প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] হেমন্ত ঋতু মানেই রূপবৈচিত্রের কুয়াশা বিছানো সোনালী ধানের ঢেউ

শাহীন খন্দকার : [২] বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ হলেও মূলত পাঁচটি ঋতুই দৃশ্যমান। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, শীত ও বসন্তকাল। প্রতিটি ঋতুর আয়ুস্কাল দু’মাস। সে ক্ষেত্রে কার্তিক ও অগ্রহায়ণ হচ্ছে হেমন্ত ঋতু । অর্থাৎ শরতের বর্ধিত অংশই হেমন্ত। প্রকৃতির রূপবৈচিত্রের মাঝে শরৎ ও শীতের মাঝখানে হেমন্ত যেন অনেকটাই নিজেকে সেতু হিসেবে বিছিয়ে দিয়েই তার সরব উপস্থিতির জানান দেয়।

[৩] ফুলের পরাগরেণুর মতো কুয়াশা বিছানো ঘাসের ডগা, কাঁচা-পাকা ধানের শরীরজুড়ে জমে থাকা শিশির বিন্দু সোনালী রোদের মুক্তোর ঝিলিক, উত্তরের বাতাসে সোনালি ধানের ঢেউ খেলার দোল অপরূপ দৃশ্যের মাঝে মনে করিয়ে দেয় হেমন্ত এসে গেছে। ফসলের মাঠজুড়ে ধান কাটার উৎসব, কৃষকের চোখে মুখে পরিতৃপ্তির হাসি, বিলে হাওরে নদীতে মাছ ধরবে বলে ব্যস্ত কৃষক। আর গোলায় ধান তুলবে কৃষাণীর নোলক দোলানো যেন খুশির অপরূপ ঢেউ খেলা নদী। এ সবকিছুই হেমন্তের বৈশিষ্ট্য। মাঠে মাঠে ধান কাটার নবান্ন উৎসব।

[৪] এই হচ্ছে আবহমান বাংলার চিরায়ত হেমন্ত। তাইতো হেমন্তের আগমনে নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধে জেগে ওঠে প্রকৃতি। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গ্রাম মোহনীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঢাকা। প্রতিটি ঋতুর পরিবর্তনের সাথে গ্রাম পাল্টায় তার রূপ-রং। শীতের আগমনী এ ঋতু নিয়ে আসে প্রকৃতির নৈসর্গিক হৃদয় ভোলা আবহাওয়া। ঋতুর পরিবর্তনের সাথে সাথে শুধু গ্রাম পাল্টায় না, প্রকৃতির আচরণের সাথে তাল মিলিয়ে চলে গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রাও।

[৫] শুধু নতুন ধানই নয়, হেমন্ত আমাদের জন্য নিয়ে আসে নতুন শাক-সবজির সম্ভার। বাঙালির শখের লাউ, আলু, বেগুন, কপি, লালশাক, পালংশাক, শিম, বরবটি,পালংশাক আর মুলাশাক নানা ধরনের পুষ্টিকর সব শাক-সবজি মেলে এই হেমন্তকালে। এ সময় গাছে গাছে বিচিত্র রকমের ফুলের সমারোহ প্রকৃতিতে আনে নান্দনিক রূপের মোহময় আবেশ।

[৬] গ্রাম বাংলায় শুরু হয় কন্যাকে নাইয়র আনার এবং নতুন জামাইকে আমন্ত্রণ করে পিঠা-পায়েস আপ্যায়নে তুষ্ট করার প্রতিযোগিতা। একসময় পালকি কিংবা ছৈ তোলা নৌকা শাড়ি পেঁচিয়ে গৃহবধূ বাবার বাড়িতে নাইয়র আসতেন। সেই চিত্র এখন আর চোখে পড়ে না। এখন গ্রামের বধূরা নাইয়র আসেন বাস, প্রাইভেটকারে-রিকশা কিংবা ইজিবাইকে করে। সম্পাদনা : রাশিদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত