প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের তিন গ্রুপ এক না হলে মেয়র নির্বাচনে নৌকা ডুববে, আশঙ্কা ছাত্রলীগ নেতার

হাবিবুর রহমান তারেক, ফেসবুক থেকে: সিটি নির্বাচন আর মাত্র বাকী ১২ দিন। মানে ২৭ জানুয়ারী মঙ্গলবার ভোট উৎসব। চট্টগ্রাম সিটির মধ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের বসবাস। এ মানুষগুলোর সিটি নির্বাচনে ফ্যাক্টর। কিন্তু এ মানুষগুলোর কাছে ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নবার্তাগুলো পৌঁছে দিতে পারলে নৌকার পালে হওয়া লাগবে। নৌকার পালে হওয়া লাগাতে হলে চট্টগ্রামে তিন ধারায় বিভক্ত আওয়ামী রাজনীতিকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসতে হবে। সকল ধরনের বিভক্তি -বৈষম্য – ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

আওয়ামী রাজনীতির বিভক্ত তিন ধারার এক ধারা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনিত জননেতা এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে পেয়ে আদাজল খেয়ে মাঠে নামলেও আর দুই পক্ষ বেজার, মোটেও খুশী নন। কোনমতে হজমে ভরি মতো হজম করছেন। মুখে মুচকি হাসি থাকলেও মনের মধ্যে জ্বালা। এখনো এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে মনে প্রাণে মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে।

একটি পক্ষ করোনা পরিস্থিতিতে নির্বাচন স্হগিত হওয়াতে মহা খুশিতে ছিলেন। কিন্ত মহাখুশি হলেও কোন লাভ নেই আগের মতো প্রার্থীতা ঠিক রেখেই সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরীই বহাল আছেন। এতবড় একটি সংগঠন। এত এত কর্মী, এত এত নেতা কিন্তু নির্বাচনে আমেজ নেই, উদ্দীপনা – উৎসব নেই, জাগরন নেই। তার কারণ তিনটি ধারা থেকে একটিধারাই এখনো মাঠ চষে বেড়ালেও দুইটি ধারা নিরব ভূমিকা পালন করছে।

এদুটো ধারার সাথে বিএনপি- জামায়াত শিবিরের সখ্যতা যেমন আছে তেমনি ব্যবসা বানিজ্যের দিক দিয়েও সম্পর্ক অনেক ভালো। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনিত প্রার্থী হওয়া সত্বেও এম রেজাউল করিম চৌধুরীর নৌকা নিয়ে ডুবে যাক, তাতে তাঁরা খুশী। আর মাত্র নির্বাচনে ১২ দিন বাকী কিন্তু মনের হিংসা দূর করতে পারছেন না। নৌকা ডুবে গেলে কারো কোন জবাবদিহিতা নেই। গা-ছাড়া ভাব নিয়ে দুটি ধারা বসে আছে। কোন ধরনের কর্মসূচী নেই। কোন ইচ্ছাশক্তি নেই। রাজনৈতিক সচেতন মহল এব্যাপারটি নিয়ে খুবই চিন্তিত। আর্দশের প্রতি দলের প্রতি, নেত্রীর প্রতি কোন শ্রদ্ধা – সম্মান ও ইজ্জতের তোয়াক্কা না করে হাত- পা গুটিয়ে বসে আছে। নামমাত্র অংশ নিচ্ছেন। চলছে গাড়ী যাত্রাবাড়ীর মতো যাত্রা করেছে। এ ১২ দিনের মধ্যে যদি তিনধারা বিভক্ত আওয়ামী লীগকে এক ও অভিন্ন রাস্তায় আনতে না পারলে নৌকার বিজয় কঠিন থেকে কঠিন হবে। তাছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে গন্ডগোল। সন্দেহ -সন্দিহান। প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগ মনোনীত কাউন্সলার প্রার্থী হলেও কিন্তু অনেক কাউন্সিল প্রার্থীর সাথে বিএনপি ও জামায়াত শিবিরের সাথে রয়েছে দহরম -মহরম সম্পর্ক।এমন আশা বিএনপি – জামায়াতএর উপর ভর করে নির্বাচন বৈতরণী পার হতে চাচ্ছে। ইতিমধ্যে গোয়েন্দা সংস্হাগুলো সরকারের কাছে তাদের রির্পোটে পেশ করেছে। কোন কোন কাউন্সলার প্রার্থী কোন কোন বিএনপি -জামায়াত নেতাদের ও কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করেছে তা সব জানতে পেরেছে। কোন কোন কাউন্সিলার প্রার্থীর সাথে বিএনপি- জামায়াতের নেতা-কর্মীরা মিশে গেছেন। তাও একটি তালিকা করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। একেবারে সাঁচ্চা নেতা- কর্মীতে বনে গেছেন। নির্বাচনের দিন সূর্বণ সুযোগটিকে কাজে লাগাবেন। সূই হয়ে প্রবেশ করে কুড়াল হয়ে বের হবেন। অথাৎ কাউন্সিলদের পক্ষে হয়ে নির্বাচন কেন্দ্র ঢুকবেন ভোটে বক্স এ একেবারে ভরে দিবেন এখন থেকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। এখনই কিছু কিছু জিনিস লক্ষ করলে বুঝা যাবে কাউন্সিলরাতাদের প্রচার – প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত নৌকার প্রচার – প্রচারণা নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই। তরিতে এসে নৌকা ডুবে যাক তাতে কোন চিন্তা নাই। কাউন্সিলরা আছেন ফুরফুরে মেজাজে। আবার অনেক কাউন্সিল প্রার্থী নৌকার উপর ভরসা করে আছে। নির্বাচনের দিন ভোটে ফলাফল হিসেবে করলে বুঝা যাবে কার হাঁড়ি কে ভাঙ্গে???

হাবিবুর রহমান তারেক: কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক, চট্টগ্রাম ওমরগনি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত