প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]রাজনীতিবিদরা নয়, বিদেশে বেশি অর্থপাচার করেন সরকারি কর্মচারীরা, বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : [২]ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রাজনীতিবিদরা নয়, বিদেশে বেশি অর্থপাচার করেন সরকারি কর্মচারীরা। গোপনে কানাডার টরেন্টোতে অবস্থিত বাংলাদেশিদের বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমার ধারণা ছিল রাজনীতিবিদদের সংখ্যা বেশি হবে। কিন্তু আমার কাছে যে তথ্য এসেছে, যদিও এটি সামগ্রিক তথ্য নয় তাতে আমি অবাক হয়েছি। সংখ্যার দিক থেকে আমাদের অনেক সরকারি কর্মচারীর বাড়িঘর সেখানে বেশি আছে এবং তাদের ছেলেমেয়েরা সেখানে থাকে। বিদেশে টাকা পাচার করছে- এমন অনেক লোক আছে এবং অনেকে তাদের ছেলেমেয়ে বিদেশে রাখছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমার কাছে ২৮টি কেস এসেছে এবং এরমধ্যে রাজনীতিবিদ হলেন চার জন। এ ছাড়া কিছু আছেন আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পের ব্যবসায়ী। আমরা আরো তথ্য সংগ্রহ করছি। শুধু কানাডা নয়, মালয়েশিয়াতেও একই অবস্থা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তবে তথ্য পাওয়া খুব কঠিন।

[৩]বিভিন্ন মিডিয়ায় যে তথ্য বের হয়, হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে, আসলে তা কত তা নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। তবে আমার ধারণা প্রচার যেভাবে হচ্ছে পাচার তত নয়। বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচার প্রশ্নে বিদেশি সরকারগুলোরও দায় রয়েছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, যেমন, সুইজারল্যান্ডে কে ব্যাংকে টাকা রাখলো, সেই তথ্য আমাদের দেয় না। তারা ট্রান্সপারেন্সির কথা বলে, কিন্তু যদি বলি কার কার টাকা আছে, সেই তথ্য দাও, তখন তারা দেয় না। এ ইস্যুতে তারা ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বলেই মনে করি আমি।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ফ্লাগশিপ প্রোগ্রাম ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডিআরইউ’র সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক, পররাষ্ট্রনীতি এবং এ সংক্রান্ত সম-সাময়িক ঘটনা নিয়ে ডিআরইউ’র মতবিনিময় অনুষ্ঠানে খোলামেলা কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। সেখানে সদ্য সমাপ্ত মার্কিন নির্বাচন এবং ৫০ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী জো বাইডেনের বিজয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন দীর্ঘ সময় জাতিসংঘে দায়িত্বপালনকারী মন্ত্রী ড. মোমেন। প্রায় সোয়া ঘণ্টার ওই আলোচনায় প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বিবদমান নানা ইস্যু, বিশেষত, বহুল আলোচিত তিস্তা চুক্তি না হওয়া, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফেরানো এবং তাদের দণ্ড কার্যকর করতে সরকারের প্রয়াসসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। মার্কিন নির্বাচন এবং দেশটির নতুন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে মোমেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সরকারকে আমরা অভিনন্দন জানাই। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট একজন পরিপক্ব রাজনীতিবিদ। উনাদের সঙ্গে আগেও কাজ করেছি। তিনি বিশ্বের জন্য একটি আশীর্বাদ মনে হয়।

কারণ, এখন হঠাৎ করে অশান্তি সৃষ্টি হবে বলে মনে হয় না, বা চমক সৃষ্টি হবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে কাজ করার আশা ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, প্রথমত তারা ব্যস্ত থাকবেন তাদের ডিভিশন তৈরি করার কাজে। আমরা আশা করি, আমাদের প্রবাসীদের মঙ্গল হবে নতুন সরকার আসার ফলে। কয়েকটি ইস্যুতে নতুন সরকারের সঙ্গে আরো গভীরভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘তার একটি হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন। কারণ, আগের সরকার বেঁকে বসেছিল। কিন্তু বাইডেন প্রতিজ্ঞা করেছেন, তারা আবারো প্যারিস চুক্তিতে ফেরত যাবেন। এটি আমাদের জন্য বড় ধরনের উপকার হবে। আমরা আশা করি, বাইডেন সরকার এ বিষয়ে যথেষ্ট নমনীয় হবে।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমেরিকান কোম্পানিগুলো এখানে আসলে তাদেরও উপকার হবে জানিয়ে ড. মোমেন বলেন, ‘বাণিজ্যক্ষেত্রে আমরা আরো ভালোভাবে কাজ করতে পারি। আমরা এখন গরিব দেশ না এবং সেজন্য এখন আমাদের অনেকে পাত্তা দেয়। মানবাধিকার বিষয়ে নতুন মার্কিন সরকার আরো তৎপর হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু মিয়ানমারে মানবাধিকার খুব বেশি ব্যাহত হয়েছে, আমাদের ধারণা নতুন সরকার এ বিষয়ে দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে। তবে আমি বলবো, ট্রাম্প সরকার রোহিঙ্গা বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক সাহায্য দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক চাপ যেটুকু দরকার ছিল, সেটি আমরা পাইনি। শুধু কয়েকজন জেনারেলকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কোনো অর্থনৈতিক অবরোধ দেয় নাই। ১৯৯২ সালে অর্থনৈতিক অবরোধ ছিল এবং সে কারণে মিয়ানমার নমনীয় ছিল। কিন্তু এখন সেগুলো নেই।

তিস্তায় সুখবর নেই, ডিসেম্বরে হাসিনা-মোদি ভার্চ্যুয়াল বৈঠক: অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে ধাকা তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে বলেন, অগ্রগতির প্রশ্নে কোনো চমক বা ম্যাজিক নেই। তার ভাষ্য- এখানে কোনো ম্যাজিক নেই। হঠাৎ করে তিস্তা সই হবে বলেও আমরা মনে করি না। তবে এটা সত্য যে, চুক্তিটির একটা খসড়া প্রস্তুত হয়েছিল, তা সইয়ে আমরা উভয়ে সম্মত হয়েছিলাম, কিন্তু তা সই হয়নি। ভারত সরকার কখনো তিস্তা চুক্তি সই করবে না। তারা যেটা বলছে- তা হলো তাদের অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যার কারণে সই করতে পারছে না। এটি ওই পর্যায়েই আছে। নতুন করে এ নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠক হবে ডিসেম্বরে। সম্ভবত এটি ১৭ই ডিসেম্বর হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বৈঠকের তারিখসহ সার্বিক আলোচনার বিষয়ে একাধিক প্রস্তাবনা রয়েছে। এখনো অনেক কিছু ঠিক হওয়ার বাকি। আগামী মাসের সূচনাতে পররাষ্ট্র সচিব ভারতে যাচ্ছেন। তখন তারিখসহ অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে জানিয়ে মন্ত্রী মোমেন বলেন, সরকার প্রধান পর্যায়ের শীর্ষ ওই বৈঠকে চারটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

বঙ্গবন্ধু খুনিদের ফেরানো প্রসঙ্গে-
বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাঁচ জন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। দুইজনের অবস্থানের বিষয়ে সরকার নিশ্চিত। একজন যুক্তরাষ্ট্রে, অপর জন কানাডায়। কানাডা বা যুক্তরাষ্ট্রে খুনিদের আশ্রয় স্থান হওয়া উচিত নয় মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, আমরা বিদেশে অবস্থিত সব মানুষকে সিগনেচার ক্যাম্পেইন করতে বলেছি, যাতে করে খুনিদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তারা আত্মস্বীকৃত খুনি। কানাডায় কাজ করছে, কিন্তু সুরাহা হয়নি জানিয়ে আব্দুল মোমেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কিছুটা আশার বাণী পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর খুনিকে যে কারণে তারা রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছিল, সেটি তারা পুনর্বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের ডিটেলইড তথ্য মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেলকে দিয়েছি।

তাদের ধারণা, আমাদের যে মামলাটি হয়েছে, সেটি ত্রুটিযুক্ত এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। আমরা তার ধারণা খণ্ডনের চেষ্টা করেছি। আমরা সব তথ্য-উপাত্ত দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। এখন সেদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেবেন। আশা করি আমরা সেই সিদ্ধান্ত খুব দ্রুতই পাবো এবং তা আমাদের আকাঙ্ক্ষার পক্ষেই থাকবে। বাকি তিন খুনির খবর বাংলাদেশ জানে না। এদেরকে খুঁজে বের করার জন্য বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশিদের ব্যবহার করার জন্য মিশন প্রধানদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিরা অবৈধভাবে যাচ্ছেন, যাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা’ আখ্যা দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লোক যাচ্ছে এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে, এটি খুবই দুঃখজনক। এভাবে গেলে দেশের বদনাম হয়। তাদের অবস্থাও খারাপ থাকে। যারা বিদেশে লোক পাঠাচ্ছে শুধু তাদের নয়, যারা যাচ্ছে তাদের এবং তাদের পরিবার, যারা তাদেরকে উৎসাহিত করে যাওয়ার জন্য, তাদেরকেও আমরা আইনের আওতায় আনবো। একজন ৭-৮ লাখ টাকা খরচ করে যায়। এই টাকা দিয়ে তারা দেশে ব্যবসা করতে পারতো বলে মনে করেন তিনি। মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত