প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিভিন্ন বিবেচনায় অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনই সবচেয়ে সুবিধাজনক : পাপন

নাঈমুল ইসলাম খান : [২] আগামী এক বছরের মধ্যে ভালো গুনগতমানের এবং সাশ্রয়ী মূল্যে আরও ভ্যাকসিন বাজারে আসবে। কিন্তু প্রথম পর্যায়ে অর্থাৎ ২০২১ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশের জন্য অন্য কোনো বিকল্প নেই দেখা যাচ্ছে।

[৩] বাংলাদেশ ঔষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন (এমপি) এ বিষয়ে আমাদের অনেকখানি ধারণা দিয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য সূত্রেও আমরা তথ্যানুসন্ধান করেছি।

[৪] অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। সংরক্ষণ ও পরিবহনে এর জন্য তাপমাত্রা বজায় রাখতে হয় ৪ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। বাংলাদেশের জন্য প্রতি ডোজ ভ্যাকসিনের দাম মাত্র ৪ ডলার। এই ভ্যাকসিন অন্যান্য শীর্ষ ভ্যাকসিনের মতো জরুরি ব্যবহার অনুমোদন পাওয়ার দ্বার প্রান্তে।

[৫] যে সমস্ত দেশ বা সংস্থা ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে মিলিয়ন থেকে বিলিয়ন ডলার ঝুঁকি যুক্ত বিনিয়োগ করেছিলেন কেবল তারাই ২.৫ থেকে ৪ ডলার দামে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন পাচ্ছেন। বাংলাদেশ পাচ্ছে সেই সেরা দামেঝুঁকি বিনিয়োগ না করেই।

[৬] জনসন অ্যান্ড জনসনের যে ভ্যাকসিন আসার কথা সেটা সংরক্ষণ ও পরিবহন তাপমাত্রা বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক। কিন্তু এর তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল শেষ হতে দেরী হবে এবং প্রতি ডোজ এর দাম ১০ ডলার। সুতরাং বাংলাদেশের জন্য দামটা বেশি।

[৭] চীনের সিনোভ্যাক ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করতে হয় ২ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে, এটা বাংলাদেশের জন্য ঠিক আছে। কিন্তু তাদের দাম ১৩ থেকে ১৫ ডলারের মধ্যে যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত বেশি এবং সবচেয়ে বড় কথা তাদের তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল এখনও শেষ হয়নি। সুতরাং অনুমোদন পেতে বেশ দেরি হবে।

[৮] ফাইজারের ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা বলা হচ্ছে ৯৫ শতাংশ কিন্তু এর সংরক্ষণ ও পরিবহন করতে হয় তাপমাত্রা (-২০) থেকে (-৪০) ডিগ্রির মধ্যে। এ ধরনের ভ্যাকসিনকে বলা হয় সাব জিরো ভ্যাকসিন। অর্থাৎ জিরো ডিগ্রির নিচে। কিন্তু এইরকম সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাংলাদেশে নেই, যদি নতুন করে এই সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি করতে হয় তাহলে ব্যয় হবে কমপক্ষে ২২ হাজার কোটি টাকা। এটি তৈরি করার টাকা এবং সময় কোনোটাই বাংলাদেশের নেই। এর প্রতি ডোজের দাম ২০ ডলার।

[৯] যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না ভ্যাকসিন ৯৫ শতাংশ কার্যকর এটাও সাব জিরো ভ্যাকসিন অর্থাৎ তাদের ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও পরিবহন করতে তাপমাত্রা লাগবে (-৭০) ডিগ্রি যা ফাইজারের মতোই এদেশে অসম্ভব, আবার দামও প্রতি ডোজ ২৫ থেকে ৩৭ ডলারের মধ্যে। তার উপরে মডার্নার ভ্যাকসিন সবটাই বিক্রি হয়ে গেছে অনেক আগেই, আগাম ঝুঁকি বিনিয়োগের মাধ্যমে, তাই মডার্নার ভ্যাকসিন নিয়ে বাংলাদেশের কোনো চিন্তা ভাবনার সুযোগ নেই।

[১০] রাশিয়ার স্পুৎনিক (ভি) ভ্যাকসিন দাবি করছে ৯২ শতাংশ কার্যকর। তারা এও দাবি করছে যে এই ভ্যাকসিন বাংলাদেশের পরিবেশে সংরক্ষণ ও পরিবহন সহজ কিন্তু দাম প্রতি ডোজ ৫০ থেকে ৭০ ডলারের মধ্যে। বাংলাদেশ এই দামে ভ্যাকসিন কেনার চিন্তাও করতে পারবে না। এই প্রতিবেদনের অনুলেখক : আব্দুল্লাহ মামুন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত