প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ‘ইতিহাস লজ্জার সঙ্গে এই দিনটিকে মনে রাখবে’, ক্যাপিটল হিলে সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বললেন সাবেক ৪ মার্কিন প্রেসিডেন্ট

লিহান লিমা: [২] স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্টগণ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এমনকি শীর্ষ রিপাবলিকান নেতারা।

[৩] সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যদি আমরা এই হামলায় বিস্মিত হই তবে সেটি হবে আরো বিস্ময়ের। এটি হওয়ারই ছিলো। তিনি আরো বলেন, ‘এই দিনটি আমাদের দেশের জন্য তীব্র অসম্মান ও লজ্জা বয়ে এনেছে। ক্যাপিটলে সহিংসতার এই ঘটনা ইতিহাস লজ্জার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

[৪] বিল ক্লিনটন বলেন, ক্যাপিটলের এই হামলা গত চার বছরের ‘বিষাক্ত রাজনীতি ও ট্রাম্পের উস্কানির বহিঃপ্রকাশ। মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি প্রশ্ন তুলে ক্রমাগত ভুল তথ্য প্রচার ও মার্কিনীদের একে অপরের বিরুদ্ধে উস্কে দেয়ায় এই ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।’

[৫] সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ বলেন, ‘আমি অবিশ্বাস্য দৃষ্টি ও হতাশা নিয়ে এই ঘটনার সাক্ষী হয়েছি। এটি চূড়ান্ত অসুস্থতা ও হৃদয়বিদারক। এভাবেই নির্বাচনি ফলাফল নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে আমাদের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে ব্যানানা রিপাবলিক বানানো হয়েছে। কিছু রাজনৈতিক নেতা দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, ঐতিহ্য ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর চূড়ান্ত অসম্মান দেখিয়েছেন।

[৬] সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার বলেন, ‘ক্যাপিটলের এই সহিংসতা জাতীয় বিয়োগান্তক ঘটনা।’

[৪] নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘আমি ট্রাম্পকে সংবিধানের সুরক্ষা ও প্রেসিডেন্সির সময় গৃহীত শপথ রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছি। এই সহিংসতায় আমি ‘বিস্মিত ও ভারাক্রান্ত।’

[৫] রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনিও এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এটি স্পষ্টতই দেশদ্রোহীতা।’

[৬] প্রসঙ্গত এর আগে ট্রাম্প এক বার্তায় সমর্থকদের ওয়াশিংটনে এসে কংগ্রেসে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটের অনুমোদন দেয়া আটকে দিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

[৭] এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে সহিংসতার এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও জাতিসংঘ এবং ন্যাটোর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া, চীন, তুরস্ক ও ভেনেজুয়েলা।

[৮] স্থানীয় সময় বুধবারের এই সহিংসতায় নিহত হন ৪ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভাইস- প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের নির্দেশ দেন। সহিংসতা উস্কে দেয়ার অভিযোগে ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট লক করে ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্ট্রাগ্রাম। দুই ঘণ্টা পর ক্যাপিটল হিলে অধিবেশনে হাউস ডেমোক্রেটরা মার্কিন সংবিধানে ২৫তম সংশোধনীর ধারা ৪ বাস্তবায়নের জন্য পেন্সকে আহ্বান জানান। তারা বলেন, আগামী ১৪ দিন যুক্তরাষ্ট্রে কি হতে যাচ্ছে তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। প্রেসিডেন্টকে শীঘ্রই ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত