শিরোনাম
◈ একটি গবেষণা রকেট যেভাবে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধিয়ে ফেলেছিল প্রায় ◈ এক হালি ডিমের দামেও মিলছে না একটি লেবু ◈ দুর্বল উলভসকে হারা‌তে পার‌লো না আর্সেনাল ◈ ইমরান খা‌নের অসুস্থতা নিয়ে পাকিস্তান সরকারকে তোপ সৌরভ গাঙ্গু‌লির, উদ্বেগে আজহারও ◈ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ কতটা মোকাবেলা করতে পারবে বিএনপি সরকার? ◈ ভারতের আন্তর্জাতিক নৌ মহড়ায় বাংলাদেশ, ৭০ দেশের নৌবাহিনীর অংশগ্রহণ ◈ যে কারণে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে হোটেলের বাসন মাজতে হলো হ‌কি খেলোয়াড়দের ◈ আজ বাংলামোটরে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে এনসিপি ◈ রমজানে মেট্রোরেল চলবে নতুন সময়সূচিতে, ট্রেনে ইফতার করা নিয়ে যা বললো কর্তৃপক্ষ ◈ শেখ বশিরউদ্দীনকে বিমানের চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দিলো সরকার

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী, ২০২১, ১২:০৪ দুপুর
আপডেট : ১৪ জানুয়ারী, ২০২১, ১২:০৪ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মাসুদ রানা: ধর্মনিরপেক্ষতা-বিরোধী রাজাকারী যুক্তি প্রসঙ্গে

মাসুদ রানা : ১৯৭১ সালে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধকে ‘ইসলামিক রাষ্ট্র ভেঙ্গে হিন্দুরাষ্ট্র তৈরির ষড়যন্ত্র’ বলে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলো, আজ তারা এবং তাদের বংশধরেরা সেই মুক্তিযুদ্ধকে ‘মহান’ বলে এর ঘোষণাকে (ঢ়ৎড়পষধসধঃরড়হ) রেফার করে সেটিকে হিন্দুরাষ্ট্র নয়, ধর্মনিরেপক্ষ রাষ্ট্র নয়, বরং পরোক্ষভাবে একটি ইসলামিক রাষ্ট্র কিংবা মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা হিসেবে দেখাতে চায়। তাদের ‘যুক্তি’ হচ্ছে এই যে, স্বাধীনতার ঘোষণায় ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দের উল্লেখ নেই। যাঁরা ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্র তৈরির ঘোষণাতে সাম্য, মানবিক মর্য্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিশ্রুতিকে পরবর্তী বছর অর্থাৎ ১৯৭২ সালে জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র এই চারটিকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে লিপিবদ্ধ করে রাষ্ট্রের সংবিধান তৈরি করে, সেটি ঐ রাজাকার ও তাদের বংশধরদের গোচরে আসে না। স্বাধীনতার ঘোষণায় গণতন্ত্র শব্দেরও উল্লেখ নেই। সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে রাষ্ট্রের সমস্ত ক্ষমতা অর্পিত দেখিয়ে বস্ততঃ পরবর্তীকালের বাকাশালের ভ্রূণরূপ সেই ঘোষণায় রয়েছে। তো, এখন কি আমরা বলবো যে, স্বাধীনতার ঘোষণায় যেহেতু গণতন্ত্রের উল্লেখ নেই, তাই বাংলাদেশকে একটি গনতন্ত্রিক রাষ্ট্র করা হলে এটি স্বাধীনতাযুদ্ধের ঘোষণা ও চেতনার পরিপন্থী হবে?

স্বাধীনতার ঘোষণার মর্মবাণী বাদ দিয়ে যে-রাজাকার ও তাদের বংশধরেরা শব্দের উল্লেখ ও অনুল্লেখের ওপর গুরুত্ব দিয়ে "যুক্তি" দিচ্ছে, তাদের তথাকথিত এ-যুক্তি মানলে ১৯৭৫ সালের বাকাশাল ব্যবস্থায় শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে যেভাবে সমস্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিলো, সেটিও মানতে হয়! কারণ, স্বাধীনতার ঘোষণায় গণতন্ত্রের উল্লেখ নেই এবং সমস্ত ক্ষমতা শেখ মুজিবুর রহামানের হাতে অর্পিত। রাজাকারেরা হচ্ছে চরম বদাময়েশ এবং দার্শনিকভাবে সাংঘাতিক অসৎ। তাই, এদের যুক্তিগুলোও অসৎ উদ্দেশ্যে রচিত। এদের বংশধরেরা হিন্দু সংখ্যাগুরুর ভারতের জন্যে ধর্মনিরপেক্ষা চায়, কিন্তু মুসলিম সংখ্যাগুরুর বাংলাদশে ধর্মনিরপেক্ষতার বিরোধী। একই চরিত্র হিন্দুত্ববাদীদেরও। ওরা বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতার বিরাট উকিল, কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে হিন্দুরাষ্ট্রবাদী বিজেপির সমর্থক। বস্তুতঃ সকল ধর্মবাদীর চরিত্র প্রায় অভিন্ন। তারা ধর্মের ভিত্তিতে জাতিকে বিভক্ত করে নিজদের ফায়দা লুটতে চায়। এদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানকে পরিপূর্ণভাবে পরাস্ত না করা ছাড়া সভ্যতা এগুবে না। আমি ইতোপূর্বে একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখিয়েছি পাকিস্তান রাষ্ট্র ও এর দার্শনিক ভিত্তি ইনভ্যালিড করে বেরিয়ে আসার প্রক্রিকয়া কীভাবে বাংলাদেশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে। আমার মনে হয়, সাধারণ মানুষের বোধগম্য করে এবং রাজাকার ও তাদের বংশধরদের কুযুক্তিকে খণ্ডন করে আমার আরও একটি লেখা প্রস্তুত ও প্রকাশ করা দরকার। আমি অচিরেই তাই করবো। ১২/০১/২০২১, লণ্ডন, ইংল্যাণ্ড। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়