প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খান আসাদ : চীনের ভূমিকা মিয়ানমারের সঙ্গে দোস্তি সম্পর্কের কারণে নয়, আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী ফরেন পলিসির বিরুদ্ধে

খান আসাদ : চীন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিন্দা প্রস্তাবকে বাধা দিয়েছে। দিয়েছে একটি যুক্তিতে। কোন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারভেনশন’(পড়ুন, আমেরিকার বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে অন্য দেশে সশস্ত্র নাকগলানো) অনুচিত। দ্বিতীয়ত, চীন সকল পক্ষকে নিজেদের মধ্যকার বিরোধ নিজেরাই মিটিয়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছে।

চীনের ভূমিকা মিয়ানমারের সাথে দোস্তি সম্পর্কের কারণে নয়, আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী ফরেন পলিসির বিরুদ্ধে। যেই ফরেন পলিসি, সারা দুনিয়ায় ৬০০ এর বেশি সামরিক ঘাটি রেখেছে। ষড়যন্ত্র ও ক্যু করে ‘গণতন্ত্র’ রপ্তানি করে। প্রয়োজনে মিসাইল ছুড়ে ‘রেজিম চেঞ্জ’ করে। কোটি কোটি সাধারণ মানুষ হত্যা করে। যা ঘটেছে সা¤প্রতিক ইরাক সিরিয়ায়। আমেরিকার মতাদর্শগত নিয়ন্ত্রণ বুদ্ধিবৃত্তিকও, সামরিক কৌশলের পাশাপাশি। কর্পোরেট মিডিয়ার সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সুশাসন ও মানবাধিকার বাণিজ্যের থিংকট্যাঙ্ক এবং গণতন্ত্র রক্ষার “উন্নয়ন সংস্থা”। এরা সাধারণত মার্কিন স্বার্থের ক্ষেত্রগুলোতে সোচ্চার, এবং কাঠামোগত বা সিস্টেমিক বৈষম্য ও সহিংসতার ব্যাপারে নীরব।

এবারে, মিয়ানমার প্রশ্নে, ফিলিপিন্স, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া চীনের সাথে প্রকাশ্যে সহমত জানিয়েছে। তথাকথিত ‘আন্তর্জাতিক কমিউনিটির’অভিভাবকত্বের, মরাল পুলিশের তথা উচ্চতর নৈতিক গলাবাজির বিপক্ষে। আজকে এটা স্পষ্ট যে তথাকথিত ‘আন্তর্জাতিক কম্যুনিটি’ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সুরে গান গায়, যে গান সিলেক্টিভ ‘গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকারের’ছন্দে গাঁথা। তার মানে কি এই যে মানুষ সত্যিকার গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়াবে না? অবশ্যই দাঁড়াবে, যেমনটা মায়ানমারের জনগণ থালা বাটি পিটিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অধিকারের পক্ষে দাঁড়াচ্ছে। জনগণের এই আন্দোলনের সাথে সংহতি জানান। কিন্তু কোন তথাকথিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারভেনশন’এর নামে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের চাপিয়ে দেওয়া ব্যবস্থা নয়।

সময় এসেছে, মুক্তমনে দুনিয়াকে দেখার ও বোঝার। সেজন্য চীনের বা আমেরিকার পক্ষে দাঁড়ানোর দরকার নেই। দরকার, নিজ দেশ ও জাতির প্রগতিশীল বিকাশের পক্ষে অবস্থান নেয়া।নয়া উদারবাদি উন্নয়ননীতি যা সকল দুর্নীতির ও মাফিয়াতন্ত্রের মূলে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। অবস্থান নেয়া ‘Leave No One Behind’(SDG) এর পক্ষে, যে উন্নয়ন দর্শন জাতিসংঘও প্রচার করছে। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত