প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান মামুন : আল-জাজিরার প্রতিবেদনটি উড়িয়ে না দিয়ে এখানে যা যা সত্য বলা হয়েছে, সেগুলো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

কামরুল হাসান মামুন : কাতার বেসড আল-জাজিরা টিভিতে একটা তথাকথিত ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট প্রচারিত হয়েছে। রিপোর্টটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা কেউ কি উদ্যেশ্যবিহীন কোনো কাজ করি? সব কাজের পেছনেই কোনো না কোনো উদ্দেশ্য থাকে। We should do nothing without  having a goal behind or without having a purpose behind it!   এখন উদ্দেশ্যটা ভালো না মন্দ সেটা নির্ভর করে কে কীভাবে পার্সিভ করে, কে কী মতবাদ বহন করে, তার স্বার্থ হাসিল হলো না ক্ষুণ্ন হলো ইত্যাদি অনেক প্যারামিটারের উপর। তবে অনেকটা আশ্চর্য হয়ে আমাদের মিডিয়া জগৎ লক্ষ্য করলাম। মিডিয়া বলতে প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক আল-জাজিরার ওই রিপোর্ট নিয়ে একধরনের সুনসান নীরবতা লক্ষ্য করেছি। অনেক সময় নীরবতা যে আরও শক্তিশালী সরবতা সেটা আমরা বুঝতে ব্যর্থ হই।

পদার্থবিজ্ঞানে ইমিশন স্পেক্ট্রা যা দেখা যায় সেটা যেমন মেসেজ ক্যারি করে তেমনি এবস্পর্শন স্পেক্ট্রা যা অন্ধকার সেটাও অনেক মেসেজ ক্যারি করে। একটা টেলিভশন চ্যানেল ওই রিপোর্ট নিয়ে অনেক আলোচনা করেছে কিন্তু সেটা নিরাপদে থেকে নির্লজ্জতার তোয়াক্কা না করে একতরফাভাবে সরকারের পক্ষ নিয়ে। বাকিরা একদম কিছুই ঘটেনি একদম এমন ভাব দেখিয়েছেন কিন্তু সরকারি প্রেসনোট ঠিকই চাপিয়েছেন। অর্থাৎ নীরবতাটা সরকার নিজেই ভেঙেছে।

তারপর হঠাৎ দেখি ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি স্টার’ একটি কমেন্টারি ছাপিয়েছেন। দেরিতে হলেও তারা এই সাহসটুকু দেখিয়েছেন। বাকিদের নীরবতা এবং ক্ষেত্রবিশেষে সরকারের পিঠচাপড়ানোই প্রমাণ করে এই দেশে সাংবাদিকতা বলতে আর কিছুই রইলো না। আমার স্ত্রী সেই যেদিন থেকে বাংলাদেশে এসেছে তখন থেকেই ঘুম থেকে ওঠে দৌড়ে গিয়ে আগে সংবাদপত্রটা পড়তো। এখনো দৌড়ে যায়, তবে সংবাদ পড়ার জন্য নয়। পত্রিকায় শব্দজটের পাজল সেটা খেলার জন্য আর টুকটাক শিরোনাম এবং মাঝেসাঝে সম্পাদকীয় পাতা। ও অনেক আগে থেকেই বলে আসছিল, বাংলাদেশের পত্রিকা সংবাদ ছাপায় না বরং ইনফরমেশন ছাপায়। সংবাদ ছাপানো মানে সংবাদের সাথে একটা ক্রিটিক্যাল এনালাইসিসও থাকে। এগুলো করা হয় না।

কারণ আমাদের সাংবাদিকদের রাজনৈতিক চেতনা আর পেশার দায়িত্বশীলতাকে আলাদা করতে পারে না। শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা এবং ডাক্তারি এগুলো কেবলই জীবিকার জন্য একটি পেশা না। এগুলো তার চেয়েও অনেক অনেক বড় জিনিস। তবে কেন জানি বিশ্বজুড়েই একধরনের সমস্যা চলছে। নৈতিকতার একধরনের ধস পৃথিবী জুড়েই নেমেছে। ইদানিং সিএনএন দেখে মনে হচ্ছিল তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করেই ছাড়বে। একাধারে একটি টেলিভিশন চ্যানেল ট্রাম্পের বিরুদ্ধাচারণ করে গেছে। তবে আমেরিকার বিশেষত্ব হলো বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধেও সত্যাচার মিথ্যাচার করা যায় তাতে তার টেলিভশনকে বন্ধ করে দেয়নি বা চেষ্টাও হয়নি। এখানেই আমাদের দেশ আর তাদের দেশের মধ্যে পার্থক্য। একটি রিপোর্ট আল-জাজিজার মতো একটি আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে।

এইটা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হোক। এইটাকে উড়িয়ে না দিয়ে এখানে যা যা সত্য বলা হয়েছে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। অনেকে দেখছি বলছেন এখানে যা যা বলা হয়েছে তার কোনটি আমরা  না জানতাম? সব কিছুই আমরা জানতাম। কী ভয়াবহ কথা। তো জেনে এতোদিন কী করেছেন? জানার পর ব্যবস্থা নিলেই তো এ ধরনের রিপোর্ট করতে পারতো না।

অনেক সময় জানা জিনিসগুলোকেও রিনিউ করে একত্রে একসাথে দেখা উচিত। তাতে একটা পার্সপেক্টিভ তৈরি হয়। এই রিপোর্ট তৈরি করার পেছনে হয়তো অনেকের ইন্দন আছে, আর্থিক সহযোগিতাও আছে। থাকলেই কি, যা সত্য তা মিথ্যা হয়ে যায়? থাকলেই কি ভিডিওতে যা দেখলাম তা মিথ্যা হয়ে গেলো? একটি গণতান্ত্রিক দেশের সরকার প্রধান সর্বদা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে সরকার জনগণের জন্য অর্থাৎ government of the people, by the people and for the people!  আর আমরা বাংলাদেশে দেখছি তার উল্টো। People of the government, by the government and for the government!  সবাই সব কিছু সরকার প্রধানের নির্দেশে করে, সবাই সবকিছু সরকার প্রধানকে খুশি করার জন্য করে। এ যেন ভ‚তের উল্টো পায়ে উল্টো দিকে যাত্রা। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত