শিরোনাম
◈ ভোররাতে ৫.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপলো সিলেট ◈ সীমান্তে ব্রিজ নির্মাণের চেষ্টা, বিজিবির বাধার মুখে নির্মাণাধীন ব্রিজ ফেলে পালাল বিএসএফ ◈ ২০২৬ সালে ভ্রমণের জন্য সেরা ২০ আন্তর্জাতিক গন্তব্য ◈ ১২ জানুয়ারি ঢাকায় আসছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ◈ গণভোটের প্রচারে সরকারের উদ্যোগ: জনগণকে জানাতে সকল বিভাগে বড় আয়োজন ◈ মোস্তাফিজের শেষ ওভারের ম্যাজিকে ঢাকাকে হারিয়ে রংপুরের শ্বাসরুদ্ধকর জয় ◈ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১৮৪২, বাতিল ৭২৩ ◈ দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত পরিবর্তনে কূটনৈতিক উদ্যোগে মার খাচ্ছে ভারত ◈ গুমের পেছনে মূলত ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কমিশন ◈ দিল্লিতে বসে থাকা ‘বোন’ শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান: মোদিকে আসাদুদ্দিন ওয়াইসি

প্রকাশিত : ২৫ অক্টোবর, ২০২০, ০৮:১৬ সকাল
আপডেট : ২৫ অক্টোবর, ২০২০, ০৮:১৬ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আসিফ আকবর: ধর্ম আর রাজনীতির রেষারেষিমুক্ত একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে হবে

আসিফ আকবর: বাংলাদেশের মানুষের কিছু ইউনিক ব্যাপার আছে, যা বিশে^ বিরল। প্রতিটি ধর্মীয় সামাজিক রাষ্ট্রীয় উৎসব এদেশের মানুষ খুব স্বতস্ফূর্তভাবে পালন করে। সেই ছোটবেলা থেকেই অশান্তি দেখে দেখে বড় হয়েছি। শত দুর্যোগ দুর্বিপাক কোনো উৎসবকেই আজ পর্যন্ত দমিয়ে রাখতে পারেনি। এ বছর করোনায় বন্যাও পরাস্ত হয়েছে, এদেশের মানুষের নাড়ির টানের কাছে। এই যে ম্যারাথন বন্যা চলছে, মানুষের কাছে তেমন অর্থ-কড়িও জমা নেই, তবুও উৎসব চলছে। কীসের মাস্ক, কীসের স্যানিটাইজার, জাতি ছুটছে আপন গতিতে। আতঙ্কটা হালকা কেটে গেলে, এদেশে আতঙ্ক নিজেই আতঙ্কিত হয়ে যায়। দুটো ঈদ দেখলাম। আমি ভেবেছিলাম এবার হয়তো জাতি দমে যাবে একটু। ঠাট্টা মসকরা যেটাকে ইংরেজিতে বলে ট্রল, এগুলোকে কেয়ার করার মতো টাইমই নেই আমাদের। বরং যারা ট্রলের আশ্রয় নিয়ে মানুষের আবেগকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতো ফেসবুকে, তারা নিজেরাই এখন বড় পর্যটক। নিজেও কয়দিন স্টে হোম লিখে বে আক্কেল হয়ে গেছি। ভুলেই গিয়েছিলাম আমিও এই জাতির হিস্যা, কোনো কিছুই দমিয়ে রাখতে পারবে না আমাদের।

দেশজুড়ে প্রতিনিয়ত নানা রকম সার্কাস হচ্ছে। আমরা একেক সময় একেকটা ইস্যু নিয়ে জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে ব্যস্ত হয়ে যাই। আর ফেসবুক আসার পর তো কোনো কথাই নেই, আপডেটের পর আপডেট। শেষ পর্যন্ত একটা ইস্যুই টিকে থাকে, আর সেটা হচ্ছে উৎসব। আমারও খুব ভালো লাগে এই উচ্ছ্বাস। দুনিয়ার বহু দেশ ঘুরে জেনেছি দেখেছি ক্যালেন্ডারের দরকার নেই, সুযোগ পাওয়া মাত্রই পার্টিমুডে থাকা একমাত্র জাতি আমরা বাংলাদেশিরাই। বছর ঘুরে আবার এলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব। বেড়ে উঠেছি এক চমৎকার সৌহার্দ্যপূর্ণ ধর্মীয় সংস্কৃতিতে। প্রতিটা ধর্মীয় উৎসবকে দেখে এসেছি সামাজিক উৎসব হিসেবেই। এবার সীমিত আকারে পূজার অনুষ্ঠান চললেও জাতি আছে পার্টিমুডে। ফেসবুক জুড়ে সবাই সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে, এটাই বাংলাদেশ।

ডিভাইড অ্যান্ড রুল পদ্ধতিতে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসাকে বিভক্ত করার প্রয়াস আগেও ছিলো, এখনো আছে। আমি সবসময় চাই জাতি উৎসবমুখর থাকুক। আমরা যেভাবে উৎসব পালন করি সেভাবে দেশপ্রেমটা সবার অন্তরের গভীরে প্রোথিত হোক। ধর্ম নিয়ে বিদ্বেষ রুখতে হবে, আমাদের সবার স্বার্থে। আমরা সবাই আগে মানুষ, এটাই চিরন্তন সত্য। মনুষ্যত্বের জয়গান বাজতে থাকুক প্রতিটি প্রাণে। হাসি-খুশি আনন্দে বেড়ে উঠুক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। ধর্ম আর রাজনীতি রেষারেষিমুক্ত একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের, তাহলেই উৎসবমুখর জাতির আনন্দ হবে মজবুত। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য রইলো শারদীয় শুভেচ্ছা। আসুন আমরা সবাই মিলেমিশে ভালো থাকি। ভালোবাসা অবিরাম, ছবি-আলী ইমাম সুমন। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়