প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শুধু বসন্তে নয়- ফুল ফুটবে সারা বছর, দেশে দেশে

  • ঊষর মরুর ধূসর বুকেও জন্মাবে চারা, গাছ

ডেস্ক রিপোর্ট: শুধু ফাল্গুন নয় ভর বছর ফুল ফুটবে, বলছেন বিজ্ঞানীরা। ফুল ফোটানো যাবে ঊষর মরুর ধূসর বুকের দেশেও। বছর কয়েক আগে রাজশাহী ও বগুড়ায় এ্যাডেনিয়াম নামের যে ফুল ফুটেছে তা পরিচিতি পেয়েছে মরু গোলাপ নামে। প্রাচীনকাল সাক্ষ্য দেয় : দিগি¦জয়ী বীর নেপোলিয়ান রাজ্য জয় করে যেখানে ফুল ফুটতো না সেখানেও ফুল ফুটিয়েছেন। বলেছেন যে ভূমিতে ফুল ফোটে না সেখানে মানুষ বাস করতে পারে না। বাঙালী কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতার পঙক্তি ‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত’ উপমা হয়ে আছে। ঋতু রাজের ঋতু রানী ফাল্গুনে অবগুণ্ঠন খুলে তো ফুল ফোটাবেই! বাকি সময়ও ফুল ফুটবে।

বসন্তের ফুলের এই প্রকৃতি আর থাকছে না। ঘটছে পালাবদল। উদ্ভিদ ডিএনএর বিশেষ ধরনের প্রোটিন ফুল ফোটাবেই। নার্সারির মালিকরা দেশে অনেক ধরনের ফুল ফুটিয়েছেন। যেমন গ্লাডিওলাস। এই ফুলের গন্ধ নেই। ফুলের তোড়া (বুকে) বানাতে গ্লাডিওলাসের সৌন্দর্যের মোড়কে গোলাপ রজনীগন্ধা গাঁদা ও অন্যান্য ফুল ভরে দেয়া হয়। বিশেষ দিন, অভিষেক ফেয়ারওয়েল, সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে ফুলের কদর আছে। প্রনয়ে ফুলের ভালবাসা আদিকালের। মিসরে অনেক মমির পাশে ঝরা ফুল পাওয়া যায় আজও। প্রেম থাকবে আর ফুল থাকবে না তা কী হয়।

দেশে ভর বছর কোন না ফুল ফুটছে তার বড় প্রমাণ বনফুল। গ্রামের পথে প্রান্তরে ঝাউবনে নদী তীরে অনাদরে কত ফুল ফুটে ঝরে যায় তার খবর রাখে ক’জনা! বর্ষায় নদী তীরের কোন ছোট বনের ধার দিয়ে হাঁটলে দূর থেকে ভেসে আসে কেয়া কামিনী ফুলের সুবাস। এই ফুলগুলো আমরা সহজে দেখি না। জবা ফুলের অনেক জাত। শুধু লাল জবা চিনি। মহুয়া ফুল এখন শুধু কাব্যে। মহুয়া বৃক্ষে কুঠারের কোপ পড়ে। কাঁঠালচাঁপা ফুল কোথায় ফুটছে জানা যায় না। এমনই বহু ফুল এই দেশেই ফুটছে ভর বছর। নার্সারি মালিকগণ হাতে গোনা কয়েকটি ফুল নিয়েই পড়ে আছেন। ফুলের গবেষণা করছেন উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞানীগণ কয়েকটি দেশের সঙ্গে গবেষণা করে ফুল ফোটার নতুন তথ্য ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। যেমন পাখিরা শীত প্রধান এলাকা থেকে উড়ে কম শীতের এলাকায় পরিযায়ী হয়। উদ্ভিদ অন্যস্থানে যেতে পারে না। এরা পরিবেশগত চাপ সামলে ঋতু অনুযায়ী শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া প্রকৃতি থেকেই সম্পন্ন করে। ডিএনএ এই পরিবর্তনের এপিজেনেটিকস কাজ করে। উদ্ভিদের জেনেটিকস বিষয়গুলো ফুল ফুটতে বেশি গুরুত্ব বহন করে। জেনেটিকস গুণাবলির পরিবর্তনে একই ফুলের ভিন্ন রং হয়। যেমন গোলাপের কয়েকটি রং মেলে- লাল গোলাপি সাদা হলদেটে এবং কালো। বসন্তে লাল গোলাপের দেখা মেলে বেশি। বাকি রঙের গোলাপ ফোটে বছরের বিভিন্ন সময়ে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যে গাছে সময়ের আগেই ফুল ফোটে সেখানে প্রজননে ঝুঁকি থাকে। অনেকটা গাইনির ‘মিস ক্যরেজের’ মতো। এক্ষেত্রে উদ্ভিদই জিন পরিবর্তনের কৌশল তৈরি করেছে। যা ওই ফুল ফোটানোর সময় নিয়ন্ত্রণ করে। উদ্ভিদ বিজ্ঞানী জসীম উদ্দিন লিখেছেন, গাছের কোষে উৎপন্ন জৈব রাসায়নিক পদার্থ নিজে পরিবর্তিত না হয়ে অন্য পদার্থের পরিবর্তন ঘটিয়ে ক্যাটলিস্ট (অনুঘটক) হয়ে ফুল ফোটায়। এই এনজাইম প্রক্রিয়া সক্রিয় হয় বিশেষ তাপমাত্রায়। ফলে ভর বছর ফুল ফোটনো যায়। এতকিছুর পরও বিজ্ঞানীরা বলছেন উদ্ভিদের এমন এনজাইম প্রক্রিয়া বেশি সক্রিয় থাকে বসন্তকালেই। যে কারণে বসন্তবেলায় বেশি ফুল ফোটে বিশ্বের সকল দেশে। তারপর ভর বছর ফুল ফোটনো যায় বিকল্প প্রক্রিয়ায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা পথের ধারে অনাদরে জন্মানো ইউরোশিয়ার সাদা রঙের আগাছা ধরনের এরাবিডোপসিস থালিয়ানো নামের একটি ফুল নিয়ে গবেষণা করেন। এই ফুলের চারটি বৃত্তাংশ চারটি পাপড়ি ও ছয়টি পুংকেশর। দেখলেন এপিজেনেটিক বিষয় ফুল ফোটার সময় নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। এই পরিবর্তন হয় ডিএনএ এবং সংযুক্ত প্রোটিনের কেমিক্যাল মডিফিকেশনে। ডিএনএর পরম্পরা পরিবর্তন হয় না, জিনের অভিব্যক্তি প্রকাশকে নিয়ন্ত্রণ করে।

মরুভূমিতে ফোটা মরু গোলাপ গাছ বেশ শক্ত। মাটি ছাড়াও পাথরকুচি মধ্যে বেঁচে থাকতে পারে। খুব বেশি পানির দরকার হয় না। মরুভূমির মতো আবহাওয়ার টিকে থাকতে পারে। রাজশাহীর উপশহরে কৃষিবিদ শাহীন সালাহউদ্দিনের ছাদ বাগানে এই ফুল ফুটেছিল। দাবি করেন,তার সংগ্রহে মরু গোলাপের প্রায় ৭০টি জাত আছে। তিনি এ্যাডেনিয়ামের একটি চারা কিনে শখ করে টবে লাগান। তিন চার মাস পর কলকের মতো লাল গোলাপি ফুল ফোটে। এই ফুল থেকে বীজ ও চারা হয়। এই চারা বগুড়ার কয়েটি নার্সারিতে বিক্রি করেছেন। মরুগোলাপের বোটানিক্যাল নাম এ্যডিনিয়াম ওবেসাম। আদিনিবাস আফ্রিকা মরু অঞ্চল। তবে গাছটি ক্যকটাস নয়। এক ধরনের সাকুলেন্ট বা রালো প্রকৃতির গাছ। ভর বছর লাল গোলাপি ঘিয়ে সাদা হলদে নীলাভসহ অনেক রঙের ফুল ফোটে। ফুলের আকর্ষণে অনেকেই এখন ছাদে টবে ফুলের চারা রোপণ করেন। কেউ বনসাই বৃক্ষ রাখেন। বৃক্ষ ও ফুলের প্রতি মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হয় নানা জাতের বাহারি ফুল। -জনকণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত