প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দূর্গাপুরে ফুলকপি চাষে ভাগ্য বদল কৃষকের

মোফাজ্জল হোসেন: [২] রাজশাহীর দুর্গাপুরে শীতকালীন আগাম ফুলকপি চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক স্থানে গড়ে উঠেছে ফুলকপি পল্লী। অনুকূল আবহাওয়া ও অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় এবার এ অঞ্চলে শীতকালীন আগাম সবজি ফুলকপির ভালো ফলন হয়েছে। এ ফুলকপি চাষ করে ভাগ্য ফিরেছে এবার এ এলাকার অনেক কৃষকদের।

[৩] উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ জুড়ে এখন আগাম শীতকালীন সবজি ফুলকপির সমারোহ। শীতকালীন আগাম সবজি ফুলকপির পরিচর্যা ও উত্তোলনে ব্যস্ত কৃষক। মার্বেল, হোয়াইট ও লিনজাসহ বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল আগাম জাতের শীতকালীন ফুলকপি আবাদ করেছেন তারা। এ জাতের ফুলকপি চাষ করে তারা প্রতি বিঘা জমি থেকে লাভ করছেন প্রায় এক লাখ টাকা।

[৪] উপজেলার চুনিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক ছাতাহার আলী জানান, এবার আগাম ফুলকপি চাষ করে তারা আশানুরূপ ফলনের পাশাপাশি দামও পাচ্ছেন বেশ ভালো। প্রতি কেজি ফুলকপি ক্ষেতেই বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকা। আর বাজারে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা। তিনি আরও বলেন, এবার তিনি দেড় বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যেই ৮০ হাজার টাকার বিক্রি করেছেন তিনি। সব মিলে তার জমি থেকে দেড় লাখ টাকার মতো ফুলকপি বিক্রি হবে বলে আশা করছেন।

[৫] দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এবার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি জমিতে। এর মধ্যে আগাম জাতের ফুলকপি চাষ হয়েছে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে। উপজেলার জয়নগর, কানপাড়া, চুনিয়াপাড়া, কলনটিয়া, বাজুখলসীতে সবচেয়ে বেশি ফুলকপি চাষ হয়েছে। দাম ভালো পাওয়ায় কৃষক ক্ষেতেই বিক্রি করছেন ফুলকপি।

[৬] বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে এসব ফুলকপি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব ফুলকপি চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানে। পাইকারি ব্যবসায়ী ফজেল হোসেন বলেন, সপ্তাহে দু দিন ২-৩ ট্রাক ফুলকপি কুমিল্লা, নারায়গঞ্জ ও সিলেটে পাঠান।

[৭] বিভিন্ন জেলায় এখানকার ফুলকপির চাহিদা রয়েছে অনেক। এবার ফুলকপির ফলনও হয়েছে ভাল। দাম ভাল থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। লাভজনক ফসল হওয়ায় শীতকালীন আগাম এ ফুলকপি চাষে কৃষকদের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে আসছে কৃষি বিভাগ।

[৮] দূর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মসিউর রহমান জানান, শীতকালীন আগাম ফুলকপি চাষ করে এ অঞ্চলের কৃষকেরা ব্যাপক লাভবান হয়েছেন। এ ফুলকপির এবার ভালো দাম পাওয়ায় আগামীতে এ অঞ্চলে ফুলকপি চাষাবাদের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন তিনি। সম্পাদনা: সাদেক আলী

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত