প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুয়ার স্পিরিট

ডেস্ক রিপোর্ট : মৃত ব্যক্তির জন্য জানাযার নামাজ আমরা যেভাবে পড়ি তাতে সামান্য কিছু মতপার্থক্য আছে। কেউ প্রথমে সানা পাঠ করে তারপর আল্লাহ্‌র নবীর (সা.) দুরূদ পাঠ করেন। আবার কেউ প্রথমে সূরা ফাতিহা পাঠ করে তারপর দুরূদ পাঠ করেন। এরপর সবাই দুয়া করেন যে দুয়ায় প্রধানত মৃতের মাগফেরাতের দুয়া করা হয়।

জানাযার নামাজের এই সিকোয়েন্স আমাদের দুয়ার বেসিক আদব শেখায়। আমাদের প্রিয় যে ব্যক্তিটি মারা গেছেন তার জন্য নিশ্চিত করেই আমরা চাইবো আল্লাহ্‌ যেন তাকে মাফ করে দেন এবং তাকে জান্নাতবাসী করেন। মৃতের জন্য বিবেকবান কোনো ব্যক্তির দুয়ায় খাদ থাকে না।

তাই সেই দুয়ার শুরুতে আমরা প্রথমে সানা পাঠ করি অথবা সূরা ফাতিহা পাঠ করি। দুটিরই মূল উদ্দেশ্য যার কাছে দুয়া করা হচ্ছে তার প্রশংসা ও স্তুতি বর্ণনা করা। দুয়ার শুরুতে যিনি দুয়ার মালিক তার বড়ত্ব ঘোষণা করা দুয়ার প্রথম আদব।
অতঃপর আমরা নবীর জন্য দুরূদ পেশ করি। যে নবীর মাধ্যমে আল্লাহ্‌ আমাদের হিদায়াত দিয়েছেন সেই নবী (সা.) যে কোনো দুয়ার চেয়েও বড় দুয়ার পাত্র হওয়া উচিৎ। তার প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করার মাধ্যমে আমরা আল্লাহ্‌ ও নবীর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।

জানাযার নামাজের গুরুত্ব অনুসারে এ নামাজে এ দুটি আদবকে মেনে চলাটা নিয়ম করে দেয়া হয়েছে। আমাদের উচিৎ নিয়মের পেছনের কারণটি বুঝে সেটার স্পিরিট নিজেদের জীবনে নিয়ে আসা। বিশেষ করে আমাদের সকল দুয়া বা প্রার্থনা যেন এ দুটি আদবকে সামনে রেখেই করা হয়। যখনই দুয়া করবো তখনই আগে আমরা প্রথমে প্রশংসা করবো এবং তারপর আল্লাহ্‌র নবীর (সা.) দুরূদ পেশ করবো।

এ দুটি কাজ করার বহু পদ্ধতি আছে। মাসনূন ভাবে করতে পারেন সূরা ফাতিহা বা সানা পড়লেন আল্লাহ্‌র প্রশংসা করার জন্য। আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর যে দুরূদ ইবরাহীম পাঠ করেন সেটা পড়তে পারেন যে কোনো দুয়ার আগে। দুয়ার বই ঘেঁটে অন্যান্য ধরণ শিখতে পারেন। নিজের ভাষায় করতে পারেন।

কিন্তু টেকনিকালিটি নিয়ে বেশি ভেবে মূল কাজের স্পিরিট ও আকুতিকে ভুলে যাবেন না। যেমনটা আমরা জানাযার নামাজেও করি তাই নয়া! কীভাবে জানাযার নামাজ পড়তে হয় সেটার টেকনিকাল দিকটা নিয়ে আমাদের যত মাথাব্যাথা, কী করছি কেন করছি সেটা নিয়ে ভাবি কি? যেন আল্লাহ্‌ এক আল্লাহ্‌ এক অদ্ভুত খোদা যিনি তার নিজের সৃষ্টি করা মানুষের আবেগ অনুভূতির কোনো তোয়াক্কা করেন না আর যার নিজের চাহিদা হচ্ছে কিছু বিজাতীয় শ্লোক ও রীতি রেয়াজের অজানা মিশেল।

আল্লাহ্‌ কী এমন নাকি আমরা আমাদের সামষ্টিক ধর্মহীনতা ও মনের অনুপস্থিতি দিয়ে আল্লাহ্‌র এমন একটি প্রতিফলন নিজেদের মনে তৈরি করে নিয়েছি? ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক ভাবে আমাদের উচিৎ এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসা।
পদ্ধতি ঠিক থাকার দরকার রয়েছে – আর পদ্ধতিও আল্লাহ্‌র তরফ ঠেকে পাঠানো বান্দার জন্য একটি উপহারই – যে বান্দার নিজের ঠিক করতে হয় না কী করে সে আল্লাহ্‌র কাছে চাইবে। কখনও ভেবে দেখেছেন যিনি আপনাকে বলে দিয়েছেন কীভাবে চাইতে হবে তার কাছে – তিনি নিজে সেই চাহিদা পূরণ করার ব্যাপারে কতটা উদ্গ্রীব। অথচ আমরা নামাজকে একটি কষ্টের কাজ মনে করি।

কিন্তু একই সাথে আল্লাহ্‌ কি কেবল কাঠামো ও পদ্ধতিই চেয়েছেন বান্দার কাছে – যে বান্দার মনে ব্যাপারটির গভীরতার কোনো ধারণা নেই, নেই কোনো আকুতি? ভালোবাসার মানুষটির সাথে দেখা করার জন্যও তো মানুষ সাজগোজ করে, সে কি চায় তার খোঁজ রাখে, এবং দেখা করার ব্যাপারে সময়ানুবর্তীও থাকে। কিন্তু যে ব্যক্তি বাহ্যিক ভাবে এগুলো ঠিক রাখে কিন্তু যার মনে কোনো ফিলিংস নেই – সেটাকে কেউই ভালোবাসা বলে না।

[এই স্ট্যাটাসের মূল উদ্দেশ্য আশা করি বুঝতে পারছেন। টেকনিকাল প্রশ্ন যেমন জানাযার নামাজ কীভাবে পড়তে হয় তার ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন করে দয়া করে স্ট্যাটাসটির মূল দ্যোতনার ব্যাঘাত ঘটাবেন না।]
আল্লাহ্‌ আপনার ভালোবাসা চান – এটা আল্লাহ্‌ কুরআন ও তার নবীর (সা.) মাধ্যমে বহুবার জানিয়েছেন।
সূত্র- আসিফ সিবগাত ভুঁইয়া

দুয়ার স্পিরিট
————–

মৃত ব্যক্তির জন্য জানাযার নামাজ আমরা যেভাবে পড়ি তাতে সামান্য কিছু মতপার্থক্য আছে। কেউ…

Posted by Asif Shibgat Bhuiyan on Wednesday, February 17, 2021

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত