প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আখের লালী তৈরি করে আর্থিক ভাবে অনেকেই স্বাবলম্বী

তৌহিদুর রহমান : [২] জেলায় আখ চাষকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু আখের তরল গুড়। যা স্থানীয় ভাষায় লালি নামে পরিচিত। শীতকালে বিভিন্ন পিঠার সাথে মুখরোচক খাবার হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে এই লালীর। গুনে মানে অন্যন্য হওয়ায় এর কদর রয়েছে দেশ জুড়ে। জেলায় যুগ যুগ ধরে তৈরী হয়ে আসছে আখের রস থেকে এই লালী। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পযর্ন্ত আখের মৌসুম হওয়ায় জেলার বিজয়নগর, কসবা ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় আখ থেকে লালি তৈরীর কাজে ব্যস্ত সময় পার করে শতাধিক কৃষক পরিবার ।

[৩] প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে লালী তৈরির কাজ। কৃষি কাজের পাশাপাশি বছরে ৩ মাস লালি উৎপাদন করে আর্থিক ভাবে তারা অনেকটাই স্বাবলম্বী । এর মধ্যে বিজয়নগর উপজেলায় প্রতিদিন প্রায় ১হাজার কেজি লালি উৎপাদন হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা। ক্ষতিকর কোন উপাদান ব্যবহার না করায় এর কদর সর্বত্র। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন লালী কিনতে ভিড় করছে। এক সময় তিন উপজেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে চলত লালি তৈরীর উৎসব। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় কয়েক কোটি টাকার লালী উৎপাদন হবে।

[৪] লালি তৈরির কারিঘর মান্নান মিয়া ও ইউসুফ আলী বলেন,এক কানি ক্ষেতের আখ দিয়ে তৈরী হয় ১৭/১৮ মণ লালি। প্রতি কানি জমির আখ ১৫ থেকে ২০হাজার টাকায় কিনে মহিষ দিয়ে মাড়াই করা হয়। এর পর মাড়াইকৃত আখের রস থেকে আড়াই ঘন্টা জ্বাল দিয়ে তৈরী হয়ে থাকে লালি। প্রতি পাকে ৩৫ থেকে ৪০ কেজি লালি উৎপন্ন হয় । বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা প্রতি কেজি লালী ৭৫ খেকে ৮০ টাকা দরে কিনে নিয়ে যায়।

[৫] যা বাজারে ২০/২৫ টাকা বেশী দামে বিক্রি হয়। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির আঙ্গিনায় উৎসব মুখর পরিবেশে চলছে আখ মাড়াইয়ের কাজ। কৃষকরা মহিষ দিয়ে আখ মাড়াই করছে। মাড়াইয়ের সময় মহিষের চোখে কাঠের চমশা পড়িয়ে রাখা হয়। এভাবে থেমে থেমে চলে মাড়াইয়ের কাজ।

সর্বাধিক পঠিত