প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সুন্দরবনে ১৮ বছরে ২২ বার আগুন, খতিয়ে দেখছে বন বিভাগ

শেখ সাইফুল ইসলাম: [২] বিশ্ব ঐতিহ্য সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন বাংলাদেশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সব সময়ই রক্ষা করে আসছে। সুন্দরবনে বার বার আগুন লাগার ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রনিত না নাশকতা তা দেখতে শুরু করেছে বন বিভাগ।

[৩] এমনকি ভবিষ্যতে আবারো সুন্দরবনে আগুন নাশকতার গন্ধ পাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।সর্বশেষ ৮ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনে লাগা আগুনের ঘটনা দুর্বৃত্তদের নাশকতা সন্দেহ নিয়েই দেখছে বন বিভাগ।

[৪] ২০১৭ সালের ২৬ মার্চ একই এলাকায় আগুনের ঘটনা ঘটে। বিশ্বের দরবারে একমাত্র ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট সুন্দরবনের নাম সবারই পরিচিত। এ সুন্দরবনের জন্যই বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে। দেশের সমগ্র সংরক্ষিত বনভূমির অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ৫১ শতাংশ বনই হচ্ছে সুন্দরবন।

[৫] প্রায় ৬ হাজার ১১৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই বনে রয়েছে সুন্দরী, গেওয়া, গরান, পশুরসহ ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল হরিণসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী। নদ-নদীতে রয়েছে বিলুপ্ত প্রায় তালিকায় থাকা ইরাবতীসহ ৬ প্রজাতির ডলফিন, লবন পানির কুমির ও ২১০ প্রজাতির মাছ।

[৬] অগ্নিকান্ডের প্রতিবারই ধারণা করা হতো, বনজীবীদের অসাবধানতায় বিড়ি-সিগারেটের ফেলা দেওয়া অংশ থেকে আগুন লেগেছে। এবারের ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে উড়িয়ে দিতে চাচ্ছেন না অনেকেই।

[৭] বিএনপির নেতা ও সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘সোমবারের ঘটনা নাশকতাও হতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যেসব এলাকায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে সেসব এলাকার কিছু অসাধু জেলেরা মাছ ধরার জন্য তাদের সুবিধার জন্য জায়গা খালি করতে তারা আগুন লাগায়’।

[৮] ইতিপূর্বে চাঁদপাই রেঞ্জে জেলে সেজে কিছু দুর্বৃত্ত সুন্দরবনের গহীনে বনের কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে মাছ শুকিয়ে শুটকি তৈরী করেছিল, যা গত বছর বন বিভাগের হাতে ধরা পরেছে। কারা এর সাথে জড়িত তা বন বিভাগের কাছে তথ্য ছিল। কিন্ত রহস্যজনক কারণে কোন ব্যাবস্থা নেয়া হয়নি। তবে এর সাথে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী জড়িত থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন ড. ফরিদুল ইসলাম।

[৯] পূর্ব সুন্দরবন বিভাগীয় কার্যালয়ের (বাগেরহাট) উচ্চমান সহকারী মোঃ হারিস এক তথ্য মতে জানান, সুন্দরবনে ২০০২ সালে কটকা এলাকায় একবার, নাংলী ও মান্দারবাড়িয়া এলাকায় দুই বার, ২০০৫ সালে পচাকোরালিয়া, ঘুটাবাড়িয়ার সুতার খাল দুইবার, ২০০৬ সালে তেরাবেকায়, আমুরবুনিয়া, খুরাবাড়িয়া, পচাকরালিয়া ও ধানসাগর এলাকায় পাঁচবার, ২০০৭ সালে পচাকোরালিয়া, নাংলি ও ডুমুরিয়া এলাকায় তিনবার, ২০১০ সালে গুলশাখালী একবার, ২০১১ সালে নাংলিতে দুইবার, ২০১৪ সালে গুলশাখালীতে একবার, ২০১৬ সালে নাংলি, পচাকোরালিয়া ও তুলাতুলিতে তিনবার, ২০১৭ সালে মাদ্রাসা ছিলায় একবার এবং সর্বশেষ ২০২১ সালে চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর এলাকায় সোমবার চার শতক বনভূমি পুড়ে যায়।

[১০] এসব আগুনে কোটি কোটি টাকার বনজসম্পদ আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। এদিকে নানা সময়ে আগুনের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য ছিলেন এমন একজন বন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভোরের পাতাকে বলেন, কমিটি বনের অভ্যন্তরে অগ্নিকান্ড প্রতিরোধকল্পে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী ৩৯ ধরনের সুপারিশমালা পেশ করেছিল। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এই কমিটি কি কারণে বনের অভ্যন্তরে আগুন লেগেছে তার কারণ চিহ্নিত করে প্রতিবেদন জমা দিবে। তারপরই ব্যাবস্থা নেয়া হবে। সম্পাদনা: আঞ্জুমান আরা

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত