প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মর্গে মৃত নারীদের ধর্ষণ করতেন তিনি!

সুজন কৈরী: রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে থাকা মৃত নারীদের ধর্ষণ করার অভিযোগে মুন্না ভক্ত (২০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সংস্থাটি বলছে, বিভিন্ন স্থান থেকে যেসব লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেয়া হতো, সেসব লাশের মধ্যে মৃত নারীদের ধর্ষণ করতেন মুন্না। তিনি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে ডোম জতন কুমার লালের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। জতন সম্পর্কে মুন্নার মামা। দুই-তিন বছর ধরে মুন্না এ জঘন্য কাজটি করছিলেন।

জঘন্যতম এই অপরাধের অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। শুক্রবার তাকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সিআইডি জানায়, সংস্থায় ২০১২ সালে বাংলাদেশ পুলিশের ডিএনএ ল্যাব স্থাপিত হয়। এরপর থেকে ধর্ষণ, হত্যাসহ আদালতের নির্দেশে পাঠানো সকল আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা ও প্রোফাইল তৈরি করে আসছে সংস্থাটি। গত বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের আগষ্ট পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ থেকে পাঠানো কয়েকটি হাই ভ্যাজাইনাল সোয়াবে (এইচভিএস) পুরুষ বীর্যের উপস্থিতি পাওয়ায় ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাব আলামতগুলোর পূর্নাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করে।

মোহাম্মদপুর এবং কাফরুল থানার কয়েকটি ঘটনায় প্রাপ্ত ডিএনএ প্রোফাইল গবেষণা বিশ্লেষনে একই ব্যক্তির বলে বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রতিবেদন উঠে আসে। প্রাথমিকভাবে সিআইডির অনুসন্ধানে প্রতিটি ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি দ্বারা ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা অথবা ধর্ষণ জনিত কারনে আত্মহত্যা বলে প্রতিয়মান হয়। বিষয়টি গোপন অনুসন্ধানের জন্য ঢাকা মেট্রো-পশ্চিম বিভাগকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর সিআইডির কর্মকর্তারা প্রাপ্ত আলামত ও প্রতিটি অপরাধ সংগঠনের প্রক্রিয়া বা মোডাস অপরেন্ডি পুঙ্খানুপুঙ্খ রুপে বিশ্লেষন করে এই সিদ্ধান্তে উপনিত হন যে, কোনো না কোনোভাবে ভিকটিমদের মরদেহের উপরে কোনও ব্যক্তি বিকৃত যৌন লালসা চরিতার্থ করেছেন। জানা যায়, প্রত্যেকটি দেহেরই ময়নাতদন্ত একই হাসপাতালের মর্গে করা হয়েছে। অনুসন্ধানে নতুন ইঙ্গিত বা ক্লু পাওয়ায় প্রত্যেক মরদেহ মর্গে আনার পর তার কার্যধারা বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায় সকল ক্ষেত্রেই ময়নাতদন্তের জন্য আনা লাশগুলো পরের দিন লাশ কাটার অপেক্ষায় মর্গে রেখে দেয়া হতো।

সিআইডি আরও জানায়, এরই প্রেক্ষিতে সিআইডি কর্মকর্তারা মর্গে কর্মরত ডোমদের ওই মামলার ময়নাতদন্তকালীন গতিবিধি পর্যালােচনা করে দেখেন, হাসপাতালের ডোম রাত্রীকালীন মরদেহ পাহাড়া দেয়াসহ মর্গে অবস্থান করে। বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডি। অনুসন্ধানে ডোমের সহকারি মুন্না ভক্ত এই অপরাধে জড়িত রয়েছেন বলে প্রমান পাওয়া যায়। বিষয়টি মুন্না বুঝতে পেরে গাঁ ঢাকা দিলে সিআইডির সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় এবং এর প্রেক্ষিতে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা মুন্নার ডিএনএ আলামত সংগ্রহ করে ল্যাবে সিআইডির ডিএনএ ল্যাবে পাঠান। ল্যাব থেকে প্রাপ্ত ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে এইচভিএসে থাকা ডিএনএ প্রোফাইলের সাথে মিলে যায়। এত বিজ্ঞান ভিত্তিক তদন্তে ওই ঘটনার আসামি মুন্না ভক্তের অপরাধের বিষয়টি প্রাথমিক তদন্তে প্রমানীত হয়।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার বলেন, জঘন্যতম ও খুবই বিব্রতকর একটি অভিযোগ। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতার পরই ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে যেসব লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেয়া হতো, সেসব লাশের মধ্য থেকে মৃত নারীদের ধর্ষণ করতো মুন্না।

তিনি আরও জানান, মুন্নাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে দায়িত্বরত ডোম ও মুন্নার মামা জতন কুমার লাল সাংবাদিকদের জানান, মুন্না গত দুই/তিন বছর ধরে তার সহযোগী হিসেবে মর্গে কাজ করতেন। তার বাবার নাম দুলাল ভগত। গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজারে। সে আরও দুই/তিন জনের সঙ্গে মর্গের পাশে একটি কক্ষেই রাতে থাকতো।

তিনি জানান, মুন্নার বিরুদ্ধে মৃত নারীদের ধর্ষণের অভিযোগ প্রসঙ্গে জতন লাল বলেন, মুন্না মাঝে মধ্যে গাঁজা বা নেশাটেশা করতো। কিন্তু এরকম একটি কাজ সে করতে পারে, তা ভাবতেই পারছি না।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত