শিরোনাম
◈ হাত-পাবিহীন শিশুর জন্ম: বাবা বললেন ফেলে দিতে, সন্তানের পাশে দাঁড়ালেন মা; হাসপাতালের মানবিক সহায়তা ◈ রিশাদ হো‌সে‌নে মুগ্ধ ‌নিউজিল‌্যা‌ন্ডের ইশ সোধি ◈ নানক-তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি আজ ◈ হামাসের কমান্ডারসহ ৩ যোদ্ধাকে হত্যার দাবি ইসরাইলের ◈ সাংবাদিকদের সঙ্গে নৈশভোজের সময় হটাৎ গোলাগুলি, নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হলো ট্রাম্পকে (ভিডিও) ◈ সোমবার থেকে ভারি বৃষ্টির আভাস, উত্তর-পূর্বে বন্যার শঙ্কা ◈ স্কুল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী ◈ ৫৫ ডিগ্রি তাপমাত্রার পূর্বাভাস দেয়নি আবহাওয়া অধিদপ্তর ◈ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থীকে খুন ছিল পূর্বপরিকল্পিত, আরও যা জানাল পুলিশ ◈ ট্রাম্প প্রশাসনের আপত্তি না মেনে মাদুরোর পক্ষে রায় দিল নিউইয়র্ক আদালত

প্রকাশিত : ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০, ০৬:৫৬ সকাল
আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০, ০৬:৫৬ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] পদ্মার ভাঙনে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সীমান্তবর্তী শেষ গ্রামটিও

রাজশাহী,পদ্মার চর থেকে : [২] সীমান্তবর্তী এই গ্রামের নাম চর খানপুর।নদী ভাঙ্গনে খানপুর গ্রামের বেশির ভাগ অংশ বিলীন হয়ে গেছে। বছর দশেক আগেও গ্রামে ৩০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল।

[৩] আর এখন খানপুর গ্রামের বাসিন্দা মাত্র দেড় হাজার। পদ্মা নদী কেড়ে নিয়েছে বসতবাড়ি। তাই গ্রাম থেকে শহরে চলে গেছে হাজার হাজার মানুষ। এর আগে এই গ্রামের সীমান্তের সঙ্গেই কাতলামারি নামের অপর একটি গ্রাম ছিল।

[৪] গ্রামটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার অংশ। ওই কাতলামারি গ্রামও পদ্মার ভাঙ্গনে প্রায় বিলীন। নেই কোনো বসতবাড়ি। খালি পরে আছে প্রায় ৫০ একর পতিত জমি।

[৫] ৫০ বছর বয়সী কামরুল ইসলাম নামের গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও এখানে পাকা দালান ছিল। পাকা রাস্তা ছিল। বড় বড় বাড়ি ঘরও ছিল। বসতি ছিল হাজার ত্রিশেক মানুষের। মাঠে ধানের আবাদ থেকে শুরু করে শীতকালীন সবজির চাষ হতো এখানে। ছেলে মেয়েরা নিয়মিত স্কুলেও যেত।

[৬] কিন্তু উত্তাল পদ্মায় পাড় ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে গত বছর খিদিরপুরের শেষ চিহ্ন সীমান্ত পিলারও নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘খিদিরপুরে আমার ১০ বিঘা ধানি জমি ছিল। নিজেরই একটা পাকা বাড়ি ছিল। কিন্তু সব হারিয়ে এখন পরিবার নিয়ে খানপুরে অন্যের জমিতে কুঁড়েঘর তুলে বসবাস করছি।

[৭] পদ্মার ভাঙ্গন দেখে বোঝা যাচ্ছে আগামী বর্ষা মৌসুমে খানপুর গ্রামের বসতবাড়িগুলোও বিলীন হয়ে যাবে। তখন এই গ্রামেরও কোন অস্তিত্ব থাকবে না।’

[৮] কামাল হোসেন নামের এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা এই গ্রামের সবাই কৃষক। আমরা ধান, মসুর ডাল, কালাই চাষ করি। আমরা চাষাবাদ করে যে সবজি বাজারে নিয়ে যাই। তার লাভের বেশি অংশ চলে যায় নৌকা বা ট্রলার ভাড়ায়। এই গ্রাম থেকে রাজশাহী শহরে যেতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা ।

[৯] নৌকা বা ট্রলার ভাড়াও অনেক বেশি।’ তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামে যেহেতু মানুষের সংখ্যা কম। তাই স্থানীয় কোন বাজার বসে না। সকল প্রয়োজনেই ছুটে যেতে হয় রাজশাহীতে।’ একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিজিবি খানপুর ক্যাম্পের কমান্ডার মানিক দেবনাথ।

[১০] তিনি বলেন, ‘পদ্মার ভাঙ্গনে এই গ্রামের অধিকাংশ তো চলে গেছে। আগামীতে এমন ভাঙ্গনের ফলে এই অল্প জায়গাটুকুও বিলীন হয়ে যেতে পারে। তখন এই গ্রামের কোন অস্তিত্বই হয়তো থাকবে না।’

[১১] এছাড়া বিজিবির এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ভাঙ্গনের ফলে হয়তোবা আমাদের এই ক্যাম্পও থাকবে না। আর এই অংশটুকু ভেঙ্গে গেলে পরের জায়গাটা ভারতের। তখন নদী গ্রামটি ভেদ করে ভারতে প্রবেশ করবে।’ সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়