প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপু তৌহিদুল: লড়াই ছাড়া অতীত শিক্ষার ভিত্তিতে কোনো কিছু করলে উচ্চ শিক্ষার মান নিম্নমুখী হবে

দীপু তৌহিদুল: ক্লাস ফাইভ, এইট আর এসএসসি উৎরে যাওয়াটা কোনো ছাত্রছাত্রীর মান নির্ধারণ ক্ষেত্রে যথেষ্ট হতে পারে না। এইচএসসি পরীক্ষা দেবার পর স্পষ্ট হয় কোন ছাত্র-ছাত্রীর ঘটে (মাথায়) কী আছে, আর সে রাষ্ট্রের কোন মাধ্যমের উচ্চ শিক্ষার জন্য যোগ্য। এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হতে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি হবার যোগ্যতাটা এতোদিন ধরে এভাবেই নির্ধারিত হয়ে এসেছে। এখন হুট করে এইচএসসি পরীক্ষার ধাপটি ক্রস করে উচ্চ শিক্ষার জন্য অন্য কোনো পন্থার প্রয়োগ ভীষণ ভুল হয়ে দাঁড়াবে। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে যদি ছাত্র-ছাত্রীদের মানের সঙ্গে সমঝোতা করা হয় তাহলে অযোগ্যরাই যোগ্য মেধাবীদের পেছনে ফেলে দেবে, এতে করে আপনি গবেট মার্কা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক পাবেন। যা মোটেও কাম্য নয়। এর ব্যাত্তয় করাটা ভুল পদক্ষেপ হবে।

ছেলে মেয়েরা শিক্ষা ক্ষেত্রে আসল লড়াই করে এসে রাষ্ট্রের উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি হবে সেটাই স্বাভাবিক হয়। লড়াই ছাড়া অতীত শিক্ষার ভিত্তিতে কোনো কিছু করলে উচ্চ শিক্ষার মান নিম্নমুখী হবে। যারা এইচ এস সি পরীক্ষা করোনার কারণে এড়াতে চাচ্ছেন তারা সঠিক ও জোরাল যুক্তি দিয়ে এটার ভালো দিকগুলো দেখালে ভালো হয়। করোনার দোহাই দিয়ে এইচ এস সি পরীক্ষা এস্কেপ করে গেলে অতি অবশ্যই শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশাল এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে যেতে পারে, যা অনেক কিছুকেই প্রশ্ন বিদ্ধ করবে। এতো বড় রিস্ক রাষ্ট্রের দিক হতে নেওয়াটা ঠিক হবে না। অনেকেই এইচ এস সি পরীক্ষা হবে বলে খুব খুশি। এরা আসলে কারা? উত্তর আমি দিচ্ছি – অতি অবশ্যই এরা মেধাহীন ছাত্রছাত্রী কিন্তু তাদের মামু- খালা- চাচা এবং অর্থের জোর রয়েছে। এরা চাচ্ছে কোনো না কোনো ভাবে চিকন ও সহজ পথ বেয়ে যোগ্যতাহীন হয়েও উচ্চ শিক্ষায় প্রবেশ করে যাবে। কোনো মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী ভুলেও চ্যালেঞ্জহীন পরিস্থিতি চাইবে না।

বিশ্বাস না করলে দেশের সকল মান সম্পন্ন স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের উপর রাষ্ট্র নিজে জরিপ চালাতে পারে। এতে নিরপেক্ষ একটা চিত্র সহজে চলে আসবে। বাংলাদেশের অভিভাবকদের বিরাট সমস্যা, এরা সবাই নিজের সন্তানকে বিরাট কিছু মনে করেন, যার ফলে নিজের যোগ্যতাহীন ছেলে মেয়েকে যে ভাবেই হোক ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার ( রূপক ) বানাতে অনৈতিক পথ বেছে নিতে কসুর করেন না। এর প্রমান ফাঁস হওয়া প্রশ্ন নিয়ে ঘটনাগুলো। যারা ফাঁস হওয়া প্রশ্ন নিয়ে রাষ্ট্রের একক দোষ দেই, তারা কখনো বলি না এর দায় নষ্ট অভিভাবকদেরই। এইটা শুনতে তিক্ত মনে হবে – কিন্তু নষ্ট অভিভাবকরাই প্রশ্ন ফাঁসের পেছনের মূল ও আসল কারিগর। প্রশাসনের দোষ দেবার আগে সবার দেখা উচিত নাগরিকরা আসলেই কি করছে। হা প্রশাসনের দোষ অবশ্যই আছে, কিন্তু নাগরিকরা রাষ্ট্রের সঙ্গে কি সত্যি সত্যি সাধু আচরণ করে যাচ্ছে? এক হাতে চুটকিই বাজে তালি নয়। নষ্ট অভিভাবক তার অযোগ্য সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার নামে প্রশাসনের মুষ্টিমেয় মানুষকে প্রশ্ন ফাঁসে প্রলুব্ধ করেন এবং ফাঁস প্রশ্নের বাজার দর নির্ধারণ করেন।

প্রশাসন নষ্ট করায় অসৎ নাগরিকদের ভূমিকা আপনি এড়িয়ে যেতে পারেন না। একজন সৎ ও বিবেকবান অভিভাবক কখনোই সন্তানের উচ্চ শিক্ষার জন্য অসৎ পথে যেতে পারেন না, কারন তিনি ভালো করেই জানেন তার ছেলে বা মেয়ের যোগ্যতা কতোটুকু। দেশের মরাল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই সৎ অভিভাবকের সংখ্যা এখন ক্ষীণ। এমন এক হ য ব র ল পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র এইচ এস সি পরীক্ষাকে না এড়িয়ে উল্টো কঠোর ভাবে গ্রহণ করলে জাতির মেরুদণ্ডটা শক্ত হবে, পাশাপাশি প্রশ্ন ফাঁসের মূল মদদদাতা অসৎ অভিভাবকদেরও শাস্তির আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া দরকার। নষ্ট ও চামবাজ অভিভাবকদের শায়েস্তা করলেই অটো প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা ইতরগুলোকেও রাষ্ট্র সহজেই ধরে ফেলতে সক্ষম হবে। এইচ এস সি পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়িয়ে কঠোর নিয়মের মাধ্যমে হয়ে যাক, আমরা এটাই চাই। করোনা যাবে কি থাকবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই, এমনো হতে পারে করোনার সাথেই হয়তো আমাদের লড়াই করে বেঁচে থাকতে হবে। কতোবার আপনি- আপনারা পরীক্ষা না নিয়ে পারবেন? কোভিড ১৯ দেখতেছি, কালকে কোভিড ২০ বা ২১ চলে এলে কি হবে? ঠাণ্ডা মাথায় সকল মহলকে এসব নিয়ে ভাবতে হবে, বেহুদা বিতর্ক করে কোনো ফল পাবেন না। এটা আমার ব্যাক্তিগত মতামত, সব পক্ষের মাঝেই ভালো একটা সুন্দর ও ভালো ব্যাল্যান্স চাচ্ছি। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত