প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্ধারিত সময় থেকে পেছাতে পারে ১৪৩৬ ইউপির ভোট

ডেস্ক রিপোর্ট: নির্ধারিত সময় থেকে পিছিয়ে যেতে পারে এক হাজার ৪৩৬টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন। আইন অনুযায়ী, আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে এসব ইউপিতে ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারিত রয়েছে।

আগামী ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ওই সময়ের মধ্যে এসব ইউনিয়নে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে না-এমনটি মনে করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়। সেক্ষেত্রে বর্তমান পরিষদের মেয়াদ ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে ইসি।

আর সেটি জারি হলে বর্তমান চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা (সদস্য) বাড়তি সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। যদিও এর আগে ইসি মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোট করার কথা জানিয়েছিল। তবে রোজার আগে এপ্রিলে অল্প পরিসরে কিছু ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হতে পারে। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, আগামী ২ মার্চ নতুন ভোটারদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ও পুরনো ভোটারদের তালিকা করার পর যদি আমাদের হাতে সময় থাকে তাহলে রমজান মাস বিবেচনায় তফসিল দিতে পারি। তবে সেটি কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে চূড়ান্ত করা হবে। তফসিল কবে হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মার্চ মাসে তফসিল হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে প্রায় ৪ শতাধিক ইউপি নির্বাচন উপযোগী হবে।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকারের একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ছয় ধাপে চার হাজার ৩২১টিতে ভোটগ্রহণ করা হয়। ওই বছর মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৭৫২টিতে ২০১৬ সালের ২২ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময়ে ঢাকা, কক্সবাজার, কিশোরগঞ্জ, কুমিল্লা, বরিশাল, কুষ্টিয়া, খুলনা, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালীসহ ৩৭টি জেলার এসব ইউপিতে হয়। আর দ্বিতীয় ধাপে ৪৮টি জেলার ৬৮৪টিতে ২০১৬ সালের ৩১ মার্চ নির্বাচন হয়। এই দুই ধাপ মিলিয়ে এক হাজার ৪৩৬টি ইউপিতে চলতি বছরের মার্চের মধ্যে ভোটগ্রহণের বিধান রয়েছে।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ২৯(৩) ধারায় বলা আছে, সর্বশেষ নির্বাচনের তারিখ থেকে আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণ করতে হবে। এ হিসাবে প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে আগামী ২১ মার্চ ও দ্বিতীয় ধাপেরগুলোতে ৩০ মার্চের মধ্যে ভোট আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কাউন্টডাউন প্রায় কাছাকাছি সময়ে শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে পৌরসভা নির্বাচনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তারা আরও জানান, আইনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনে ১৮০ দিন সময় দেওয়া আছে।

এ হিসাবে প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে গত ২২ সেপ্টেম্বর ও দ্বিতীয় ধাপেরগুলোতে ৩১ সেপ্টেম্বর থেকে কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। দুই ধাপের নির্বাচনের সময় শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ মার্চ। অপরদিকে পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা মাত্র ৯০ দিন। এ সময়ের মধ্যে তফসিল ঘোষণা, ভোট গ্রহণ, নির্বাচিত মেয়র-কাউন্সিলরদের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও শপথের আয়োজন করতে হয়।
আরও জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চতুর্থ ধাপের পৌরসভাগুলোতে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ও পঞ্চম ধাপের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে। এছাড়া আগামী ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর ইউনিয়নভিত্তিক ভোটার তালিকার সিডি তৈরি করতে লাগবে আরও কয়েকদিন।

এসব বিবেচনায় এ মাসে ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ সম্ভব হবে না। মার্চ মাসে এক হাজার ৪৩৬টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট আয়োজনে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা পিছিয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে চার শতাধিক ইউপিতে এপ্রিলের প্রথমার্ধে ভোটের দিন রেখে তফসিল ঘোষণার প্রস্তাবও করেছে ইসি সচিবালয়। সেক্ষেত্রে যেসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের সময় উত্তীর্ণ হয়ে যাচ্ছে সেগুলোতে বর্তমান পরিষদের মেয়াদ ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য আদেশ জারি করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে ইসি।

কমিশনের যুক্তি স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের ২৯(৫) ধারায় এ সুযোগ রয়েছে। ওই ধারায় বলা আছে, দৈব-দুর্বিপাকজনিত বা অন্যবিধ কোনো কারণে নির্ধারিত ৫ বছর মেয়াদের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে, সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কিংবা অনধিক ৯০ দিন পর্যন্ত, যা আগে ঘটবে, সংশ্লিষ্ট পরিষদকে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ক্ষমতা দিতে পারে।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন করতে না পারলেও আইনি জটিলতা এড়াতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগকে ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা হালনাগাদ করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি, মালামাল কেনা, বিভিন্ন ধরনের ফরম ও প্যাকেট মুদ্রণসহ অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ৯টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া যেসব ইউনিয়ন পরিষদে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে সেই প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সূত্র:যুগান্তর

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত