প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মহামারীর ধকল ধনীরা কাটিয়ে উঠলেও গরিবদের লাগবে এক দশক

রাশিদ রিয়াজ : কোভিড মহামারীর ৯ মাস কেটে যাওয়ার পর বিশ্বের ১ হাজার কোটিপতি তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছে। কিন্তু একই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে গরিবদের একদশকের বেশি সময় লাগবে। অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের বার্ষিক রিপোর্টে বৈষম্য সম্পর্কে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও অর্থনীতিবিদরা। সুইজারল্যান্ডে দাভোসে ওই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে কোভিড মহামারী পরিস্থিতিতে আর্থসামাজিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা। ঠিক তার আগেই অক্সফামের এ রিপোর্ট প্রকাশ হল। সিএনএন

অক্সফাম বলছে এই প্রথমবারের মত বিশ্বের প্রতিটি দেশে বৈষম্য বাড়ছে। এবং এর কারণ কোভিড মহামারী। অক্সফামের নির্বাহী পরিচালক গ্যাব্রিয়েলা বুচার বলেন কোভিড শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের সর্বত্র এ ধরনের বৈষম্য বাড়ছে। ধনী ও গরিবের মধ্যে এ গভীর বৈষম্য ভাইরাসের মতই মারাত্মক প্রমাণিত হয়েছে। বাজার অর্থনীতি ধনী সম্ভ্রান্ত মানুষের ধনসম্পদ বৃদ্ধিতে আরো সাহায্য করেছে এবং মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর অসংখ্য খেঁটে খাওয়া মানুষ, দোকানপাটের কর্মচারি, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, বিক্রেতা তাদের আয় হারিয়ে খাবারের জন্যে লড়াই করছে। ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসে বিশ্বের ১শ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ২১ লাখেরও বেশি মানুষ। বৈষম্য আরো প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। লৈঙ্গিক বা আয় উভয় দিক থেকে মানুষ বেঁচে থাকার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছে। অক্সফামের হিসেবে যদি শ্বেতাঙ্গদের মত একই হারে কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক আমেরিকানরা মারা যেত তাহলে তাদের মধ্যে ২২ হাজার মানুষ এখনো মৃত্যু থেকে রেহাই পেতেন। যদি নারী ও পুরুষ সম্পদের সুষম বন্টনের সুযোগ পেতেন তাহলে ১১২ মিলিয়ন নারীকে তাদের কাজ হারিয়ে বিপদে পড়তে হত না। করোনা ভাইরাস শুরু হওয়ার পর ধনীরা খুব সহজেই পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই হয়ে উটতে পেরেছেন। যদিও শেয়ারবাজারে ধ্বস নেমেছে কিন্তু তারপর এ বাজার থেকে ইতিমধ্যে ধনীরা মুনাফা পুনরায় তুলে নিতে সমর্থ হয়েছেন। তবে মহামারী মোকাবেলায় যে সব সরকার অর্থনৈতিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, সেজন্যে তারা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। বিশ্বের কোটিপতিরা মহামারীর ভেতরেও গত বছর মধ্য মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩.৯ ট্রিলিয়ন ডলার অর্জন করেছেন। অথচ গত বছর ৫শ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র সীমায় চলে গেছে।

অক্সফামের অন্যান্য প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে মহামারীতে গরিবরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত অক্টোবরে বিশ্বব্যাংকের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ৬০ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র সীমার নীচে নেমে গিয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় ধনী গরিব নির্বিশেষে যাতে কোভিড ভ্যাকসিন পেতে পারে সে ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বুচার। তিনি বলেন এর পাশাপাশি গরিবদের অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে হবে যাতে তারা তাদের হারানো কাজ ফিরে পায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সরকারি খাতে অধিক ও কার্বন কম নিঃসরণ হয় এমন খাতে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেন অক্সফামের নির্বাহি পরিচালক। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতে বিনিয়োগের কথা বলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের কাছে অক্সফাম অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের তাগিদ দিয়ে ‘গ্রিন জবস’ ও শিশু পরিচর্যা খাতে বিনিয়োগ ছাড়াও নারীদের কাজে ফিরিয়ে আনা সহ বিশ্বে কোভিড মোকাবেলায় আরো সহায়তা দেয়ার কথা বলেছে। বুচার বলেন মার্কিন নেতারা যে নিউ নরমাল অর্থনীতির কথা বলছে সেখানে অন্যদেশের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতেই হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিজেও তার দেশের জন্যে কোভিডে বাড়তি সহায়তা হিসেবে ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলার সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন যা কংগ্রেসের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত