শিরোনাম
◈ ভারতের রাজনীতিতে ককরোচ (তেলা‌পোকা) জনতা পার্টি' কেন আলোচনায়? ◈ সা‌কিব আল হাসান সরাসরি সাইনিংয়ে জাফনা কিং‌সের হয়ে লঙ্কা প্রিমিয়ার লি‌গে খেলতে পারেন  ◈ ঈদের আগে স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস ◈ ২৮ জুন একমাত্র টেস্ট, বাংলাদেশ সিরিজের সূচি ঘোষণা করলো জিম্বাবুয়ে ◈ পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে আবারও ‘সাধারণ ক্ষমা’ সুবিধা আনছে সরকার ◈ আজ ময়মনসিংহ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করবেন খাল পুনঃখনন ও নজরুল জন্মজয়ন্তী ◈ শার্শায় পুত্রবধুকে ধর্ষনে শশুর গ্রেফতার ◈ সীমান্তে বিএসএফের খুঁটি বসানোর চেষ্টা ব্যর্থ করে দিলো বিজিবি ◈ দুই দিনে জমা ৩৩ মনোনয়নপত্র, এবার যাচাই-বাছাই, বি‌সি‌বির নির্বাচন ৭ জুন ◈ সারাদেশের ভূমি মালিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়

প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১০:৫৮ দুপুর
আপডেট : ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১০:৫৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আসিফ আকবর: একসময় বাংলাদেশ থেকে শিল্পীরা যেতেন বিদেশে শো করতে, আর এখন বিদেশ থেকে আমাদের গুণী শিল্পীরা দেশে আসেন শো করতে!

আসিফ আকবর : গান গাওয়ার জন্য ঢাকায় এসে প্রথমেই পরিচিত হয়েছি গুণী সঙ্গীতশিল্পী আলম আরা মিনু আপার সাথে। ১৯৯৭ সালের শেষের দিকে তার বাসার দেওয়ালে টানানো একটা বাঁধাই করা পোস্টার দেখলাম। কিছু বছর আগে তিনি আরও বড় তারকাদের সাথে লন্ডনে শো করতে গিয়েছিলেন। মিনু আপা সবসময়ই আন্তরিক ব্যবহার করতেন। বলতে গেলে তার সাথেই প্রথম স্টেজ শো করার সুযোগ পাই। আমার সাউন্ডের ব্যবসা ছিলো, মিনু আপা তার শোতে আমাকেই কাজ করার সুযোগ দিতেন। ওই পোস্টারটা আমার মনে গোপন ইচ্ছার বীজ বপন করে। আমিও স্বপ্ন দেখা শুরু করি দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়িয়ে শো করার। ও প্রিয়ার পর সেই স্বপ্ন হাতে ধরা দেয়।

ধুন্ধুমার শো আর রেকর্ডিং করা শুরু করি। আমার নাম ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। সিনিয়র মিউজিশিয়ানরা যারা বাজাতেন আমার সঙ্গে তারাও ব্যস্ত ছিলেন অন্যান্য বড় বড় তারকাদের সাথে। আস্তে আস্তে শুরু হলো অধঃপতন। মিউজিক ট্র্যাক নিয়ে কিছু সিনিয়র গায়ক গায়িকা বিদেশ সফর শুরু করলেন। মিউজিশিয়ান নিতে চায় না বাইরের প্রমোটররা। এমনকি কিছু ব্যান্ড তারকাও একা একা সফর শুরু করলেন। আমিও একগুঁয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম যন্ত্রশিল্পী ছাড়া কোনো বিদেশ সফর নয়। বিদেশে শো কমতে থাকলো, তবুও কমিটমেন্ট থেকে নড়িনি একচুল। এর মধ্যে একটা প্রবণতা লক্ষ্য করলাম।

আমাদের শিল্পী মিউজিশিয়ানদের বড় অংশ তাদের জ্বলন্ত ক্যারিয়ার ছেড়ে বিদেশ পাড়ি জমানো শুরু করলেন ভবিষ্যত চিন্তা করে। তাদের যোগ্যতা বাংলাদেশের সিস্টেম কখনোই মূল্যায়ন করতে পারেনি। দেশে নিরাপত্তার ঘাটতি আগাম টের পেয়ে এখনো বিদেশে মাইগ্রেট করছেন বিভিন্ন অঙ্গনের শিল্পীরা। ভুরি ভুরি উদাহরণ চোখের সামনে। আমারও সুযোগ ছিলো, এখনো আছে বিদেশ পাড়ি দিয়ে নিজের ভালোটা বুঝে নেওয়ার জন্য। মন সায় দেয় না। যা হবার হবে, এই দেশে থেকেই শেষটা দেখে যাবো।

মিনু আপার বাসায় দেখা সেই পোস্টারের কথা মনে হলে হাসি পায় এখন। একসময় বাংলাদেশ থেকে শিল্পীরা যেতো বিদেশে শো করতে, আর এখন বিদেশ থেকে আমাদের গুণী শিল্পীরা দেশে আসেন শো করতে। মাত্র দুই যুগে দেখলাম মূদ্রার এপিঠওপিঠ। মূল্যায়নের সুযোগ এই দেশে পাওয়া মুশকিল। তাই শিল্পীরা তাদের ধ্যান, জ্ঞান, পেশা ছেড়ে হচ্ছেন প্রবাসী। তবুও সবার মনে আছে দেশকে ভালোবাসার প্রত্যয়। খড়গের নিচে গলা পেতে দিয়ে চলছে আমাদের জীবন, চলুক। ভালোবাসা অবিরাম, ছবি : নবীন হোসাইন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়