প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক জুনায়েদ আহমেদ হালিম: রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ মানুষগুলোকে আধুনিক করে গড়ে তুলতে হবে

অধ্যাপক জুনায়েদ আহমেদ হালিম: ১৯৭২-৭৫ সময়কালে আমাদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক মনস্তত্বটা ছিলো স্বাধীনতা পূর্বকালের বাঙালি জাতীয়তাবাদী শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক মনস্থত্ব সেটি প্রতিষ্ঠিত করার রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো এবং সেই কারণে শিক্ষা ক্ষেত্রে জাতির পিতা শেখ মুজিবর রহমান ড. কুদরতে খুদা শিক্ষা কমিশনের মাধ্যমে জাতীয় শিক্ষা নীতি তৈরি করেছিলেন। সেই সময়ের বিবেচনা সেটি একটি দুরদৃষ্টি সম্পন্ন বাস্তব ভিত্তিক শিক্ষা নীতি ছিলো। সেই শিক্ষানীতি বঙ্গবন্ধু হত্যার পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় ভাবে পরিপক্ত করা হয় এবং তার পরবর্তীকালের রাজনৈতিক শক্তি তারা রাষ্ট্র ক্ষমাতায় থাকা বা যাওয়া এবং থাকা ইত্যাদির জন্য একধরনের অবাস্তব তথাকথিত ধর্মভিত্তিক একটা আবহের শিক্ষানীতি তারা চালু করে যেটি আসলে কর্মমূখী জ্ঞানভিত্তিক নয়। সেটি ছিলো নানারকমের দুরবিসন্ধি রাজনৈতিক অভিসন্ধির উপকরণ্। আমরা সেই ধারাবাহিকতা থেকে আসলে বের হতে পারিনি এবং আমাদের সাংস্কতিক মানও সেই একই ভাবে অবনমিত হয়েছে। আমাদের অনেক প্রচার-প্রসার বেড়েছে কিন্তু আমাদের সাধারণ জনমানুষের মনাস্থতাত্তিক জায়গাটা সাংস্কৃতিক ভাবে অবনমিত হয়েছে। যে কারণে আমরা তথাকথিক মনগড়া ইসলামকি চেতনার নামে আমাদের দেশের নিজেস্ব ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতির যে বিষয়গুলো আমরা লালন করি সেগুলোর উপর ক্রমাগত আঘাত এসেছে। এমনকি আমাদের পাঠ্যপুস্তুকে পাঠ্যক্রমেও সেই আঘাতটা আমরা দেখেছি। আমাদের প্রোগ্রেসিভ বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠ্যক্রম করে উঠতে পারিনি। যদি এখনকার বাচ্চাদের, বিদ্যালয় ভিত্তিক পাঠ্যক্রমের কথা বলি, বাচ্চাদের যে ভলিয়মে পড়ানো যে ভলিয়মে ইসলাম শিক্ষা পড়ানো হয় সেটি আমাদের সময় নবম-দশম শ্রেণিতে পড়ানো হতো। এটিই প্রধান সমস্যা, বর্তমানে আমাদের এখানে শিক্ষার নামে কুশিক্ষার বিস্তার ঘটেছে।

যানবহনে একটি জিনিস লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মিশুক , অটো রিশকা,সিএনজি এমনি কি বাসেও লেখা থাকে আপনার সন্তানকে মাদ্রাসায় দিন, আমাদের মনসতত্বটা ওরকম জায়গায় গেছে। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে তথাকথিত ইসলামী করণের নামে একধরনের আরবীয় করণ করা হয়েছে, যেটি শহর থেকে গ্রাম পর্যায় পযর্ন্ত সেটি বিস্তার ঘটেছে। নানা ধরনের এবং চরিত্রের মাদ্রাসা শিক্ষার বিস্তার হয়েছে এটি সাধারণ মনসত্ত্বতের উপর প্রভাব পড়েছে। এটির ধারাবাহিকতায় একটি অস্রাব্য-কুস্রাব্য ওয়াজ জন বিদনের অংশ হয়ে দাড়িয়েছে এক শ্রেণির মানুষের এবং সেটি বাসে ট্রাকে হোটেলে একিই সাংস্কৃতি। এটি আমাদের সংস্কৃতি নয় কিন্তু আমাদের সময়ে বার্ষিক একটি ওয়াজমাহফিল হওয়া একরকম ছিলো কিন্তু বর্তমানে ওয়াজের নামে যা হচ্ছে এটি একটি উম্মাদনা উগ্রতার উম্মাদ প্রকাশ যেটির পরিনাম এখন ভাস্কর্য ভাঙা। একিরকম পরিবর্তন হয়েছে আমাদের পোশাকে। আমাদের সময় পোশাক ছিলো সেলওয়ার, শড়ি ওই সময় পর্দা ছিলো শালিনতার পর্দা কিন্তু বর্তমানে পোশাকে ভিন্নতা আসলেও শালিনতা নেই, এখন পর্দার নামে যেই হিজাব বা আলখাল্লা জুব্বা আরবিও তালেবান পোশাকের বিস্তৃতি ঘটছে এটি আসলে মন মগজের এই অবস্থার কারণে তৈরি হয়েছে। আমরা আসলে স্বাধীনতা পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী যেই শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক মনস্বত্ত্বাতের মধ্যে ছিলাম সেটি ছিলো অনেক উন্নত আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং বাস্তব সম্মত কর্মমুখী একটা শিক্ষার পরিকল্পনা ছিলো সেই চেতনা থেকে আমরা এখন বহুদূর পিছিয়ে গেছি। আমরা এই ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়েছি এবং এই পশ্চাৎতা আমরা যদি কোনো ভাবে কাটিয়ে উঠতে না পারি তাহলে আমরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক উন্নতি যাই কিছু করি না কেনো সেটি খুব বেশি টেকসই হবে না। এই সংকট থেকে উত্তরণে রাষ্ট্রকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিতে হবে, আগে হয়তো আমদের আর্থিক সার্মথ কম ছিলো কিন্তু এখন আর্থিকভাবে আগের থেকে অনেক ভালো অবস্থায় আছি। আমরা এই শিক্ষার ক্ষেত্রে বাজেট অনেক বেশি বৃদ্ধি করতে হবে এখন যে শতকারা বা হারে দেওয়া হয় এর থেকে তাৎক্ষণিক ভাবে দেড় গুণ বাড়াতে হবে শুরুতে। এটি মোট জাতীয় ব্যয়ের কমপক্ষে ৬ থেকে ৭ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যায় করতে হবে শিক্ষা খাতে। এছাড়াও সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ মানুষ সেই মানুষগুলোকে আধুনিক করে গড়ে তুলতে হবে। সেটির জন্য কোনো বিকল্প ছাড়া কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পর্যন্ত এখনকার বাস্তবতায় একক শিক্ষা ব্যবস্থা অর্থাৎ কমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা রাষ্ট্রিয় খরচে দিতে হবে।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ: আব্দুল্লাহ মামুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত