প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দেশের ইতিহাসে ১৩৫ বছরে সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের তালিকায় আনিসুল হকের ‘মা’ চতুর্থ, সংখ্যায় তৃতীয়

সমর চক্রবর্তী: [২] বিষাদ সিন্ধু ও বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর পর লক্ষাধিক কপি বিক্রির রেকর্ড গড়লো শহীদের রক্ত আর মায়ের অশ্রুতে ভেজা এই উপন্যাস।

[৩] মা সাফিয়া বেগমের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধে যান আজাদ। ঢাকার ক্র্যাক প্লাটুনের এই যোদ্ধা ১৯৭১ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। হানাদাররা অত্যাচার করেও আজাদের মুখ থেকে মুক্তিবাহিনীর কোনও তথ্য বের করতে পারে না। তখন তার মাকে বলা হয়, ছেলে যদি সবার নাম-ধাম বলে দেয়, তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। সাফিয়া বেগম ছেলেকে বলে দিলেন, ‘কিছুই বলিস না।’

[৪] জেলখানায় দেখা করতে গেলে আজাদ বলে, মা, দুদিন ভাত খাই না, ভাত নিয়ে এসো। পরের দিন ভাত নিয়ে হাজির হন সাফিয়া, কিন্তু ছেলের দেখা মেলে না। তাকে হত্যা করেছে পাক হানাদাররা। সেদিন থেকে বাকি জীবন আর ভাত খাননি মা। যুদ্ধের ১৪ বছর পরে মারা যান, নিঃস্ব অবস্থায়।

[৫] পড়তে শুরু করলে শেষ না করে ওঠা যাবে না, এমন এক দুর্দান্ত গদ্য। কখন যে বুকের গহীনে হাহাকার তৈরি হবে, চোখ ভিজে না ওঠা পর্যন্ত বোঝাই যাবে না। এই গল্পটি নাট্যজন নাসির উদ্দীন ইউসুফের কাছে শুনেছিলেন আনিসুল হক, সেই গল্পকেই উপন্যাসে রূপ দেন তিনি। পাতায় পাতায় দেশপ্রেম আর আত্মত্যাগের স্মারক এই উপন্যাসটিকে মুক্তিযুদ্ধের পর এবং মাকে নিয়ে যে কোনও সময়ে লেখা একটি প্রধান উপন্যাসের মর্যাদা দিয়েছেন সাহিত্য সমালোচকেরা।

[৬] বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক সরদার ফজলুল করিম বলেছেন, “আমি বলি দুই মা; ম্যাক্সিম গোর্কির ”মা” আর আনিসুল হকের মা- এই দুই মা যথার্থ মা হয়ে উঠেছেন আমার কাছে ।

[৭] ভারতের নারীবাদী লেখক সরোজিনী সাহু বলেছেন, “One of the best novels of Indian sub-continent. It made my eyes watery. Perhaps the success lies behind the strong theme of humanity.”

[৮] শেখর ইমতিয়াজ বলেছেন, “প্রায় ৩০ বছর আগে ম্যাক্সিম গোর্কির মা উপন্যাসটি পড়ে কৈশোরিক দুরন্ত সাহস অর্জন করেছিলাম, আজ আনিসুল হকের মা উপন্যাসটি পড়ে নিজেদের ইতিহাসের বিস্মৃতির লীলায় প্রৌঢ়ত্বের বুকে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।”

[৯] বইটি সম্পর্কে ড. আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘মিটুনের (আনিসুল হক) উপন্যাস ‘মা’-এর ১০০তম মুদ্রণ বের হয়েছে। মিটুন যেরকম জনপ্রিয় লেখক তাতে প্রতিটি মুদ্রণে গড়ে কমপক্ষে ২ হাজার করে বইটি ছাপা হওয়ার কথা। সেই হিসেবে তার উপন্যাসটি বিক্রয় হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ কপি। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি রেকর্ড। জাহানারা ইমামের কালজয়ী গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলো’ বা হুমায়ুন আহমেদের কোন উপন্যাসও এতো জনপ্রিয় হয়নি সম্ভবত।

[১০] বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, বই বিক্রির ইতিহাসে রেকর্ড গড়েছে আনিসুল হকের এই উপন্যাস। ১৮৮৫ সালে মীর মশাররফ হোসেনের ‘বিষাদ-সিন্ধু’ এক লাখের বেশি বিক্রি হয়। ১৯১৪ সালে মোহাম্মদ নজিবর রহমানের ‘আনোয়ারা’ ৪০ হাজার কপি বিক্রি হয়েছিলো। তৃতীয় রেকর্ড গড়ে ২০১২ সালে প্রকাশিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, এটি অনেক আগেই লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এরপর আনিসুল হকের বই প্রায় দুই লক্ষাধিক ছাড়ানোর গৌরব অর্জন করলো।

[১১] আনিসুল হক বলেন, বইটি আসলে শহীদ আজাদ বুকের রক্ত দিয়ে এবং একজন মা তার অশ্রু দিয়ে লিখেছেন। আমাকে যদি বলা হয় বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ বই কোনটা? আমি বলবো মাহবুব আলমের ‘গেরিলা থেকে সম্মুখ যুদ্ধে’ বইটি, যাতে রাখাল বালক, চাষি, রংপুরের ক্ষেত-মজুর- এদের গল্প আছে। সম্পাদনা: সালেহ্ বিপ্লব

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত