শিরোনাম
◈ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ, কয়েকদিন পর সুফল পাবে জনগণ ◈ রাজধানীতে গ্যাস লিকেজে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, দগ্ধ ১০ জন ◈ পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলা‌দেশ ওয়ানডে দলে লিটন ও আফিফ ◈ মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় প্যানিক, সন্ধ্যা থেকেই তেল নেই অনেক পাম্পে ◈ পুনরায় চালু হচ্ছে বন্ধ থাকা ৭টি পাটকল ◈ মাঝ আকাশে নিখোঁজ ভারতের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ◈ এয়ারপোর্ট ও বুর্জ খলিফা টাওয়ার ধ্বংসের ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল ◈ জয়ের ফাঁস করা তালিকায় শীর্ষ চাহিদাসম্পন্ন ১৫ নায়িকা ◈ চলছে তালিকা তৈরির কাজ, চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ধরতে যৌথ অভিযান ◈ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন: থামাতে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই বিশ্ব শক্তির

প্রকাশিত : ২৩ অক্টোবর, ২০২০, ০৫:৫৭ সকাল
আপডেট : ২৩ অক্টোবর, ২০২০, ০৫:৫৭ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)

ডেস্ক নিউজ: ঘুণেধরা মানবসমাজের জীর্ণ কাঠামো পরিবর্তনে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অবদান মানবতার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তার জীবন ছিল অতলান্তের মতো বিস্তৃত। সেই মহাসাগরের দিগন্ত রোমন্থন মানুষের সাধ্যাতীত। তার ব্যক্তিত্ব ছিল অসাধারণ, প্রতিভা ছিল বহুমুখী, অভিজ্ঞতা ছিল সুবিস্তৃত ও জ্ঞান ছিল অপরিসীম। বহুবর্ণ বিভূষিত তার স্বপ্নিল জীবনে বহু কিছুর আগমন ঘটেছিল। আর সবকিছুতে তার ঔদার্য ও মহত্ত্ব, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা, মনীষা ও তেজস্বিতা দেদীপ্যমান। স্বভাবতই বিশ্ব মনীষায় তার অবস্থান সর্বাগ্রে ও সর্ব শীর্ষে।

এনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকা লিখেছে, ‘হি ইজ দ্য মোস্ট সাক্সেসফুল অব অল প্রফেট্স অ্যান্ড রিলিজিয়াস পার্সোনালিটিস।’ অর্থাৎ জগতের সব ধর্মপ্রবর্তক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের মধ্যে তিনিই (মুহাম্মদ সা.) হচ্ছেন সর্বাপেক্ষা সফল ব্যক্তিত্ব। কারণ, নির্দ্বিধায় বলা যায় যে সর্বক্ষেত্রে তার কোনো বিকল্প নেই।

মহৎ মানুষের মহিমা ও মাহাত্ম্যের তুলনা দিতে গিয়ে মনীষী এমারসন একটি চমৎকার বর্ণনার আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘জগদ্বাসীর মত অনুযায়ী জগতে বাস করা সহজ এবং নিজের মত অনুযায়ী নির্জনে বাস করাও সহজ। কিন্তু তিনিই মহৎ ব্যক্তি যিনি লোকালয়ের মধ্যেও নির্জনতার স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখেন।’

ইসলাম শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার ধর্ম। কোনো ধরনের সহিংসতা ও বিবাদ-বিচ্ছিন্নতার স্থান ইসলামে নেই। ন্যূনতম শান্তি-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় এমন আচরণকেও ইসলাম আদৌ প্রশ্রয় দেয় না। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘ ইরশাদ করেন, ‘ফিতনা-ফাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৯১)

অন্য আয়াতে বলেন, ‘পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনের পর তাতে ফাসাদ বা সন্ত্রাস সৃষ্টি করো না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৫৬)

শান্তি-সৌহার্দ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষায় ইসলামের রয়েছে শাশ্বত আদর্শ ও সুমহান ঐতিহ্য। অমুসলিমদের প্রতিও কোনো অন্যায় আচরণ ইসলাম অনুমোদন করে না। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর প্রতিটি আচরণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিরল ও প্রোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এক অমুসলিম বৃদ্ধার ঘটনা ইতিহাসে আমরা জেনেছি। বৃদ্ধা প্রতিদিন মহানবী (স.)-এর চলার পথে কাঁটা দিত। একদিন রাসুল (সা.) দেখলেন, পথে কাঁটা নেই, তখন তিনি ভাবলেন হয়তো ওই বৃদ্ধা অসুস্থ হয়েছে বা কোনো বিপদে আছে, তার খোঁজ নেওয়া দরকার। এরপর মহানবী (সা.) বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে দেখেন, ঠিকই অসুস্থ। তিনি বৃদ্ধাকে বললেন, আমি আপনাকে দেখতে এসেছি। এতে বৃদ্ধা অভিভূত হয়ে গেল যে, আমি যাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য পথে কাঁটা পুঁথে রাখতাম, সেই আজ আমার বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছে। আপনিই তো সত্যিকার অর্থে শান্তি ও মানবতার অগ্রদূত। (শাশ্বত নবী (সা.), পৃষ্ঠা ৬০; ইফাবা, জুন-২০০৪)

মহানবী (সা.)-এর ঘরে এক ইহুদির অতিথি হওয়া ও এরপর মহানবী (সা.)-এর অতিমানবীয় আপ্যায়নের ঘটনা খুবই বিখ্যাত। রাসুল (সা.)-এর সুমহান উদারতা ও আদর্শে মুগ্ধ হয়ে সে ইসলামও গ্রহণ করে। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ঐতিহাসিক উদার চরিত্রকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ফুটিয়ে তুলেছেন এভাবে, ‘তোমার ধর্মে অবিশ্বাসীদের তুমি ঘৃণা নাহি করে/আপনি তাদের করিয়াছ সেবা ঠাঁই দিয়ে নিজ ঘরে।’

উৎকৃষ্টতম আদর্শের কারণেই দ্রুত বিশ্বব্যাপী ইসলামের প্রচার ও জাগরণ ঘটেছে। মহানবী (সা.) মক্কা থেকে মদিনা হিজরত করার পর যে মদিনা-সনদ প্রণয়ন করেন তা বিশ্ব ইতিহাসের সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান এবং শান্তি-সম্প্রীতির ঐতিহাসিক দলিল। এই সনদে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষাসহ সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা প্রদান সম্পর্কিত উল্লেখযোগ্য ধারা সন্নিবেশিত রয়েছে। যেমন সনদে স্বাক্ষরকারী সব গোত্র-সম্প্রদায় মদিনা রাষ্ট্রে সমান অধিকার ভোগ করবে, সব ধর্ম সম্প্রদায়ের স্ব-স্ব ধর্ম-কর্ম পালনের স্বাধীনতা ও অধিকার যথারীতি বহাল থাকবে; কেউ কারও ওপর কোনোরূপ আক্রমণ করবে না, সন্ধিভুক্ত কোনো সম্প্রদায় বহিঃশক্রকর্তৃক আক্রান্ত হলে উক্ত আক্রান্ত সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে সহযোগিতা করতে হবে এবং শক্রদের প্রতিহত করতে হবে, কোনো নাগরিক কোনো অপরাধ করলে তা তার ব্যক্তিগত অপরাধ বলে গণ্য করা হবে। (সিরাতে ইবনে হিশাম : ৪/৬১, ইফাবা, ২য় সংস্করণ: ২০০৮)

এভাবে ঐতিহাসিক মদীনা সনদের মাধ্যমে শান্তির বার্তাবাহক বিশ্বনবী (সা.) ধর্ম-বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার মধ্যে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি, সাম্য-মৈত্রীর সূদৃঢ় বন্ধন রচনা করে আদর্শ-কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের অদ্বিতীয় নজির স্থাপন করেন।

মুসলিম ও কুরাইশদের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক হুদায়বিয়ার সন্ধির বেশকটি ধারা ছিল মুসলিম স্বার্থবিরোধী। তা সত্ত্বেও সুদূরপ্রসারী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মহানবী (সা.)-এর নামের সঙ্গে ‘রাসুলুল্লাহ’ লেখা যাবে না মর্মে আপত্তি জানিয়ে বলল, আমি যদি সাক্ষ্য দিতাম যে, আপনি আল্লাহর রাসুল, তাহলে তো আর আপনার সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহ হতো না, আপনাকে বায়তুল্লাহ যেতে বাধা দিতাম না। তখন রাসুল (সা.) সন্ধির লেখক আলী (রা.)-কে বললেন ‘রাসুলুল্লাহ’ শব্দটি কেটে দিয়ে ওর ইচ্ছানুযায়ী শুধু আমার নাম লেখো। এতে আলী (রা.) অপারগতা প্রকাশ করলে রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করেন কোথায় লেখা আছে, এরপর নিজ হাতেই তা কেটে দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উদারতার অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত পেশ করেন। (সিরাতে ইবনে হিশাম : ৪/৬১, ইফাবা, ২য় সংস্করণ: ২০০৮ খ্রি.)

ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায়, মক্কা বিজয়ের দিন মহানবী (সা.) বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ করলে কুরাইশদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু মহানবী (সা.) বিজিত শক্রদের প্রতি কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার তো দূরের কথা কিঞ্চিৎ পরিমাণ ও প্রতিশোধস্পৃহা প্রকাশ করেননি, বরং শত্রুদের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করেছেন। তিনি কুরাইশদের বলেছেন, ‘হে কুরাইশরা! আমি তোমাদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করব বলে তোমরা মনে করো?’ তারা বলল, আপনি আমাদের প্রতি ভালো ব্যবহার করবেন বলে আমাদের ধারণা। আপনি দয়ালু ভাই। দয়ালু ভাইয়ের পুত্র। অতঃপর রাসুল (সা.) বললেন, ‘আমি তোমাদের সঙ্গে সেই কথাই বলছি, যে কথা হজরত ইউসুফ (আ.) তার ভাইদের উদ্দেশে বলেছিলেন, আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। যাও তোমরা সবাই মুক্ত।’ (আর-রাখিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা : ৪৩৯, আল-কুরআন একাডেমি লন্ডন; ২০০৮)

প্রতিশোধের পরিবর্তে শক্রদের প্রতি মহানবী (সা.)-এর ক্ষমা ও মহানুভবতার এমন অসংখ্য দৃষ্টান্ত শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ইসলামের চিরন্তন আদর্শের জানান দেয়। পারস্পরিক সাক্ষাতে সালাম বিনিময়ের যে বিধান ইসলামে রয়েছে, তাও সম্প্রীতির বন্ধন সুসংহতকরণের উজ্জ্বল প্রয়াস। ‘সালাম’ অর্থ শান্তি, সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে মূলত একে অপরের শান্তিই কামনা করেন। এতে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরি হয়। (সংক্ষিপ্ত ইসলামি বিশ্বকোষ : ২/৯৪; ইফাবা)

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ইসলাম এতই সোচ্চার যে, রাসুল (সা.) নিজেদের ধন-প্রাণের পাশাপাশি সংখ্যালঘু অমুসলিম সম্প্রদায়ের সবকিছু রক্ষায় সচেষ্ট থাকার জন্যও মুসলমানদের প্রতি জোর তাগিদ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়; অন্য ধর্মাবলম্বী ও তাদের উপাসনালয়ের ওপর আঘাত-সহিংসতাও ইসলামে জায়েজ নেই। সহিংসতা তো দূরের কথা অন্য ধর্মকে কটুক্তি থেকে বিরত থাকার জন্য পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা তাদের মন্দ বলো না, যাদের তারা আরাধনা করে আল্লাহকে ছেড়ে। কেননা তারা সীমালঙ্ঘন করে অজ্ঞানবশত আল্লাহকেও গালি দেবে।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ১০৮)

ইসলামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অসংখ্য-অগণিত উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, শান্তি, সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান ও সদ্ব্যবহার ইসলামের অনুপম শিক্ষা। কোনো সংকীর্ণতা, হিংসা-বিদ্বেষ নয়, বরং উদার-মহানুভবতাই হচ্ছে ইসলামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বিশ্বনবী (সা.) বিশ্বে শান্তির অমোঘ বাণী নিয়েই এসেছিলেন। শান্তি ও মানবতার ধর্ম ইসলাম সংঘাত, সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িকতাকে চরমভাবে ঘৃণা করে। সূত্র: দেশ রুপান্তর, বিডি নিউজ,

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়