শিরোনাম
◈ কক্সবাজারের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা, শিথিল হতে পারে ৫০ ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ ◈ বিশ্বকাপের চমকে ট্রান্সফারমার্কেটে ভোজিনিয়ার দাম বাড়ল ৯০০ শতাংশ ◈ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ, যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (ভিডিও) ◈ সৌদির পারমাণবিক চুক্তিতে ট্রাম্পের নতুন শর্ত ◈ যেভাবে সিআইএ’র গোপন স্থাপনায় নিখুঁত হামলা চালাচ্ছে ইরান: রিপোর্ট ◈ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবর: থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার ◈ স্পেন ও আর্জেন্টিনার ম‌ধ্যে বিশ্বকাপ ফাইনাল পূণরায় আয়োজনের দাবি, অনলাইনে ৬২ হাজারো ভক্তের স্বাক্ষর   ◈ রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কী হবে? ◈ তিন ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠাল সরকার ◈ আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম 

প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১০:৫৮ দুপুর
আপডেট : ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১০:৫৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আসিফ আকবর: একসময় বাংলাদেশ থেকে শিল্পীরা যেতেন বিদেশে শো করতে, আর এখন বিদেশ থেকে আমাদের গুণী শিল্পীরা দেশে আসেন শো করতে!

আসিফ আকবর : গান গাওয়ার জন্য ঢাকায় এসে প্রথমেই পরিচিত হয়েছি গুণী সঙ্গীতশিল্পী আলম আরা মিনু আপার সাথে। ১৯৯৭ সালের শেষের দিকে তার বাসার দেওয়ালে টানানো একটা বাঁধাই করা পোস্টার দেখলাম। কিছু বছর আগে তিনি আরও বড় তারকাদের সাথে লন্ডনে শো করতে গিয়েছিলেন। মিনু আপা সবসময়ই আন্তরিক ব্যবহার করতেন। বলতে গেলে তার সাথেই প্রথম স্টেজ শো করার সুযোগ পাই। আমার সাউন্ডের ব্যবসা ছিলো, মিনু আপা তার শোতে আমাকেই কাজ করার সুযোগ দিতেন। ওই পোস্টারটা আমার মনে গোপন ইচ্ছার বীজ বপন করে। আমিও স্বপ্ন দেখা শুরু করি দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়িয়ে শো করার। ও প্রিয়ার পর সেই স্বপ্ন হাতে ধরা দেয়।

ধুন্ধুমার শো আর রেকর্ডিং করা শুরু করি। আমার নাম ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। সিনিয়র মিউজিশিয়ানরা যারা বাজাতেন আমার সঙ্গে তারাও ব্যস্ত ছিলেন অন্যান্য বড় বড় তারকাদের সাথে। আস্তে আস্তে শুরু হলো অধঃপতন। মিউজিক ট্র্যাক নিয়ে কিছু সিনিয়র গায়ক গায়িকা বিদেশ সফর শুরু করলেন। মিউজিশিয়ান নিতে চায় না বাইরের প্রমোটররা। এমনকি কিছু ব্যান্ড তারকাও একা একা সফর শুরু করলেন। আমিও একগুঁয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম যন্ত্রশিল্পী ছাড়া কোনো বিদেশ সফর নয়। বিদেশে শো কমতে থাকলো, তবুও কমিটমেন্ট থেকে নড়িনি একচুল। এর মধ্যে একটা প্রবণতা লক্ষ্য করলাম।

আমাদের শিল্পী মিউজিশিয়ানদের বড় অংশ তাদের জ্বলন্ত ক্যারিয়ার ছেড়ে বিদেশ পাড়ি জমানো শুরু করলেন ভবিষ্যত চিন্তা করে। তাদের যোগ্যতা বাংলাদেশের সিস্টেম কখনোই মূল্যায়ন করতে পারেনি। দেশে নিরাপত্তার ঘাটতি আগাম টের পেয়ে এখনো বিদেশে মাইগ্রেট করছেন বিভিন্ন অঙ্গনের শিল্পীরা। ভুরি ভুরি উদাহরণ চোখের সামনে। আমারও সুযোগ ছিলো, এখনো আছে বিদেশ পাড়ি দিয়ে নিজের ভালোটা বুঝে নেওয়ার জন্য। মন সায় দেয় না। যা হবার হবে, এই দেশে থেকেই শেষটা দেখে যাবো।

মিনু আপার বাসায় দেখা সেই পোস্টারের কথা মনে হলে হাসি পায় এখন। একসময় বাংলাদেশ থেকে শিল্পীরা যেতো বিদেশে শো করতে, আর এখন বিদেশ থেকে আমাদের গুণী শিল্পীরা দেশে আসেন শো করতে। মাত্র দুই যুগে দেখলাম মূদ্রার এপিঠওপিঠ। মূল্যায়নের সুযোগ এই দেশে পাওয়া মুশকিল। তাই শিল্পীরা তাদের ধ্যান, জ্ঞান, পেশা ছেড়ে হচ্ছেন প্রবাসী। তবুও সবার মনে আছে দেশকে ভালোবাসার প্রত্যয়। খড়গের নিচে গলা পেতে দিয়ে চলছে আমাদের জীবন, চলুক। ভালোবাসা অবিরাম, ছবি : নবীন হোসাইন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়