শিরোনাম
◈ ২০৩০ সালে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ওপর ৫% কার্বন কর আরোপ করবে ইইউ ◈ ব্যাংকঋণে শীর্ষে সরকার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার খাতে বাড়বে ভর্তুকি ◈ ইরান যুদ্ধ ঠেকাতে মাঠে চীন-পাকিস্তান, ৫ দফা পরিকল্পনা প্রকাশ ◈ সংবিধান সংশোধন বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব ◈ সিঙ্গাপু‌রের কা‌ছে এক গো‌লে হে‌রে এশিয়ান কাপ বাছাই শেষ করলো বাংলাদেশ ◈ সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয় এটা একাত্তরের পরাজয়ের দলিল? প্রশ্ন পার্থের ◈ গাজী আশরাফ লিপুর আনুষ্ঠানিকভাবে দা‌য়িত্ব শেষ হলো, এবার পা‌বেন সম্মাননা ◈ সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ক্যান্সার আক্রান্ত, চিকিৎসার আবেদন করেছেন তার আইনজীবী ◈ বিগত সরকারের দুর্নীতিতে স্থবির স্বাস্থ্যখাত, সেবা উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ জলবায়ু ট্রাস্টের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : পরিবেশ মন্ত্রী

প্রকাশিত : ২৫ অক্টোবর, ২০২০, ০৮:১৬ সকাল
আপডেট : ২৫ অক্টোবর, ২০২০, ০৮:১৬ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আসিফ আকবর: ধর্ম আর রাজনীতির রেষারেষিমুক্ত একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে হবে

আসিফ আকবর: বাংলাদেশের মানুষের কিছু ইউনিক ব্যাপার আছে, যা বিশে^ বিরল। প্রতিটি ধর্মীয় সামাজিক রাষ্ট্রীয় উৎসব এদেশের মানুষ খুব স্বতস্ফূর্তভাবে পালন করে। সেই ছোটবেলা থেকেই অশান্তি দেখে দেখে বড় হয়েছি। শত দুর্যোগ দুর্বিপাক কোনো উৎসবকেই আজ পর্যন্ত দমিয়ে রাখতে পারেনি। এ বছর করোনায় বন্যাও পরাস্ত হয়েছে, এদেশের মানুষের নাড়ির টানের কাছে। এই যে ম্যারাথন বন্যা চলছে, মানুষের কাছে তেমন অর্থ-কড়িও জমা নেই, তবুও উৎসব চলছে। কীসের মাস্ক, কীসের স্যানিটাইজার, জাতি ছুটছে আপন গতিতে। আতঙ্কটা হালকা কেটে গেলে, এদেশে আতঙ্ক নিজেই আতঙ্কিত হয়ে যায়। দুটো ঈদ দেখলাম। আমি ভেবেছিলাম এবার হয়তো জাতি দমে যাবে একটু। ঠাট্টা মসকরা যেটাকে ইংরেজিতে বলে ট্রল, এগুলোকে কেয়ার করার মতো টাইমই নেই আমাদের। বরং যারা ট্রলের আশ্রয় নিয়ে মানুষের আবেগকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতো ফেসবুকে, তারা নিজেরাই এখন বড় পর্যটক। নিজেও কয়দিন স্টে হোম লিখে বে আক্কেল হয়ে গেছি। ভুলেই গিয়েছিলাম আমিও এই জাতির হিস্যা, কোনো কিছুই দমিয়ে রাখতে পারবে না আমাদের।

দেশজুড়ে প্রতিনিয়ত নানা রকম সার্কাস হচ্ছে। আমরা একেক সময় একেকটা ইস্যু নিয়ে জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে ব্যস্ত হয়ে যাই। আর ফেসবুক আসার পর তো কোনো কথাই নেই, আপডেটের পর আপডেট। শেষ পর্যন্ত একটা ইস্যুই টিকে থাকে, আর সেটা হচ্ছে উৎসব। আমারও খুব ভালো লাগে এই উচ্ছ্বাস। দুনিয়ার বহু দেশ ঘুরে জেনেছি দেখেছি ক্যালেন্ডারের দরকার নেই, সুযোগ পাওয়া মাত্রই পার্টিমুডে থাকা একমাত্র জাতি আমরা বাংলাদেশিরাই। বছর ঘুরে আবার এলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব। বেড়ে উঠেছি এক চমৎকার সৌহার্দ্যপূর্ণ ধর্মীয় সংস্কৃতিতে। প্রতিটা ধর্মীয় উৎসবকে দেখে এসেছি সামাজিক উৎসব হিসেবেই। এবার সীমিত আকারে পূজার অনুষ্ঠান চললেও জাতি আছে পার্টিমুডে। ফেসবুক জুড়ে সবাই সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে, এটাই বাংলাদেশ।

ডিভাইড অ্যান্ড রুল পদ্ধতিতে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসাকে বিভক্ত করার প্রয়াস আগেও ছিলো, এখনো আছে। আমি সবসময় চাই জাতি উৎসবমুখর থাকুক। আমরা যেভাবে উৎসব পালন করি সেভাবে দেশপ্রেমটা সবার অন্তরের গভীরে প্রোথিত হোক। ধর্ম নিয়ে বিদ্বেষ রুখতে হবে, আমাদের সবার স্বার্থে। আমরা সবাই আগে মানুষ, এটাই চিরন্তন সত্য। মনুষ্যত্বের জয়গান বাজতে থাকুক প্রতিটি প্রাণে। হাসি-খুশি আনন্দে বেড়ে উঠুক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। ধর্ম আর রাজনীতি রেষারেষিমুক্ত একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের, তাহলেই উৎসবমুখর জাতির আনন্দ হবে মজবুত। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য রইলো শারদীয় শুভেচ্ছা। আসুন আমরা সবাই মিলেমিশে ভালো থাকি। ভালোবাসা অবিরাম, ছবি-আলী ইমাম সুমন। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়