প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অযোগ্য শিক্ষকদের কারণেই মগজে, মনে, সমাজে আজ ঘুন আর উঁইপোকা

কামরুল হাসান মামুন, ফেসবুক থেকে, এইতো মাত্র কদিন আগেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্রাজুয়েটের এক ছাত্রের করোনার অতিমারীর বিশ্বসংকট কালের মধ্যেই গবেষণা আর্টিকেল প্রকাশনা, সাইটেশন সংখ্যা, RGসংখ্যা, h-ইনডেক্স ও i-ইনডেক্স ইত্যাদিতে রীতিমত গ্রীনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লেখানোর মত অবস্থা নিয়ে লিখেছিলাম।

গতরাত্রে এইরকম আরেক ছাত্রের সন্ধান পেলাম। সেও কেবল মাস্টার্স পাশ। কোন বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী বা গবেষণা করছে না। ছাত্রটির নাম Enamul Haque! শুনেছি সে নাকি মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। সে নিজে একটি গবেষণা ল্যাব বানিয়ে ফেলেছে। ল্যাবের নাম EH Solid State Physics Laboratory! ল্যাবটি কোথায়? সেটি আমাদের ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের Longaer শহরে, Gaffargaon-2233! সেই ল্যাবে গবেষণা করে ৪০ টিরও বেশি আর্টিকেল লিখে ফেলেছে যার মধ্যে অনেকগুলো খুব ভালো ভালো জার্নালও আছে। আমি বাকরুদ্ধ!

ইতিমধ্যেই রিসার্চগেইটে তার RG নম্বর 31.38 যা বাংলাদেশের খুব কম অধ্যাপকেরই আছে। সে এই RG স্কোর কিভাবে বাড়ালো? তার স্কোরের 68.84{cb61124a0f8abf2c1d2c637017aeaadbba0ae5120564ee9f42772aa78eb494f0} এসেছে পাবলিকেশন থেকে, 17.62{cb61124a0f8abf2c1d2c637017aeaadbba0ae5120564ee9f42772aa78eb494f0} এসেছে রিসার্চগেইটে প্রশ্ন করে, 13.48{cb61124a0f8abf2c1d2c637017aeaadbba0ae5120564ee9f42772aa78eb494f0} এসেছে অন্যের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া থেকে। প্রশ্নের মান বা উত্তরের মান যাই হউক সে এইটা বুঝে গেছে এর মাধ্যমে RG স্কোর সহজে বাড়ানো সম্ভব। রিসার্চগেইটে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছে তার গবেষণার ফিল্ড হলো Cosmology, Solid State Physics, আর Materials Physics এবং তার Skills and expertise হলো Quantum Mechanics, Condensed Matter Physics, General Relativity, Mathematical Physics, Gravitational Physics, Physical Cosmology, Superconductivity ইত্যাদি। পদার্থবিজ্ঞানের এত এত কঠিন বিষয়ে সে এক্সপার্ট। My God!

এইসব দেখে আমার মনে হচ্ছে এই সমাজকে অনেক আগেই উঁইপোকা ধরেছে। উঁইপোকা ধরলে যেমন প্রথমে টের পাওয়া যায় না কিন্তু যখন যায় তখন সে ইতিমধ্যে তার খাওয়ার কাজ প্রায় শেষ। আসলে ঘুনে ধরেছে আমাদের মগজে, মননে, সমাজে, দেশে! এইযে শিক্ষাকে আমরা বছরের পর বছর ধরে শিক্ষাকে অবহেলা করেছি তারই ফল এখন পাচ্ছি। চারিদিকে সাহেদ, সাব্রিনা, সামিয়া, মারজান, বদি .......শুধুই কি তাই? এরাই এখন সমাজের সেলিব্রিটি, ক্ষমতাবান, অর্থবিত্তের মালিক। কিন্তু সঠিক শিক্ষার অভাবে এরা এইটা শিখেনি ধরা একদিন এরা পরবেই এবং পরছেও। একটি আন্তর্জাতিক প্রতারকের উদাহরণ দেই।

এক জার্মান পদার্থবিদ। নাম তার Jan Hendrik Schön! সে ২০০১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে Otto-Klung-Weberbank Prize এবং ২০০২ সালে অউটস্টান্ডিং ইয়ং পদার্থবিদ পুরস্কার পায়। তার প্রতিভা দেখে ১৯৯৭ সালে আমেরিকার বিখ্যাত Bell Lab তাকে নিয়োগ দেয়। তারপর থেকে তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। সে প্রতিবছর ডজন কি ডজন আর্টিকেল বিশ্বখ্যাত জার্নাল যেমন নেচার, সাইন্স, ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স ইত্যাদিতে প্রকাশ করতে থাকে। মনে করা হচ্ছিল সে নোবেল পুরস্কারের খুব কাছাকাছি। কিন্তু একই সাথে কিছু বিজ্ঞানীর সন্দেহও হতে লাগলো। তারা তার ডাটা রিপ্রোডিউস করার চেষ্টা করতে লাগলো। এইরকম অনেকেই যখন করছিল এবং বিভিন্ন কনফারেন্সে একসাথে হলে আলাপ করছিল তখন বিষয়টা ছড়িয়ে পরে এবং দেখা যায় কেউই তার ডাটা রিপ্রোডিউস করতে পারছিল না। শেষ পর্যন্ত তদন্ত হয় এবং প্রমাণিত হয় সব কিছুই fake! তারপর তার প্রকাশিত সব আর্টিকেল জার্নালগুলো উইথড্র করে। এটি এখন Schon scandal হিসাবে খ্যাত।

তাই ধরা একদিন খেতেই হবে। এই সত্যটা শেখা এবং বোঝার জন্য দরকার সত্যিকারের মানসম্পন্ন শিক্ষা। সত্যিকারের মানসম্পন্ন শিক্ষাই হলো এটার একমাত্র pesticide। শিক্ষা দিতে ভালো মানুষদের শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দিতে হবে। আমাদের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই ঘুনে ধরেছে তাই এখন যারা শিক্ষক তাদের অধিকাংশই শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা ছিলনা। অযোগ্য শিক্ষকদের কারণেই মগজে, মনে, সমাজে আজ ঘুন আর উঁইপোকা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত