প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জমি-ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়ে কর ফাঁকি রোধ
বাজারদরের কাছাকাছি নিবন্ধন মূল্য নির্ধারণের সুপারিশ দুদকের

ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর বড় মগবাজারে বাড়িসহ ৫ শতাংশ আয়তনের একখণ্ড জমি নিবন্ধিত হয়েছে ‘নাল’ শ্রেণীতে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী তা ‘দালানবাড়ি’ শ্রেণীতে নিবন্ধিত হওয়ার কথা। যে মৌজায় জমিটি অবস্থিত, সেখানে ‘দালান বাড়ি’ শ্রেণীভুক্ত ১ শতাংশ জমির রেজিস্ট্রেশন ফি ৪২ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা। ‘নাল’ শ্রেণীভুক্তের ক্ষেত্রে এ ফি ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ২০০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি শতাংশে ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৩০০ টাকা করে ৫ শতাংশ জমি নিবন্ধনে রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৯১ হাজার ৫০০ টাকা। পরে এ রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে ধরা পড়ে।

নিবন্ধনের সময়ে দলিলে জমির প্রকৃত শ্রেণী উল্লেখ না করে রাজস্ব ফাঁকির এমন ঘটনা অহরহই ঘটছে। ফলে প্রতি বছরই বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। নানা জায়গায় এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা মেলায় দুদক বিভিন্ন সময় মামলাও করেছে।

ভূমি বা ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নিবন্ধন মূল্য প্রকৃত বাজারমূল্যের কাছাকাছি পর্যায়ে নির্ধারণের ব্যবস্থা নেয়া গেলে এভাবে রাজস্ব ফাঁকির পথ বন্ধ হবে বলে মনে করছে দুদক। কমিশনের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনেও সুপারিশ করে বলা হয়েছে, ভূমি বা ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রদর্শিত রেজিস্ট্রেশন মূল্য প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক কম দেখানো হয়। এভাবে কর ফাঁকি রোধ করতে এসব ভূসম্পত্তির নিবন্ধন মূল্যকে বাজারমূল্যের কাছাকাছি পর্যায়ে নিয়ে আসা প্রয়োজন।

সরকারি বিভিন্ন পরিষেবায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি-দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ রয়েছে। এগুলো প্রতিরোধে খাতভিত্তিক সম্ভাব্য অনিয়ম-দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করে তা লাঘবের জন্যও বেশকিছু সুপারিশ দিয়েছে দুদক। এ বিষয়ে কমিশনের বক্তব্য হলো এ জাতীয় সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি পরিষেবায় হয়রানির সুযোগ কমে আসে। ফলে অনিয়ম-দুর্নীতির পথ কিছুটা হলেও কঠিন হয়।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপমহাদেশে ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সূচনা হয় ব্রিটিশদের হাত ধরে। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ভূমি নিবন্ধনের জন্য সর্বভারতীয় আইন হিসেবে ১৯০৮ সালের ১৬ নম্বর আইন জারি করা হয়, যা বর্তমানে রেজিস্ট্রেশন আইন নামে পরিচিত। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পরেও সংবিধানের ১৪৯ নম্বর অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে আইনটি বহাল রাখা হয়।

প্রতিবেদনের ভাষ্যমতে, রেজিস্ট্রেশন বিভাগের সুদীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও জনগুরুত্বসম্পন্ন বিভাগটিকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যুগোপযোগী করা হয়নি। ফলে জনগণ স্বচ্ছ, হয়রানিমুক্ত ও মানসম্পন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার এ বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যেও চাকরি নিয়ে কর্মসন্তুষ্টির অভাব রয়েছে। ফলে তারা ভালো সেবা প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছেন। নিবন্ধন থেকে সরকার প্রতি অর্থবছর প্রায় ১২ হাজার কোটি থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে।

দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় গতি ও স্বচ্ছতা আনতে প্রতিবেদনে ভূমি রেজিস্ট্রেশন বিভাগের ডিজিটালাইজেশনের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া প্রতিবেদনে দুদকের বিভিন্ন সময়ে করা ভূমি নিবন্ধন মামলা ও তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রচলিত নিবন্ধন পদ্ধতির বেশকিছু ত্রুটিও চিহ্নিত করা হয়েছে। দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ভূমি শ্রেণী নির্ধারণের তথ্য না থাকায় সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের ভূমির শ্রেণী গোপন করে তা দলিলে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে অপেক্ষাকৃত কম দামের শ্রেণী হিসেবে। ভূমি অফিসকে ডিজিটাল করা গেলে এ ধরনের কর ফাঁকি দেয়ার সুযোগ বন্ধ হবে। আবার জমির মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্যর প্রয়োজনে সহজেই তা পাওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া দুদক, এনবিআর বা অন্য কোনো সংস্থা যেকোনো ব্যক্তির সম্পদ নিয়ে সহজেই নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।

ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এলে রেজিস্ট্রেশন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জনগণকে উন্নত সেবাদানে উৎসাহিত হবেন। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থাও বাড়বে। সরকারের প্রকৃত রাজস্ব প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। সার্বিকভাবে ভূমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা প্রতিষ্ঠিত হবে। হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত ভূমি রেজিস্ট্রেশন সেবা প্রদানের সুযোগ তৈরি হবে।

এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দেশে জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়ে রাজস্ব নিশ্চিত করতে সরকার ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু এসবের বাস্তব মূল্য দলিলে যা লেখা হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি। এ অবস্থার উত্তরণ করতে হলে জমি ও ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে দাম নির্ধারণ করতে হবে। এতে দুর্নীতি কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আরো বৃদ্ধি পাবে। -বণিক বার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত