শিরোনাম
◈ সিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধি দল ◈ ভোট ডাকাতি হলে আব্বাসের রাজত্ব খানখান করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি নাসীরুদ্দীনের ◈ পুলিশ সদর দপ্তরে কন্ট্রোল রুম থেকে ভোটের চিত্র পর্যবেক্ষণ করলেন প্রধান উপদেষ্টা ◈ দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের ৩২ হাজার ৭৮৯ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৩২.৮৮ শতাংশ: ইসি সচিব ◈ দুপুরে এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন ◈ ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ককে ‘অগ্রাধিকার’ দেবে জামায়াত: এনডিটিভিকে শফিকুর রহমান ◈ এবার সারা বাংলাদেশের ভোটের চিত্র একরকম, কিন্তু গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি অন্যরকম ◈ ভোট দেওয়া শেষে সবাইকে 'ঈদ মোবারক' জানান প্রধান উপদেষ্টা ◈ রুমিন ফারহানার অ‌ভি‌যোগ, বিভিন্ন জায়গায় সিল মারার পায়তারা করছে ◈ তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পুত্র থেকে যেভাবে বিএনপির একক নেতায় পরিণত হলেন 

প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর, ২০২০, ০৯:১৯ সকাল
আপডেট : ২৪ অক্টোবর, ২০২০, ০৯:১৯ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জান্নাতুল নাঈম প্রীতি: ‘সর্বত মঙ্গল রাধে’ গানটা আসলে কে লিখেছিলেন?

জান্নাতুল নাঈম প্রীতি: মেহের আফরোজ শাওন এবং চঞ্চল চৌধুরী মিলে একটি গান গেয়েছেন, যেটা আবার সরলপুর ব্যান্ডের তপন চৌধুরী নামের একজন কপিরাইট ক্লেইম করেছেন। কিন্তু মূল সমস্যা হচ্ছে গানটা তারও না, অন্য একজনের গানে তিনি নিজের কয়টি বাক্য জুড়ে দিয়েছেন। যদ্দুর জানি মূল গানটা লিখেছেন দ্বিজ কানাই, ময়মনসিংহ গীতিকায় যা সংগ্রহ করেছিলেন দীনেশচন্দ্র সেন। ওদিকে সুমি মির্জা নামের অন্য একজনের নামে এই গানের সত্ত্বাধিকারীর কাগজপত্র ফেসবুকে ঘুরতে দেখছি। পুরো বিষয়টা হয়ে গেছে কপিরাইট ক্লেইমের খেলা!

বাঙালির যেকোনো প্রতিক্রিয়ার মতো দুই দল এই গানের ব্যাপারেও তৈরি হয়ে গেছে। একদল যিনি কপিরাইট ক্লেইম করেছেন তার পক্ষে, অন্যদল মেহের আফরোজ শাওন আর চঞ্চল চৌধুরীর গায়কীর পক্ষে আর কাগজপত্রসহ সুমি মির্জার পক্ষের। মাঝখানে গানের মূল রচয়িতা দ্বিজ কানাই সাহেব একদম চুপ, ভদ্রলোক বহু আগেই মারা গিয়েছেন। তিনি লেখা বিকৃতির দাবি তুলতে অপারগ। কিন্তু আসলে কে গানটা লিখেছিলেন? সেই প্রশ্নের জবাব মিলবে আদৌ?

কবির সুমন একখানে লিখেছিলেন, ইউটিউবেও আমার গানের শ্রোতা খুব কম। তার কারণ ঘৃণা। আমি তাঁকে জানিয়েছি- তাঁর জানাটা সত্যি নয়। শরীরের দাগ মিলিয়ে যায়, কিন্তু মনের দাগ কখনো মিলায় না। মিলায় না বলেই শৈশবের কথা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। গত চারমাস কবির সুমনের গান যখন আত্মগোপনে ছিলাম শুনতাম। মনে হতো কেউ একটানা প্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন। গানে গানে বলছেন- আমি চাই হিন্দু নেতার সালমা খাতুন পুত্রবধূ/আমি চাই ধর্ম বলতে মানুষ বুঝবে মানুষ শুধু!

ইউটিউবের ভিউ, ফেসবুকের লাইক, সবকিছুর শেষেও জয়-পরাজয় গন্ডির বাইরেও যে গন্ডি, সেটির নাম স্বাধীনতা। অথচ সুমন যখন ইসলাম গ্রহণ করলেন তখন একটা প্রগতিশীল নামের বড়ো অংশ তাঁকে বাতিল করে দিলো,ঘৃণা ছড়ালো। লজ্জার কথা সেই দলে আমিও ছিলাম। সেই লজ্জা আমি মাথা পেতে নিতে পারি এই বলে যে- স্বাধীনতার কথা মুখে বলার চেয়ে পালন করাটা বড়ো কঠিন। আমরা ক'জন সেটা পারি?

আগে কেউ গালি দিলে খুব রাগ করতাম। কিন্তু তবুও আমি চাই গালি দেয়ার স্বাধীনতাটুকু মানুষ উপভোগ করুক। যে আমার মতপ্রকাশের অধিকার হরন করে, আমি তার মত প্রকাশের স্বাধীনতায়ও বিশ্বাসী। বিশ্বাসী বলেই- দ্বিজ কানাই টিকে থাকুন সরলপুরের গানে, সরলপুরের গান টিকে থাকুক শাওন আর চঞ্চলের গায়কীতে। কারণ দাগের ওপর দাগ কাটলেও প্রথম দাগটির মতো গভীর হয় না! শেকড় ছুঁতে পারেনা অ শেকড়, তার যতই ইউটিউব ভিউ আর জনপ্রিয়তা থাকুক। মিথ্যা জনপ্রিয় হলেও তা মিথ্যাই থাকে!

আমার কেবল চাওয়া, দুনিয়ায় মানুষ সহনশীল হোক। আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্বকে তাঁর পরকীয়া দিয়ে, সুমনকে তাঁর ধর্মের বাটখারা দিয়ে, মিথ্যাকে জনপ্রিয়তা দিয়ে না মাপুক! পৃথিবীর সব যুদ্ধের শেষে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখুক- মহাবিশে^র তুলনায় সে একটি বিন্দুও নয়। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে জীবনানন্দের মতো বলুক-পৃথিবীর এইসব গল্প বেঁচে রবে চিরকাল/এশিরিয়া ধুলো আজ, ব্যাবিলন ছাই হয়ে আছে! পৃথিবীর এইসব গল্প বেঁচে থাক, কিন্তু মানুষ জানুক- মানুষ ছোট হয় তার বড়ো সাজার চেষ্টায় আর বড়ো হয় তার ছোট হওয়ার তেষ্টায়! এই সহজ কথাটা আমরা কবে বুঝবো? ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়