প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৩৭০ ধারা ফিরে না আসলে নির্বাচনে লড়বেন না মেহেবুবা

রাশিদ রিয়াজ : জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি নেত্রী বলেছেন, ৩৭০ ধারা ফিরিয়ে এনেই ছাড়ব, যতদিন তা না হবে নির্বাচনে লড়ব না। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই মন্তব্য করেন। দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যম থেকে দূরে থাকা মেহবুবা মুফতি সংবাদ সম্মেলনে বেশ কয়েকটি ইস্যুতে খোলামেলা কথা বলেছেন। এ সময়ে মেহবুবা মুফতি বলেন, আমরা ৩৭০ ধারা ফিরিয়ে এনেই ছাড়ব। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন যতদিন পর্যন্ত এটি না হবে ততদিন পর্যন্ত তিনি কোনও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। পারসটুডে

সংবাদ সম্মেলনে মেহেবুবা মুফতি ঘোষণা করেন আমি জম্মু-কাশ্মীর ছাড়া অন্য কোনও পতাকা তুলব না। তাঁর ওই মন্তব্যে তিনি ভারতের জাতীয় পতাকা তিরঙ্গা হাতে নিতে অস্বীকার করেছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তিনি অবশ্য বলেন, যেসময়ে আমাদের পতাকা রাজ্যে ফিরে আসবে, আমরা সেই (জাতীয় পতাকা) পতাকাটিও উত্তোলন করব। কিন্তু যতদিন আমাদের নিজস্ব পতাকা ফিরে না পাবো ততদিন আমরা অন্য কোনও পতাকা হাতে নেব না। এই পতাকাটি আমাদের আইনের অংশ।

সংবাদ সম্মেলনে মেহেবুবা আরও বলেন, বিহারের ভোট ব্যাংকের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ৩৭০ ধারার বিষয় অবলম্বন করতে হয়েছে। দেশ অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের পিছনে চলে গেছে। যখন ওঁরা কোনও বিষয়ে ব্যর্থ হয়, তারা কাশ্মীর এবং ৩৭০ ধারার মতো বিষয় উত্থাপন করেন। ওঁরা প্রকৃত ইস্যুতে কোনও কথা বলতে চান না। (কেন্দ্রীয় সরকার) আমাদের অধিকার (৩৭০ ধারা) ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত আমি কোনও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী নই বলেও পিডিপি নেত্রী মেহেবুবা মুফতি জানিয়েছেন।

মেহেবুবা মুফতি বলেন, জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন শেষ হবে না। আমাদের লড়াই কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের জন্য। পিডিপি নেত্রী মেহেবুবা মুফতি বলেন, চীন লাদাখে এক হাজার বর্গকিলোমিটারেরও বেশি জমি দখল করেছে। ৩৭০ ধারা অপসারণ এবং ভারতের পক্ষ থেকে যে পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে তাতে চীন প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছে। এটা কখনই অস্বীকার করা যাবে না যে জম্মু-কাশ্মীর আজকের মতো আন্তর্জাতিকভাবে এত বিখ্যাত ছিল না।

মেহবুবা বলেন গতবছর ৫ আগস্ট দিল্লি সেই সম্পর্ক ছিন্ন করেছে যার কারণে আমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করেছিলাম। আমরা উদার, গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের সাথে হাত মিলিয়েছিলাম, কিন্তু আমরা আজকের ভারত নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। আজকের ভারতে সংখ্যালঘু, দলিতরা নিরাপদ নয়। এই দেশ বিজেপির ইশতেহার অনুযায়ী চলবে না, সংবিধান অনুযায়ী চলবে বলেও মেহেবুবা মুফতি মন্তব্য করেন।

শুক্রবার বিহারে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘সকলেই অপেক্ষায় ছিলেন কবে ৩৭০ ধারা উঠবে। কিন্তু কেউ কেউ বলছেন, ক্ষমতায় এলে ওই ধারা আবার ফিরিয়ে আনা হবে। তারপরেও তারা বিহারে ভোট চাওয়ার সাহস পায় কীভাবে?এটা বিহারের অপমান নয়?

এদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র সিং মেহেবুবার মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেছেন মেহেবুবা মুফতি যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন তিনি ‘ভারত মাতা কী জয়’ বলে শপথ নিয়েছিলেন। তিনি এখন ক্ষমতায় না থাকায় পাকিস্তানের শপথ নিচ্ছেন। জম্মু ও কাশ্মীরের সংহতকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আমরা গত কয়েক বছর ধরে দেখেছি যে কাশ্মীরের কথিত রাজনীতিবিদরা কখনও কখনও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের থেকেও বেশি বিপজ্জনক হন।

বিজেপির সিনিয়র নেতা এবং রাজ্যের সাবেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী কবীন্দ্র গুপ্ত বলেছেন, যখন দুটি পতাকা ছিল উনি সেই যুগে ফিরে গেছেন। বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল এক আইন, এক পতাকা, এক প্রধান। আমরা ক্ষমতায় আসার পরে তা পূরণ করেছি। গোটা ভারতের একটি মাত্র পতাকা রয়েছে এবং এটি তিরঙ্গা (জাতীয় পতাকা) এবং তাদেরও উচিত এঁর সম্মান করা।

বিজেপি সভাপতি রবীন্দ্র রায়না বলেছেন, আমি লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহাজিকে অনুরোধ করব ওই রাষ্ট্রদ্রোহী মন্তব্যটি আমলে নিয়ে মেহেবুবার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করে তাঁকে কারাগারে পাঠাতে।

জম্মু-কাশ্মীরের ২০১৯ সালের ৫ আগস্টের আগে আলাদা সংবিধান ছিল। সেখানে ভিন্ন নিয়মকানুনের সাথে পতাকাটিও পুরো দেশ থেকে আলাদা ছিল। জম্মু-কাশ্মীরের সরকারী দফতরে রাজ্যের পতাকার সঙ্গে তিরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করা হতো। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার সেখান থেকে ৩৭০ ধারা অপসারণের পরে রাজ্যের বিশেষ মর্যাদার অবসান ঘটে এবং রাজ্যের নিজেস্ব পতাকা অকার্যকর হয়।

সর্বাধিক পঠিত