিয় খেলনাযন্ত্র। চোখের রোগ নিয়ে হিকমাহর বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ কাজ রেখে গেছেন। তারা অস্ত্রোপচার ও রোগ সংক্রমণ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করে গেছেন। আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুনের আমলে বাগদাদে প্রথম মানমন্দির নির্মিত হয়। হিকমাহর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা টলেমীয় মডেল পরীক্ষা করে দেখতে চেয়েছিলেন। পৃথিবীর প্রথম বিস্তৃত মানচিত্র তৈরি হয় হিকমায়।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত