প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চট্টগ্রামে এক পুলিশের নাক ফাটালেন আরেক পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট : চট্টগ্রামে এবার ঘুষি মেরে পুলিশ পরিদর্শকের নাক ফাটিয়েছেন এক উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই)। শুধু নাক ফাটিয়ে ক্ষান্ত হননি তিনি। পুলিশ পরিদর্শককে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে টানাহেঁচড়া করা হয়। পরে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিটমাট করা হলেও বহাল তবিয়তে আছেন কোতোয়ালী থানার সিআরবি ফাঁড়ির ইনচার্জ সেই এসআই রবিউল ইসলাম। এদিকে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ঘটনা দামাচাপা দিতে তৎপর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নগরের রিয়াজুদ্দিন বাজারের প্যারামাউন্ট সিটি নামে একটি বিপণি বিতানের নিচ তলায় এ ঘটনা ঘটে। পূর্বপশ্চিম

মারধরের শিকার হয়েছেন নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের (সিটি) পরিদর্শক আফতাব হোসেন। গত ২৫ অক্টোবর বিকালে এ ঘটনা ঘটলেও শনিবার চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবর অভিযোগ দেন মারধরের শিকার ওই কর্মকর্তা।

সিনিয়র কর্মকর্তার সঙ্গে জুনিয়র কর্মকর্তার এমন আচরণে ক্ষুব্ধ নগর পুলিশের বিভিন্ন শ্রেণির সদস্যরা। ঘটনার পর তাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ পরিদর্শক আফতাব নগর পুলিশে চৌকষ ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। জঙ্গি দমন অভিযানের জন্য পুরস্কৃতও হন তিনি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তার সহকর্মীরা। তারা বলছেন, ‘এ ঘটনার বিচার না হলে উর্ধ্বতন ও অধস্তনদের মধ্যে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়বে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, ‘এ ধরণের কোন অভিযোগ আমার কাছে এসেছে কিনা এ মুহূর্তে মনে করতে পারছি না। যদি এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশ কমিশনার বরাবর করা অভিযোগে আফতাব হোসেন উল্লেখ করেন, গত ২৫ অক্টোবর বিকালে সদ্য জন্ম নেওয়া সন্তানের আকিকার জন্য বাজার করতে তার পরিচিত হাসান নামে এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে রিয়াজউদ্দিন বাজার যান তিনি। সাড়ে চারটার দিকে প্যারামাউন্ট সিটি বিপণি বিতানের নীচতলায় বাজার করা অবস্থায় ৮-১০ জন ব্যক্তি আসে। এরমধ্যে একজন তার হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। নিজের পরিচয় ও তার হাতে থাকা ওয়াকিটকি দেখিয়ে হ্যান্ডকাপ লাগানোর কারণ জানতে চাইলে সাদা পোশাকে থাকা এসআই রবিউল তার নাকে ঘুষি মারেন। এতে নাক ফেটে রক্তাক্ত হন তিনি। এ সময় কোতোয়ালী থানার এএসআই অনুপও উপস্থিত ছিলেন। পরে কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক তদন্তের সঙ্গে কথা বলে আফতাবের হাতকড়া খুলে দেয় রবিউল। একপর্যায়ে ওখান থেকে তাকে ও হাসানকে কোতোয়ালী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জানতে পারেন একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করে মারধর করা হয়েছে। অভিযোগে আফতাব পেশাগত জীবনে তার অর্জন তুলে ধরে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশ কমিশনারের কাছে সুবিচার প্রত্যাশা করেছেন।

অভিযোগ ছাড়াই পুলিশ পরিদর্শককে ছিনতাইকারী সন্দেহ: পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২২ অক্টোবর বিকালে নগরের আটমার্সিং মোড়ে নূর আহাম্মদ নামে ৬৫ বছর বয়সী রিয়াজউদ্দিন বাজারের এক ব্যবসায়ীকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বাস থেকে নামানো হয়। এরপর একটি প্রাইভেট কারে তুলে লালখানবাজার ফ্লাইওভারে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করে তার কাছে থাকা ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় ডিবি পুলিশ পরিচয় দেওয়া লোক ও কারের চালক। পরে তাকে মুরাদপুর এলাকায় নামিয়ে দেয় তারা। বিষয়টি নিয়ে কোন মামলায় করেননি তিনি। ব্যবসায়ী নূর আহাম্মদ বাসায় গিয়ে তার ছেলে রাসেলকে ছিনতাইকারীদের বর্ণনা দেন। পুলিশ পরিদর্শক আফতাব ও হাসানকে রিয়াজউদ্দিনবাজারে বাজার করতে দেখে ওই ব্যক্তির ছেলে মো. রাসেল তাদের দুইজনকে ছিনতাইকারী হিসেবে শনাক্ত করে এসআই রবিউলকে খবর দেন। এসআই রবিউল ঘটনাস্থলে এসে কোন যাচাই-বাছাই ছাড়াই আফতাব ও হাসানকে হাতকড়া পড়ান। পরিচয় পাওয়ার পরও আফতাবকে মারধর করেন। বারবার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেন। বিষয়টি পুলিশ কমিশনার পর্যন্ত গড়ায়। পরে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আফতাবের বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ ও হাসানের কললিস্ট পর্যালোচনা করে দেখেন, ২২ অক্টোবর সারাদিন বৃষ্টি হওয়ায় বাসায় ছিলেন আফতাব। হাসানও ছিলেন তার কর্ণফুলী থানা এলাকার বাসায়। পরে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে রাসেল স্বীকার করেন, তার বৃদ্ধ বাবার বর্ণনা অনুযায়ী তাদেরকে তারা ছিনতাইকারী হিসেবে সন্দেহ করেছিলেন। এ ঘটনায় আফতাব ও হাসান জড়িত নয় বলে লিখিত দেন।

মামলার আগেই তদন্ত: নিয়ম অনুযায়ী মামলার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। অনেক ক্ষেত্রে মামলার পরও দিনের পর দিন পার হয়ে যায় তদন্ত আলোর মুখ দেখে না। এক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো। গত ২২ অক্টোবর ছিনতাই হয়েছে দাবি করা হলেও থানায় মামলা হয়েছে চারদিন পর ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টায়। আবার লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়ার আগেই ২৫ অক্টোবর ছিনতাইকারী সন্দেহে এক পুলিশ পরিদর্শক ও তার সঙ্গীকে আটক করে মারধর করেন এসআই রবিউল।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রবিউল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ পরিদর্শককে মারধরের কোন ঘটনা আমার জানা নেই।’ একই বক্তব্য দিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীনও। তবে তিনি বলেন, ‘ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। বাদী বিভিন্নজনকে সন্দেহের কথা বলছেন। আমরা সবগুলো বিষয় যাচাই-বাছাই করে দেখছি।’

যার দেওয়া খবর পেয়ে মামলার আগেই এসআই রবিউল ছুটে গিয়ে পরিদর্শককে মারধর করেন সেই মো. রাসেল বলেন, ‘সব বিষয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কোন মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’

সর্বাধিক পঠিত