প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আব্দুলাহ মামুন: ফুটবল দিয়ে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোটাই আমার জীবনে বড় অর্জন : শেষ সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনা

আব্দুলাহ মামুন : ম্যারাডোনার মৃত্যুর সংবাদে স্তম্ভিত হয়েছে পুরো বিশ্ব। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মাত্র ৬০ বছর বয়সেই প্রয়াত হয়েছেন এই ফুটবল মহারথী। ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে মৃত্যুর কিছুদিন আগেই ফ্রান্স ফুটবলকে ম্যারাডোনা দেন তার জীবনের শেষ ইন্টারভিউ। পাঠকদের জন্য তা তোলে ধরা হলো। প্রশ্ন : আপনার জীবনীগ্রন্থ (আই এম ম্যারাডোনা অব দ্য পিপল) এ বলেছেন, তারা আমাকে নিজের বাড়ি ভিলা ফিওরতিও থেকে বের করে দেয়, আমার নিতম্বে লাথি দিয়ে তারা আমায় বের করে। তারপর আমি যা পারি তাই করেছি এবং খুব একটা খারাপ করিনি।

ম্যারাডোনা: আমার ক্যারিয়ার এমনকি জীবনেও আমি অসংখ্যবার ধাক্কা খেয়েছি। মাঠেও আমাকে যেমন বারবার ল্যাং মারা হতো তেমনি জীবনেও সেটা ঘটেছে। সম্ভাব্য সব উপায়ে আমাকে ব্যথিত করা হয়েছে। কিছু মানুষ আমার পরিবার, আমার ভাই-বোন, আমার মেয়ে এমনকি নাতিকেও ছাড়েনি। তারপরও আমি যখন বিভিন্ন যুদ্ধে ছোট শিশুদের মৃত্যু দেখি তখন ভাবি, আমি ভাগ্যবান!

প্রশ্ন: দীর্ঘ সময় বাইরে কাটানোর পর আবারও কেন আর্জেন্টিনায় ফিরে এলেন? ম্যারাডোনা: ২০১০ সালে জাতীয় দলতে কোচিং করানোর পর পেশাগত কারণেই আমাকে দেশ ছাড়তে হয়। পাশাপাশি হুলিও গ্রান্দোনা (আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি) চাইতেন না আমি দেশে থাকি। ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মেক্সিকোতে কোচিং করিয়েই আমি এতবছর বাইরে পার করি। আর এখন আমি আমার দেশে, নিজের ঘরে। আমার ভাগ্যকে আবারও ধন্যবাদ যে করোনা মহামারির সময় আমি নিজের দেশে অবস্থান করছি।
প্রশ্ন: কিছুদিন পরই আপনি ৬০ তম জন্মদিন পালন করবেন।

এই সময় ১৯৭৬ থেকে ১৯৮১ আর্জেন্টিনোস জুনিয়র ও ১৯৮১ থেকে ৮২ তে বোকা জুনিয়র্সে খেলার সময়কার কোন জিনিসটি সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে? ম্যারাডোনা: ক্যারিয়ারের শুরুর সময়টায় আমার অর্জন নিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট। কেননা যারা আমার খেলা দেখতে মাঠে আসতো বা টিভিতে খেলা দেখতো তাদের আমি খুশি করতে পেরেছি, বিনোদিত করতে পেরেছি। ফুটবল দিয়ে মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছি এটাই জীবনের বড় অর্জন। প্রশ্ন: তারপর বার্সেলোনা ও নাপোলিতে থাকাকালীন ১৯৮২ থেকে ১৯৯১ পর্ন্ত আপনি জীবনের সবচেয়ে ভালো সময় পার করলেন, সবচেয়ে মন্দ সময়ও, পেলেন শিরোপা-ইনজুরি…। ম্যারাডোনা: লাতিন আমেরকিায় সেরা ফুটবলের স্বাদ নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ পেতে আমি ইউরোপে যাই। সে সময় এত দূর গিয়ে লাতিন কোন ফুটবলারের ভালো করা সহজ বিষয় ছিলনা। আমি এই ঝুঁকিটা নেই এবং নিজের সর্বোচ্চ ঢেলে দেই। যা আমি সবসময়ই করে এসেছি।

প্রশ্ন: ১৯৮৯ সালে আপনি ফ্রান্সের অলিম্পিক মার্শেইতে প্রায় চলে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পরে সেটা কেন হয়নি? ম্যারাডোনা: হ্যাঁ হ্যাঁ খুব ভালো ভাবেই মনে আছে আমার বিষয়টি। ১৯৮৯ সালে মার্শেই এর প্রেসিডেন্ট আমার কাছে একটি প্রস্তাব নিয়ে আসে। আমাকে নাপোলি থেকে দ্বিগুণ বেতন দেয়ার কথাও জানায়। আমি ক্লাব ছাড়ার কথা জানালে নাপোলির সভাপতি আমায় জানায় ক্লাব ইউরোপিয়ান কাপ জিতলে আমায় দল ছাড়ার অনুমতি দেয়া হবে। সেবছর ক্লাব ইউরোপিয়ান কাপ জিতে। তারপর আমি ইতালির মিলানে মার্শেই-এর শীর্ষ কর্তাদের সাথে সবকিছু চূড়ান্ত করি। মিলান থেকে নাপোলিতে ফিরলে ক্লাব ছাড়ার কথা জানাই। কিন্তু তখন আমায় সরাসরি না করে দেয়া হয়।

প্রশ্ন: আপনার ৬০তম জন্মদিনের সেরা উপহার কি হবে? ম্যারাডোনা: আমি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আরও একটি গোল করার স্বপ্ন দেখি। আর সেটা ডান হাতে (অট্ট হাসি)। প্রশ্ন: ১৯৯৫ সালের আগে নন-ইউরোপিয়ান ফুটবলাররা ব্যালন ডি-অর পেতোনা। কিন্তু সেবছর ফ্রান্স ফুটবল আপনাকে একটি সম্মানজনক ব্যালন ডি-অর দেয়। এই পুরস্কার আপনার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ? ম্যারাডোনা: অনেক বেশি! তার আগে লাতিন ফুটবলাররা এই পুরস্কার পেতনা। না হয় আমি অবশ্যই কয়েকটি জিততাম। ফ্রান্স ফুটবলের পুরস্কারে আমি সম্মনিত বোধ করি। এটা আমার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি।

প্রশ্ন: কার খেলা আপনাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়? ম্যারাডোনা: মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এই দুইজনের কাছাকাছি মানেরও কেউ বর্তমানে নেই। তাদের অর্ধেকও এখন পর্ন্ত কেউ করতে পারেনি। প্রশ্ন: কিলিয়ান এমবাপ্পেকে আপনি কীভাবে দেখেন? ম্যারাডোনা: সে তো এখনও বাচ্চা। তাকে অনেক ম্যাচ খেলতে হবে। তবে সে প্রতিভাবান। তাকে ইনজুরি নিয়ে সাবধান হতে হবে। প্রশ্ন: আপনারে কাছে বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে?

ম্যারাডোনা: প্রথমত অনেক অসাধারণ ফুটবলারকে আমি দেখিনি। আমরা ছোটবেলায় আর্জেন্টিনার গোলকিপার আমেদিও কারিজো (১৯৫৮ বিশ্বকাপ খেলা) এর প্রশংসা সব জায়গায় শুনেছি। এছাড়া আছেন ফ্রাঞ্জ বাকেনবাওয়ার। আর ডিফেন্ডার রবার্তো পারফুমা। যার কথা হয়তো কারও মনে নেই। তবে আমাদের সময় সে ছিল সেরা ডিফেন্ডার। আর বর্তমান সময়ের সেরা মিডফিল্ডার জাভি ও লুকা মদরিচ আর আক্রমণে মেসি, রোনালদো।
প্রশ্ন: জিনেদিন জিদান, গাব্রিয়াল বাতিস্তুতা, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকা ফুটবলার আপনাকে কিংবদন্তী মনে করে। এটা আপনাকে কতটা ছুঁয়ে যায়? ম্যারাডোনা: তারকারা যখন আমায় ভালোবেসে এমন কথা বলে তখন নিজেকে খুব সম্মানিত অনুভব করি। তাদের সবার সাথেই আমার আন্তরিক সম্পর্ক আছে। আর আমার ৬০ তম জন্মদনি উপলক্ষে ফ্রান্স ফুটবলের সাথে কথা বলতে পেরেও আমি সত্যিই খুব আনন্দিত। অপরাজিত বাংলা।

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত