প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৮ থেকে ১২ সপ্তাহ বিরতিতে অক্সফোর্ডের টিকা বেশি কার্যকর: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) নতুন ধরন শনাক্ত হওয়া দেশগুলোতেও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি টিকা ব্যবহারের সুপারিশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। টিকাটির দুই ডোজ নেওয়ার ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত বিরতি নেওয়ার কথা বলছেন সংস্থাটির বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এতে টিকার কার্যকারিতা বাড়ে ও বেশি সুরক্ষা পাওয়া যায়।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে এসব কথা জানানো হয়। এর আগে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতেই কেবল দুই ডোজের টিকার মধ্যে ছয় সপ্তাহের মতো বিরতি দেওয়ার সুপারিশ করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি বলছে, ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রেও অক্সফোর্ডের তৈরি টিকা ব্যবহার করা যেতে পারে। কয়েকটি দেশ অবশ্য এই টিকা ৬৫–ঊর্ধ্বদের দেওয়ার বিরোধী। যুক্তরাজ্যে এই টিকার দুই ডোজের মধ্যে বেশি বিরতিতে ভালো কার্যকারিতার প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, অক্সফোর্ডের টিকাকে ‘বৈশ্বিক টিকা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, টিকাটি দামে তুলনামূলক সস্তা, গণহারে উৎপাদন করা যায় এবং সাধারণ ফ্রিজের তাপমাত্রায় তা সংরক্ষণযোগ্য। তবে করোনার নতুন ধরনের ক্ষেত্রে এ টিকার কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এ ছাড়া তথ্যের স্বল্পতা থাকায় এটি বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে কি না বা দুটি ডোজের মধ্যে কত দিন বিরতি দিতে হবে, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টিকা বিশেষজ্ঞ ফোরাম স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অব এক্সপার্টস (এসএজিই) টিকা পরীক্ষার তথ্য–প্রমাণ যাচাই করে। এর অন্তর্র্বতীকালীন সুপারিশ বলছে, অক্সফোর্ডের টিকাটি মোটের ওপর ৬৩ শতাংশ কার্যকর।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় টিকাটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগে দেখা যায়, মৃদু ও মাঝারি মাত্রার অসুস্থ তরুণদের ক্ষেত্রে টিকাটি ‘সামান্য সুরক্ষা’ দিতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টিকাদানবিষয়ক পরিচালক ক্যাথেরিন ও ব্রায়েন বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার গবেষণাটি ছিল অসম্পূর্ণ। এই টিকা গুরুতর পর্যায়ের কোভিড ঠেকাতে এখনো সম্ভাবনাময়। অক্সফোর্ডের গবেষকেরা দাবি করেন, তাঁদের টিকাটি কোভিড-১৯ রোগীদের গুরুতর অসুস্থতা থেকে বাঁচাতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এসএজিইয়ের চেয়ারম্যান আলেজান্দ্রো ক্যারাভিয়োটো বলেন, যেসব দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানেও এ টিকা ব্যবহারের সুপারিশ না করার কোনো কারণ নেই।

যদিও ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দেশ এই টিকার কার্যকারিতা নিয়ে যথেষ্ট তথ্য নেই বলে সমালোচনা করেছে। টিকাটি ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের না দেওয়ার কথা বলছে তারা। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৬৫ বছরের বেশি বয়স্কদের ক্ষেত্রে টিকাটি পরীক্ষার তথ্য কম থাকলেও অন্যান্য গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্কদের ক্ষেত্রেও এটি প্রতিরোধব্যবস্থা তৈরি করে। তাই এই টিকা ব্যবহার করা উচিত।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা টিকাটির সুপারিশ করেছে, এটা দারুণ খবর। এ সিদ্ধান্ত টিকাটির আরও বিস্তৃত ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ খুলে দেবে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ ও ডোজের মধ্যে দীর্ঘ বিরতির বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ পর্যন্ত তিনটি টিকার অনুমোদন দিয়েছে। সংস্থাটি সবার আগে মার্কিন বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও জার্মান প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেকের তৈরি টিকার অনুমোদন দেয়। এরপর মার্কিন জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মডার্নার টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়। সবশেষে অনুমোদন পায় অক্সফোর্ডের টিকা।

করোনাভাইরাসের তাৎক্ষণিক তথ্য হালনাগাদকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস ডট ইনফোর তথ্য অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত সারা বিশ্বে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০ কোটি ৭৯ লাখ ৫৯ হাজার ১৬০ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯৫ জনের। বাকিরা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সূত্র: প্রথম আলো

সর্বাধিক পঠিত