প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সুন্দরবনে পৃথক অভিযানে আটক ৪, থেমে নেই বাঘ-হরিণ শিকার

শেখ সাইফুল ইসলাম : [২] সুন্দরবনে ভালো নেই রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মায়াবি চিত্রল হরিণ। এই দুইটি বন্যপ্রাণি চোরা শিকারী ও পাচারকারীদের প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছে।

[৩] সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সুন্দরবনে বাঘ ও হরিণ শিকার। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে সুন্দরবন থেকে শিকার করা ১টি বাঘের চামড়া, ১৯টি হরিণের চামড়া, ১৬ কেজি হরিণের মাংসসহ ৮ জন চোরা শিকারী ও১ টি মাথা, ৪৭ কেজি হরিণের মাংসসহ ৩ জন চোরাকারবারী বন্যপ্রাণির চামড়া পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে সুন্দরবন বিভাগ, র‌্যার, কোস্টগার্ডও পুলিশ সদস্যরা।

[৪] জেলার মোংলায় কোস্ট গার্ডের পৃথক পৃথক ২ টি অভিযানে একটি মাথা, ৪৭ কেজি হরিণের মাংসসহ ৩ জন চোরাকারবারী এবং ৫০০ গ্রাম গাজাসহ ১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে মোংলা কোস্টগার্ড।

[৫] গত ৩০ জানুয়ারি গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের বিসিজি বেইস মংলা এর একটি টহল দল বাগেরহাট জেলার মোংলা থানাধীন দিগরাজ বাজার সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৩ টি মোবাইল সেট, ১ টি হরিণের মাথা, ভুড়ি ও সর্বমোট ৪৭ কেজি হরিণের মাংসসহ ০৩ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

[৬] আটককৃত ব্যাক্তিরা দাকোপ উপজেলার বানিয়াশান্তা ডাংমারী গ্রামের আবু সরদারের ছেলে মোনা সরদার, রামপাল উপজেলার গোরম্বা বন্নি গ্রামের জাফর শেখের ছেলে জাহিদ শেখ।

[৭] জানা যায়, আটককৃত চোরাকারবারীদের মতই কিছু অসাধু ব্যক্তিরা তাদের নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন ভাবে এ সকল অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে যা সুন্দরবনের প্রাণীজ সম্পদ ধ্বংসের মুখোমুখি। জব্দকৃত অবৈধ হরিণের মাংস এবং আটককৃত ০৩ জন চোরাকারবারী কে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ঢাংমারী ফরেস্ট অফিসে হস্তান্তর করা হয়েছে।

[৮] অপরদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট নলিয়ান এর একটি টহলদল দুপুরে খুলনা জেলার দাকোপ থানার অধিনস্থ পানখালী খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় অন্য একটি অভিযান পরিচালনা করে নগদ টাকা ৭,৪৪০ এবং ৫০০ গ্রাম গাজাসহ দাকোপ উপজেলার কাইয়ুম খুলা গ্রামের মজিদ হাওলাদেরর ছেলে আবুল কালাম (৩৫)নামের মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করতে সক্ষম হয়।

[৯] আটককৃত ব্যাক্তি ব্যবসার পাশাপাশি নিজেও মাদক সেবন করে থাকে এবং তাদের নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য উক্ত মাদক দ্রব্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মাদক সেবনকারীর কাছে বিক্রয় করে বলে স্বীকার করে যা আমাদের চারপাশের যুবসমাজকে ধীরে ধীরে অনেক বড় ক্ষতির দিকে ধাবিত করছে। উদ্ধারকৃত গাজা ও আটককৃত ব্যাক্তিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

[১০] বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন কর্তৃক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আরো জানানো হয়, কোস্ট গার্ড এর আওতাভুক্ত এলাকা সমূহে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তার পাশাপাশি ডাকাতি দমন, অবৈধ অনুপ্রবেশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রনসহ চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত