প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী : জঙ্গি-সন্ত্রাস, আমাদের সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সফল পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল

দীপক চৌধুরী: বাংলাদেশে স্পর্শকাতর বিষয় জঙ্গি। আবার জঙ্গি ইস্যু আলোচনায় এসেছে। কিছুদিন আগেও এটি ‘অনুপস্থিত’ ছিল। এ দেশের রাজনীতিতে ‘জঙ্গি’ কারণ-অকারণে পরিকল্পিতভাবে প্রবেশ করে। সাধারণ মানুষের কাছে যা আতঙ্কের বিষয়, অনেকের কাছে তা ‘খেলনা’র বিষয়। কারো কারো কাছে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে জঙ্গি। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর অনেকে খুশি হয়, বাহ্ বাহ্ করে হাততালি দিয়ে থাকে। এই ‘জঙ্গি’ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে, গ্রাস করেছে এর প্রশাসনিক দক্ষতা, সুনাম নষ্ট করেছে দেশটির। সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) আঞ্চলিক আমীর ও সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব সদর দফতর ও রাজশাহীর র‌্যাব-৫ যৌথভাবে অভিযান দুটি পরিচালনা করে। অভিযানে কোনো রকম ঢিলেমি চলবে না।

আমরা ইতিবাচক সাংবাদিকতা করতে কম পছন্দ করি। ‘মারদাঙ্গা মার্কা’ রিপোর্ট করতেই বেশি আগ্রহী। আমার মনে হচ্ছে, শুধু নেতিবাচক রিপোর্ট নয়, ইতিবাচক রিপোর্টও করা প্রয়োজন। জঙ্গিবাদের বিষয়ে আমরা অনেক সফল হয়েছি। জঙ্গি-সন্ত্রাস নিয়ে অতীতের আতঙ্কভরা নানাকাহিনী আমাদের চোখের সামনে জ্বলজ্বল করছে। সেই বিবেচনায় আমরা কৃতকার্য।

উগ্রবাদ ক্ষমতা পরিবর্তন করতে পারে না। উগ্রবাদ-জঙ্গিবাদের একমাত্র চরিত্র-বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- অশান্তি সৃষ্টি করা। যদিও আমরা জানি, সংশ্লিষ্ট পুলিশের প্রতিরোধের মুখে অনেকটাই এখন সংকুচিত তারা। কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না, সতর্কতার দুর্বল পথে জঙ্গিরা প্রবেশ করার সুযোগ খুঁজে থাকে। সুতরাং সামাজিকভাবে জঙ্গিদমন উত্তম পদক্ষেপ। জঙ্গিবাদকে নিয়ন্ত্রণ করতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সম্পৃক্ততার প্রয়োজন জরুরি। প্রমাণ হয়েছে তৃণমূলের গ্রাম-মুরুব্বী, গাঁওবুড়া, শিক্ষক, মাদ্রাসা শিক্ষক, গ্রাম পুলিশ সকলেরই অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এখন ‘নীরব’ ইস্যু জঙ্গিবাদ। এদের ভয়ঙ্কর উত্থান থামাতে পুলিশের অনেকেই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। অনেকের মধ্যে সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা, নূর মোহাম্মদ, একে এম শহীদুল হক, ড. জাবেদ পাটোয়ারী, বর্তমান আইজিপি ড. বেনজির আহমেদের নাম আমরা জানি। এর বাইরেও জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে- তৃণমূলের মসজিদের ইমাম, উদার সামাজিক ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, টিভি ব্যক্তিত্ব, লেখক-কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিকসহ সমাজের অনেকেই সোচ্চার হয়েছেন। সুতরাং এটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা সবসময়ই দরকার ছিল, আছে এবং থাকবেও। জঙ্গিদের ভয়ঙ্কর উত্থান আমরা দেখেছি পহেলা বৈশাখ উদযাপনের দিন; তাও কুড়ি বছর আগে। যদিও এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি, ধর্ষণ নিয়ে তুল কালাম কাণ্ড চলছে। দেশে ‘ধর্ষণ’ কি নতুন আবির্ভাব? কিছুদিন ধরে যেন ঝড় উঠছে সর্বত্র। আমরা সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ছি। শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে মৃত্যুদণ্ড আইন হয়েছে।

বাংলাদেশে জঙ্গিদের উত্থান ঘটে কয়েকদশক আগে। কখনো কল্পনায় ছিল না এদেশে জঙ্গিদের দমনের জন্য পৃথক পুলিশ ইউনিট করতে হবে। অথচ বাস্তবে তাই করতে হয়েছে। জঙ্গি শুরুটা ছিল গত শতকের আশির দশকে। আফগানিস্তানের যুদ্ধে যায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাংলাদেশি। তারা সেখানে প্রশিক্ষিত হয়। তাদের থেকে অন্তত আড়াই হাজার দেশে ফিরে আসে। এদের থেকেই তৈরি করা হয় হরকাতুল জিহাদ, জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের মতো জঙ্গি সংগঠন। আরও তারা নানা ব্যানারে নানা নামে নব্বই দশক থেকে শুরু করে গত দশকজুড়ে তারা নানা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে দেশজুড়ে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য তারা বোমা পুঁতে রেখেছিল। জঙ্গিরা কী করেনি? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে এখন জঙ্গিরা স্তিমিত। কিন্তু এটাও সত্য যে, তারা যেকোনো সময় সংবাদ শিরোনাম হয়ে থাকে। গবেষকরা গবেষণা করে এর বিভিন্ন কারণও পেয়েছেন। মানুষ হত্যা করে বেহেশত পাওয়া যায়- এ ধারণা থেকেই তারা বিভিন্ন ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সফলতা এসেছে দাবি করা হলেও নব্য জেএমবি এখনো নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে আছে। ভবিষ্যতে এসব জঙ্গি যাতে বড় ধরনের নাশকতা ঘটাতে না পারে, সে কারণে জঙ্গি দমনে দেশব্যাপী সমন্বিত ইউনিট গঠন করা হচ্ছে।

প্রায় বিভিন্ন সময়ের মতো, ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে (সম্ভবত) জনকণ্ঠে আমার ‘লিড’ রিপোর্ট ছিল জঙ্গি সন্ত্রাসের থাবা নিয়ে। লাল ব্যানার হেডিং। অনেক তথ্য ও সহযোগিতা পেয়েছিলাম তৎকালীন পুলিশের ডিআইজি নূর মোহম্মদের কাছ থেকে। পরবর্তীকালে তিনি আইজিপি হন, সচিব হন। বর্তমান সরকার তাকে রাষ্ট্রদূত বানিয়েছিল। এখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য। যাই হোক রিপোর্ট প্রকাশের পর ভীষণ প্রশংসিত হলাম। তৎকালীন জনকণ্ঠের চিফ রিপোর্টার আর উপদেষ্টা সম্পাদক এদেশের অত্যন্ত সম্মানিত সাংবাদিক-সম্পাদক তোয়াব খান আমার রিপোর্টের প্রশংসা করে বলেছিলেন ‘কেউ পারেনি তুমি পেরেছো।’ এখন আমাদের ওই গুরুজন একুশে পদকপ্রাপ্ত সম্পাদক তোয়াব খান। যাই হোক, আমার রিপোর্টের কারণে ও দেশ-বিদেশের চাপে জেএমবি, হরকাতুল জিহাদসহ বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। অথচ বিএনপি-জামায়াতের সবরকম সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েই জঙ্গি-সন্ত্রাসের উত্থান-পতন ঘটছিল এবং ক্রমান্বয়ে হৃষ্টপুষ্ট হচ্ছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অনেক মন্ত্রীই বিভিন্ন সময় বলেছেন, আমরা বাংলাদেশের মাটি থেকে সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও অপরাধীদের নির্মূল করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আর তাই আমরা সন্ত্রাস দমন কার্যক্রম আরো জোরদারে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট স্থাপন করেছি। এটা আমরা ভালো করেই জানি, বাংলাদেশ জঙ্গিবাদের উর্বর ভূমি নয়। এখানে জঙ্গি উৎপাদনও হয় না। উৎসস্থলও নয়। ভিনদেশের জঙ্গি-সন্ত্রাস থেকেই এই দেশের কিছু সাম্প্রদায়িক মানুষ উৎসাহ পেয়েছে। যদিও এসবের পরিণতি সম্পর্কে তাদের ধারণা নেই। বিভিন্ন দেশে থেকেই নিয়ে এসেছে প্রশিক্ষণ। পেয়েছে টাকাকড়িও। আর এটা ব্যবহার করছে এদেশের মানুষের ওপর। তবে সবচেয়ে দারুণ বা চোখে পড়ার মতো কাজ করেছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট। আমরা জানি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার এরই মধ্যে অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ, সাইবার ক্রাইম মোকাবেলা এবং সাইবার নজরদারি জোরদারে সিটিটিসি গঠন করা হয়।

২০১৬-তে ঢাকার কূটনীতিকপাড়া গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলায় ২২ জনকে হত্যার দায়ে প্রায় তিনবছর পর নব্য জেএমবির সাত সদস্যের ফাঁসির রায় দেয় আদালত। এই হামলায় দেশের বিরাট ক্ষতি হয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। জঙ্গি-সন্ত্রাসের ভয়াবহতা আমরা দেখেছি। এ বৈশ্বিক সমস্যা কীভাবে আমাদের গ্রাস করেছিল তা দেখলাম গুলশানে। দেশের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস ঘটনা ঘটায় জঙ্গিরা। এ হামলায় ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, একজন ভারতীয়, একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান দ্বৈত নাগরিক ও দু’জন বাংলাদেশিসহ মোট ২২ জনকে হত্যা করা হয়। সন্ত্রাসীদের ছোড়া ওই ঘটনায় গ্রেনডের আঘাতে প্রাণ হারান বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ ও সহকারী পুলিশ কমিশনার রবিউল ইসলাম।

এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে পাঠিয়ে দেয়ার বিষয়টি জানিয়ে কয়েকবছর আগে রাজধানীর মিন্টো রোডে এক সংবাদ সম্মেলনে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি পরিকল্পিত। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ হামলার নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি।
হোলি আর্টিজান মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম একাধিকবার সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন আলোচনায় বলেছিলেন, গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে। এখানে হামলা চালানোর জঙ্গিদের উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি অর্থাৎ আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করা। বিশ্বের বড় বড় জঙ্গি সংগঠনের অনেক অস্ত্রশস্ত্র আছে। তাই তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এসব অস্ত্রশস্ত্র এবং প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাবে– এমন ধারণা ছিল জঙ্গিদের।
জঙ্গি সংক্রান্ত মামলাগুলোর তদন্তও করে থাকে বিশেষ ইউনিট। প্রধানত তিনটি স্তরে বাংলাদেশে জঙ্গিবিরোধী ইউনিটগুলো কাজ কওে থাকে। ইন্টেলিজেন্স, প্রতিরোধ এবং অপারেশন। রাজধানী ছাড়াও বিভিন্ন জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের মামলাগুলো তদন্ত করেছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট।

জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে ‘পুলিশ অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। এর কাছে আধুনিক সরঞ্জামের পাশাপাশি সাঁজোয়া যানও থাকবে। জঙ্গি-সন্ত্রাস মোকাবিলায় বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল থাকবে এই ইউনিটে।
তবে মোটা দাগে বলতে গেলে সবসময়ই জঙ্গি বিষয়ে কাজ করা সুদক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা ‘কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম-এর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম বিপিএম-বার, পিপিএম-বার সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। তাঁর নেতৃত্বে প্রকাশ্য ও গোপনে শতাধিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে প্রিয় ও গ্রহণযোগ্য তিনি তাঁর কর্ম দক্ষতায়। অসংখ্য সফল অপারেশন করেছেন তিনি দক্ষতার সঙ্গে। কখনো কখনো আমরা নিজেরাও চমকে গেছি জঙ্গিদের ‘আস্তানা’র সন্ধান দেখে, কারণ, এখানে এটি হওয়ার কথা নয়। বলতে গেলে তাঁর নেতৃতত্বাধীন প্রতিটি অপারেশন সফল হয়েছে। স্বীকার করতেই হবে জীবন বাজি রেখে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন জঙ্গি-সন্ত্রাস দমনে। আমি তো মনে করি, জঙ্গি-সন্ত্রাস দমনে আধুনিক চিন্তার পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম। বিলম্বে হলেও তার কথাগুলোই একসময় পাই আমরা। কয়েকমাস আগে প্রকাশিত নিউজপোর্টাল ঢাকা ট্রিবিউনে তিনি এক জায়গায় বলেছিলেন, ‘আমরা মনে করি, জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু আত্মতুষ্ঠিতে ভোগার কোনো কারণ নেই।’ মনিরুল ইসলামের কাছে প্রশ্নকর্তা সাংবাদিকের জিজ্ঞাসা ছিল, “ জঙ্গি দমনে কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

মনিরুল ইসলামের জবাব ছিলো, “অপারেশনাল এপ্রোচের পাশাপাশি আমরা সফট এপ্রোচে জঙ্গিবাদ দমনে চেষ্টা করছি। কারা ভালনারেবল গ্রুপ, তাদের আইডেনটিফাইড করে সেখানে ইন্টারভেনশনের মাধ্যমে যাতে তারা জঙ্গিবাদের ফাঁদে পা না দেয় তার ব্যবস্থা করা। যারা ইতোমধ্যে রেডিকেলাইজড হয়েছে কিন্তু টেররিস্ট হয়নি, তাদেরকে ওই পর্যায়ে ইন্টারভেনশন করার পাশাপাশি যারা টেররিস্টের সাথে লিপ্ত হয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা। পাশাপাশি যারা জেলখানায় আছে, জামিনে মুক্তি পেয়েছে কিংবা সাজা খেটে বেরিয়েছে তাদেরকে ডিরেডিকেলাইজড করে রিহেবিলিটেশন করা। ইতোমধ্যে আমরা দেশব্যাপী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ারনেস বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু করেছি। সেখানে স্টেকহোল্ডার হিসেবে থাকেন গ্রামের চৌকিদার, দফাদার, ইউপি মেম্বোর, চেয়ারম্যান, টিচার, স্টুডেন্ট, সাংবাদিক, কালচারাল অ্যাক্টিভিস্ট, মাদ্রাসা স্টুডেন্ট, মাওলানা। এর পাশাপাশি ক্ষেত্র বিশেষে প্রিজন গার্ডস, আনসারকেও আমরা অ্যাওয়ারনেস বিল্ডিংয়ে নিয়ে এসেছি। যেন তারা তৃণমূল পর্যায়ে জঙ্গিবাদের বিপক্ষে কর্মকাণ্ড চালায়। জঙ্গিবাদ একটা জটিল বিষয়। এটা থেকে উত্তোরণের জন্য বেশ কিছু অ্যাকাডেমিক রিসার্চ প্রয়োজন। সে রকম বেশ কয়েকটি অ্যাকাডেমিক রিসার্চ ইতোমধ্যে সস্পন্ন হয়েছে। ৮টি রিসার্চ ফাইন্ডিংস আমরা জমা দিয়েছি। এগুলো প্রকাশের ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা মনে করি, জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু আত্মতুষ্ঠিতে ভোগার কোনো কারণ নেই। কারণ জঙ্গিবাদ একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। এটি শুধুমাত্র কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট বা পুলিশ বা ইনটেলিজেন্ট এজেন্সির একার পক্ষে এটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ বা দমন সম্ভব নয়।”

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

 

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত