শিরোনাম
◈ ইরানে হামলায় গ্যাস সংকটে পড়বে বাংলাদেশ! ◈ রাস্তায় কোনো ডিসিপ্লিন নেই, বাহিরের মানুষ পারলে আমরা কেন পারবো না: প্রধানমন্ত্রী(ভিডিও) ◈ আমাদের রাজনীতি হবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য: প্রধানমন্ত্রী ◈ ইরানের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরায়েলের হামলা, নিহত বেড়ে ৪০ ◈ ঈদে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রির তারিখ ঘোষণা ◈ বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্লাইট স্থগিত ◈ ফায়ার সার্ভিসের ৮ পরামর্শ ভূমিকম্পের সময় সুরক্ষিত থাকতে  ◈ ঈদযাত্রা হবে স্বস্তির ও নিরাপদ, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন: শেখ রবিউল আলম ◈ কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিশেষ সতর্কবার্তা ◈ সরকারের জরুরি চিঠি সব মন্ত্রণালয়ে

প্রকাশিত : ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০, ০৬:৫৬ সকাল
আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০, ০৬:৫৬ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] পদ্মার ভাঙনে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সীমান্তবর্তী শেষ গ্রামটিও

রাজশাহী,পদ্মার চর থেকে : [২] সীমান্তবর্তী এই গ্রামের নাম চর খানপুর।নদী ভাঙ্গনে খানপুর গ্রামের বেশির ভাগ অংশ বিলীন হয়ে গেছে। বছর দশেক আগেও গ্রামে ৩০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল।

[৩] আর এখন খানপুর গ্রামের বাসিন্দা মাত্র দেড় হাজার। পদ্মা নদী কেড়ে নিয়েছে বসতবাড়ি। তাই গ্রাম থেকে শহরে চলে গেছে হাজার হাজার মানুষ। এর আগে এই গ্রামের সীমান্তের সঙ্গেই কাতলামারি নামের অপর একটি গ্রাম ছিল।

[৪] গ্রামটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার অংশ। ওই কাতলামারি গ্রামও পদ্মার ভাঙ্গনে প্রায় বিলীন। নেই কোনো বসতবাড়ি। খালি পরে আছে প্রায় ৫০ একর পতিত জমি।

[৫] ৫০ বছর বয়সী কামরুল ইসলাম নামের গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও এখানে পাকা দালান ছিল। পাকা রাস্তা ছিল। বড় বড় বাড়ি ঘরও ছিল। বসতি ছিল হাজার ত্রিশেক মানুষের। মাঠে ধানের আবাদ থেকে শুরু করে শীতকালীন সবজির চাষ হতো এখানে। ছেলে মেয়েরা নিয়মিত স্কুলেও যেত।

[৬] কিন্তু উত্তাল পদ্মায় পাড় ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে গত বছর খিদিরপুরের শেষ চিহ্ন সীমান্ত পিলারও নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘খিদিরপুরে আমার ১০ বিঘা ধানি জমি ছিল। নিজেরই একটা পাকা বাড়ি ছিল। কিন্তু সব হারিয়ে এখন পরিবার নিয়ে খানপুরে অন্যের জমিতে কুঁড়েঘর তুলে বসবাস করছি।

[৭] পদ্মার ভাঙ্গন দেখে বোঝা যাচ্ছে আগামী বর্ষা মৌসুমে খানপুর গ্রামের বসতবাড়িগুলোও বিলীন হয়ে যাবে। তখন এই গ্রামেরও কোন অস্তিত্ব থাকবে না।’

[৮] কামাল হোসেন নামের এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা এই গ্রামের সবাই কৃষক। আমরা ধান, মসুর ডাল, কালাই চাষ করি। আমরা চাষাবাদ করে যে সবজি বাজারে নিয়ে যাই। তার লাভের বেশি অংশ চলে যায় নৌকা বা ট্রলার ভাড়ায়। এই গ্রাম থেকে রাজশাহী শহরে যেতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা ।

[৯] নৌকা বা ট্রলার ভাড়াও অনেক বেশি।’ তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামে যেহেতু মানুষের সংখ্যা কম। তাই স্থানীয় কোন বাজার বসে না। সকল প্রয়োজনেই ছুটে যেতে হয় রাজশাহীতে।’ একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিজিবি খানপুর ক্যাম্পের কমান্ডার মানিক দেবনাথ।

[১০] তিনি বলেন, ‘পদ্মার ভাঙ্গনে এই গ্রামের অধিকাংশ তো চলে গেছে। আগামীতে এমন ভাঙ্গনের ফলে এই অল্প জায়গাটুকুও বিলীন হয়ে যেতে পারে। তখন এই গ্রামের কোন অস্তিত্বই হয়তো থাকবে না।’

[১১] এছাড়া বিজিবির এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ভাঙ্গনের ফলে হয়তোবা আমাদের এই ক্যাম্পও থাকবে না। আর এই অংশটুকু ভেঙ্গে গেলে পরের জায়গাটা ভারতের। তখন নদী গ্রামটি ভেদ করে ভারতে প্রবেশ করবে।’ সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়