প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সব উপজেলায় হচ্ছে ফায়ার স্টেশন, আগামী বছর হবে আরও ১২৯টি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সুজন কৈরী : ২০২১ সাল নাগাদ আরও ১২৯টি নতুন ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৬৫টি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২০’ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

‘প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা, প্রস্তুতি; দুর্যোগ মোকাবেলায় আনবে গতি’- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে এ বছর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ পালনের উদ্যোগের গ্রহণ করা হয়েছে। আমি মনে করি এটি একটি সময়োপযোগী প্রতিপাদ্য উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনেই প্রধানমন্ত্রী দেশের সকল উপজেলায় নূন্যতম ১টি করে ফায়ার স্টেশন নির্মাণের ঘোষণা দেন। তখন সারা দেশে ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা ছিল মাত্র ২০৪টি। বর্তমানে সারা দেশে চালু ফায়ার স্টেশন হলো ৪৩৬টি। অর্থাৎ বর্তমান সরকারের সময়ে দেশে নতুন ২৩২টি ফায়ার স্টেশন চালু করা হয়েছে। ২০২১ সাল নাগাদ আরও ১২৯টি নতুন ফায়ার স্টেশন চালু করা হবে। তখন ফায়ার স্টেশনের মোট সংখ্যা হবে ৫৬৫টি।

তিনি বলেন, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রাম শিল্পঘন এলাকাসহ রূপপুর-পাবনা পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় ১১টি মডার্ন ফায়ার স্টেশন নির্মাণ প্রকল্প অনুমােদন করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের গ্যাপ এরিয়ায় আরও ১৫৫টি ফায়ার স্টেশন স্থাপনের লক্ষ্যে ৩টি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে মোট ফায়ার স্টেশন হবে ৭২০টি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফায়ার সার্ভিসের জনবল বৃদ্ধিতেও আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছি। ২০০৯ সালে এই প্রতিষ্ঠানের মোট জনবল ছিল মাত্র ৬ হাজার ১৭৫ জন। বর্তমানে জনবল হয়েছে ১৩ হাজার ১০০ জন। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে জনবলের সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠানের জনবল ২৫ হাজারের অধিক করার জন্য অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠনের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যও বাস্তব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ১৬৯ জন সদস্যকে বিদেশে উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

বর্তমানে উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে ‘বঙ্গবন্ধু ফায়ার একাডেমি’ নামে বিশ্বমানের একটি একাডেমি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, গত বছরের ১৮ এপ্রিল ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের’ সভায় প্রধানমন্ত্রী তাতে সানুগ্রহ সম্মতি দিয়েছেন। এই একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হলে এখানে একসাথে ফায়ার সার্ভিসের ১ হাজার সদস্যকে উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া সম্ভব হবে। এখন যেমন আমাদের ফায়ারকর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য দেশের বাইরে পাঠাতে হচ্ছে। এই একাডেমি হলে বিদেশের লোক এখানে এসে উন্নত প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। ফায়ার সার্ভিসের সেই সক্ষমতা সৃষ্টি হবে। ফায়ার সার্ভিসের এখন ৬৪ মিটার বা ২০ তলা পর্যন্ত অগ্নি নির্বাপণ ও উদ্ধার কাজ করার সক্ষমতা হয়েছে। এছাড়া ৬৮ মিটার উচ্চতার লেডার সংবলিত গাড়ি ফায়ার সার্ভিসের বহরে যোগ হওয়ার অপেক্ষায় আছে। অর্থাৎ আগামী বছর ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা ২২ তলা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে।

বনানী দুর্ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী ফায়ার সার্ভিসকে ৩টি জাম্বু কুশন হস্তান্তর করেছেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফায়ার সার্ভিস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টকে তিনি ২০ কোটি টাকার অনুদান দিয়েছেন। চীন সরকার ফায়ার সার্ভিসকে ৫০টি অ্যাম্বুলেন্স, ১ হাজার ১৫০টি টু হুইলার ওয়াটার মিস্ট, ১০০টি পিকআপ টাইপ গাড়ি দিয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা ৬৩টি থেকে ১৮৫টিতে উন্নীত করা হয়েছে। দেশের সব স্টেশনে পর্যায়ক্রমে অ্যাম্বুলেন্স দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ফায়ার সার্ভিসে বিশেষ পানিবাহী গাড়ি ও ক্যামিক্যাল টেন্ডারসহ বিশেষ ধরণের গাড়ি ছিল মাত্র ৫টি। আর এখন আধুনিক সুবিধা আছে এমন বিভিন্ন ধরণের বিশেষ গাড়ির সংখ্যাই বর্তমানে ১০৮টি। সেবার সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আমরা এই প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধা বৃদ্ধির জন্যও কাজ করছি। সকল সদস্যদের জন্য পূর্ণাঙ্গ রেশন বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আমরা এই প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের জন্য প্রতি মাসে ৫ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত ঝুঁকিভাতা চালু করেছি। কর্মীদের জন্য ৩ রঙের মর্যাদাপূর্ণ নতুন পোশাক প্রবর্তন করা হয়েছে, পদকের সংখ্যা ৮টি থেকে বৃদ্ধি করে ৫০টি এবং সম্মানী ১০হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১লাখ টাকা করা হয়েছে। ফায়ারম্যানদের বেতন ১৮ তম গ্রেড থেকে ১৭তম এবং লিডারদের বেতন ১৭ থেকে ১৬তম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। আমরা স্টেশন অফিসারের পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করেছি। এভাবে সকল জেলায় প্রথম শ্রেণির পদ সৃজনসহ এই প্রতিষ্ঠানের জন্য আরও যা প্রয়োজনীয়, আমরা পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আধুনিকায়নের ফলে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মীর সক্ষমতা বেড়েছে। তারা তাদের জীবনবাজি রেখে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

মানুষ ফায়ার সার্ভিসকে বিপদের বন্ধু মনে করে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, সড়কে বা নদীতে যেখানেই দূর্ঘটনা দেখেছি সেখানেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেবা দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমি মনে করি এই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ পালনের মাধ্যমে কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের সঙ্গে জনসাধারণের সম্পৃক্ততা বাড়বে।

দেশব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২০ শুরু হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য হলো- ‘প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা, প্রস্তুতি; দুর্যোগ মোকাবেলায় আনবে গতি’। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত এই সপ্তাহ উদযাপিত হবে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারের ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ পালনের মূল লক্ষ্য জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ত করা। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী সারাদেশে নানা ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। ২১ নভেম্বর ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে পদক বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শেষ হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত