প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কোরআনের আলোকে কথা বলার শিষ্টাচার

মুফতি সাইফুল ইসলাম: পৃথিবীতে মানুষ যত বিপদের সম্মুখীন হয়, তার বেশির ভাগ কথার সঙ্গে সম্পৃক্ত। পাশাপাশি এর পরকালীন অনিষ্ট তো আছেই। তথাপি একজন সামাজিক জীব হিসেবে মানুষকে কথা তো বলতেই হবে। নিজের প্রয়োজন যেমন তাকে অন্যের কাছে ব্যক্ত করতে হয়, তেমনি অন্যের প্রয়োজনেও তাকে এগিয়ে আসতে হয়। এ ক্ষেত্রে কথা বলার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু কথা বলার ক্ষেত্রেও মুমিনকে কিছু আদব-কায়দা বা শিষ্টাচার মেনে চলার নির্দেশনা পবিত্র কোরআন দিয়ে রেখেছে। বক্ষমাণ নিবন্ধে কথা বলার শিষ্টাচার নিয়ে পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা আলোচনা করার প্রয়াস চালাব, ইনশাআল্লাহ।

এক. কথা বলার আগে সালাম দেওয়া : ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তোমরা কোনো ঘরে প্রবেশ করবে তখন তোমরা পরস্পরের প্রতি সালাম করবে অভিবাদনস্বরূপ, যা আল্লাহর কাছ থেকে কল্যাণময় ও পবিত্র।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৬১)

দুই. কথাবার্তায় সতর্ক হওয়া : মানুষের প্রতিটি কথা রেকর্ড হয়। সুরা কাফ-এর ১৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘সে যে কথাই উচ্চারণ করে তার কাছে সদা সংরক্ষণকারী উপস্থিত রয়েছে।’

তাই সদা উত্তম কথা বলা এবং কারো সঙ্গে কথাবার্তা উত্তম বিষয়ে হওয়া উচিত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে লোক আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০১৮)

তিন. সুন্দরভাবে ও উত্তমরূপে কথা বলা : সুরা বাকারার ৮৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘…তোমরা মানুষের সঙ্গে সদালাপ করবে।’

চার. কণ্ঠস্বর নিচু করে কথা বলা : সুরা লোকমানের ১৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর তুমি তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো; নিশ্চয়ই কণ্ঠস্বরের মধ্যে গর্দভের সুরই সবচেয়ে অপ্রীতিকর।’ অর্থাৎ তোমাদের স্বর ক্ষীণ করো, প্রয়োজনাতিরিক্ত উচ্চ কোরো না। আর চতুষ্পদ জন্তুসমূহের মধ্যে বিকট ও শ্রুতিকটু শব্দওয়ালা গাধার চিৎকারের মতো করে কথা বলো না। (তাফসিরে ইবনে কাসির)

পাঁচ. সঠিক কথা বলা : সুরা আহজাবের ৭০ ও ৭১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো; তাহলে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন।’

ছয়. নম্র কথায় শত্রুকে মোকাবেলা করা : সুরা হা-মিম সাজদাহর ৩৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর ভালো ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দ প্রতিহত করো তা দিয়ে যা উত্কৃষ্ট; ফলে তোমার ও যার মধ্যে শত্রুতা আছে, সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো।’

সাত. কথা ও কাজের মিল থাকা : সুরা সফ-এর ২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা যা করো না, তা তোমরা কেন বল?’

আট. মূর্খ ও অজ্ঞদের এড়িয়ে চলা : সুরা ফোরকানের ৬৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘এবং রহমানের বান্দা তারাই,…যখন মূর্খ লোকেরা তাদের (অশালীন ভাষায়) সম্বোধন করে, তখন তারা বলে, সালাম।’

আসুন, আমরা জীবনে চলার পথের প্রতিটি ধাপে পবিত্র কোরআনের আলোকে নিজের আচার-আচরণ ও কথামালা সাজাই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও মুহাদ্দিস

সূত্র : কালের কণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত