প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিজানুর রহমান মিলন: ইরানের সাথে যুদ্ধ অতো সহজ নয়!

মিজানুর রহমান মিলন: বেশ কয়েকদিন আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সৌদি আরব সফরে গিয়েছিলেন। সৌদি আরবের নিওম সিটিতে এমবিএস, পম্পেও এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন খবর প্রচারিত হয়েছে। যদিও পরিস্থিতির চাপে সৌদি আরব নেতানিয়াহুর উপস্থিতি অস্বীকার করেছে, কিন্তু ঘটনার সমস্ত আলামত ও ইসরায়েলি মন্ত্রীসভার সদস্যের সাক্ষ্য এবং মার্কিন ও ইসরায়েলি বিভিন্ন মিডিয়া এ কথা স্পষ্ট করে যে সেদিন নেতানিয়াহু ওই বৈঠকে উপস্থিতিই ছিলো। পম্পের সফর সঙ্গী সাংবাদিকদের বিমানবন্দরে টারমাকের বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি। বৈঠকস্থলে যেহেতু কোনো সাংবাদিক উপস্থিত ছিলো না সেহেতু তাদের মধ্যে ঠিক কি নিয়ে আলোচনা হয়েছে ভবিষ্যতে ফাঁস না হলে তা জানা সম্ভব নয়। তবে আন্তর্জাতিক বিষয়ে যারা ওয়াকিবহাল এবং টুকটাক খোঁজ খবর রাখেন তাদের পক্ষে সেই ঘটনার সূরতহাল অনুমান করা মোটেই অসম্ভব নয়। সেদিনের ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় মাইক পম্পে ও নেতানিয়াহু এমবিএসকে প্রচণ্ড চাপ দেন ট্রাম্পের দুই মাসের সময়ের মধ্যে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে প্রকাশ্য কূটনৈতিকসহ সকল ধরণের সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। না হলে এমবিএসকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করে দেন। জবাবে এমবিএস বলেন, আরব আমিরাত, বাহরাইন ও সুদান কি এমনি এমনি স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা আমার নির্দেশই স্বীকৃতি দিয়েছে। আর নতুন আব্বা হুজুর বাইডেন ক্ষমতায় আসতেছে। তিনি কি নির্দেশ দেন তার অপেক্ষায় থাকবো আমি। স্বীকৃতি দিতে হলে নতুন আব্বা হুজুর ক্ষমতা নেওয়ার পর দিবো। নেতানিয়াহু বলেন, বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর আপনার রাজা হওয়ার সম্ভবনা অনিশ্চিত হয়ে যাবে। এটা কি জানেন আপনি। এমবিএস বলেন, নতুন আব্বা হুজুরকে ম্যানেজ করে নেব। (এরপর মুচকি হাসি।) এবার উল্টো এমবিএস অভিযোগ করলো। আপনাদের কথায় ইয়েমেনে হামলা শুরু করেছিলাম। আপনারা বলেছিলেন মাত্র তিনদিনেই হুথিরা ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু কী হলো, হুথিরা আগের চেয়ে তো এখন অনেক শক্তিশালী। তারা এখন আমাদের তেল ক্ষেত্র আরামকোতে মিসাইল হামলা করতেছে। নেতানিয়াহু জবাবে বললেন, আরে মূল সমস্যা তো ইরান। ইরান হুথিদের সহায়তা না করলে হুথিরা তিনদিনেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতো। যা বলেছিলাম ঠিকই বলেছিলাম। তাই তো আপনাদেরকে কতোবার বলেছি ইরানকে শেষ করে দেন। ইরানে হামলা করেন। আপনারা তো কিছুই করতে পারলেন না। দিন দিন ইরান শক্তিশালী হয়ে যাচ্ছে। ইরানই আমাদের একমাত্র মাথা-ব্যথা। ইরান পরমাণু বোমা বানালে কিন্তু আমাদের সবার বিপদ। ইরানকে নিয়ে ভাবেন যোগ করলেন এমবিএস। সঙ্গে সঙ্গে নেতানিয়াহু এমবিএসের কথা সমর্থন করলো। পম্পেওকে উদ্দেশ্য করে নেতানিয়াহু বললেন, এমবিএস তো ঠিকই বলেছে। পম্পেও বললেন, কিছুই করিনি মানে। পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে আসলাম। জেনারেল কাশেম সোলায়মানিকে হত্যা করা হলো। ইরানের ওপর ইতিহাসের নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এতে তো ইরান শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু আর না। আমি এই সময়ে ইরানে হামলা চাই। ইরানের সাথে একটা যুদ্ধ চাই। যোগ করলেন এমবিএস। সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে উঠলো নেতানিয়াহু। পম্পেও বললেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অতো সহজ নয়। তবে ট্রাম্পের এই স্বল্প সময়ে অন্যভাবে ইরানকে ঘায়েল করতে হবে। আমরা বেশ কয়েক বছর ধরে ইরানের বেশ কয়েকজন পরমাণু বিজ্ঞানী গুপ্ত হত্যা করেছি। মোসাদকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছি। আপনার অনুমতি পেলেই আবারও এই কার্যক্রম শুরু করবো। পম্পেওকে উদ্দেশ্য করে নেতানিয়াহু। পম্পেও বললেন, প্রস্তাবটা অতি পছন্দ হয়েছে। আমেরিকায় এই সময়ে ক্ষমতার পালা বদল হতে যাচ্ছে। তাই ধারণা করছি ইরান এই সময়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুলবে না। এমবিএস ও নেতানিয়াহু সহমত পোষণ করলো। (মিটিং সমাপ্ত।) ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত