প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ভারত ও চীন সামরিক বৈঠকের জন্যে কথাবার্তা বলছে

রাশিদুল ইসলাম : [২] সীমান্তে উত্তেজনা নিয়ে এ দুই দেশের সেনাকর্মকর্তারা আট দফায় আলোচনায় বসেও মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেননি। চীনের তরফ থেকে বলা হয়েছে, দুই দেশের কম্যান্ডাররা যাতে নবম বারের মতো আলোচনায় বসার জন্যে কথা বলছেন। এই শীতেও লাদাখ সীমান্তে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন রেখেছে ভারত ও চীন। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল তান কেফেই জানিয়েছেন, দুই দেশই যাতে সেনা সরিয়ে নিতে পারে, সে চেষ্টা চলছে। হিন্দুস্তান টাইমস

[৩] তিনি বলেন, লাদাখ সীমান্তে পরিস্থিতি স্থিতিশীল। চীনের সেনাবাহিনী ও কূটনৈতিক পর্যায়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এবং ইতিপূর্বে কোর কম্যান্ডার স্তরের বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা ভারত মেনে চলবে বলে আশা বেইজিংয়ের।

[৪] গত ১৮ ডিসেম্বর ভারত ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা স্থির করেন, সীমান্তে সেনা সরিয়ে আনা হবে। ওই সিদ্ধান্তের ফলোআপ আলোচনায় আবারো দু’দেশের সামরিক কর্মকর্তারা বসতে চাইছেন। লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত ১৯ ডিসেম্বর সেনাবাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলের জন্য নতুন সেনাকর্তা হিসেবে ঝাং শুডোংকে নিয়োগ দেন। তিনি লাদাখে ভারত সীমান্তে মোতায়েনকৃত চীনা সেনাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

[৫] গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি উভয় দেশ তীব্র যুদ্ধ চালানোর জন্য অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা করে। চীন সীমান্তে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ভারত সরকার ৫০ হাজার কোটি টাকার অস্ত্র ও যুদ্ধের অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার কথা ভাবছে।

[৬] সীমান্তে এক সময় ৪০ দিন যুদ্ধ চালানোর উপযোগী অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা করে রাখত ভারত। যুদ্ধের চরিত্র বদলে যাওয়ায় এ সময় এখন ১০ দিনে নেমেছে। ভারতের সনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর প্রধানরা ১০০ কোটি টাকার অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম জরুরি ভিত্তিতে কিনতে পারতেন। কিন্তু উরিতে পাকিস্তানের হামলার পরে ভারতের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর তিন বাহিনীর প্রধানদের ৫০০ কোটি টাকার অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনার অধিকার দেন।

[৭] এদিকে উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি জঙ্গি গোষ্ঠীকে সমর্থন করছে চীন। অক্টোবরের মাঝামাঝি চার মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতাকে চীনের কুনমিং শহরে দেখা যায়। তারা চীন থেকে অস্ত্রশস্ত্র আনতে গিয়েছিলেন।

[৮] ভারতের গোয়েন্দা সূত্র উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হচ্ছে মিয়ানমারের দু’টি জঙ্গি সংগঠন ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মি এবং আরাকান আর্মি উত্তরপূর্ব ভারতের জঙ্গিদের সাহায্য করছে। চলতি বছরেই তাদের সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমেই উত্তর পূর্ব ভারতের জঙ্গিদের অস্ত্রশস্ত্র পাঠাচ্ছে চীন। গত অক্টোবরে কুনমিং-এ যে জঙ্গি নেতারা গিয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে চীনের সেনাবাহিনীর এক অবসরপ্রাপ্ত অফিসার দেখা করেন। কীভাবে জঙ্গিদের অস্ত্র সরবরাহের নেটওয়ার্ক তৈরি করা যাবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকে কয়েকজন মিডলম্যানও উপস্থিত ছিল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত