প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে পেস্ট্রি শপ মি. বেকারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব

সুজন কৈরী : ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে মি. বেকারের টঙ্গী ও গাজীপুরের হেড অফিসে (কারখানা) অভিযান চালিয়ে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর। এ সময় গোয়েন্দা দল বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে। অধিকতর তদন্তের জন্য প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেনের হিসাব তলব করা হয়েছে।

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর জানায়, প্রতিষ্ঠানটির রাজধানীতে ২৯টি পেস্ট্রি শপ ও ৫টি সুইটমিটের বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। হেড অফিসের ঠিকানায় প্রতিষ্ঠানের কারখানাও অবস্থিত। বৃহস্পতিবার ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর থেকে এ ঘটনায় টঙ্গীর ঢাকা ব্যাংক, কামারপারা শাখা ও সাউথইস্ট ব্যাংকে নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে।

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার কায়সার ও ফেরদৌসি মাহবুব এবং তানভীর আহমেদের নেতৃত্বে দ্ুিট পৃথক দল গত ২০ অক্টোবর তুরাগের ধোউড়ের মোকদাম আলী সরকার রোডে অবস্থিত মি. বেকার কেক এন্ড পেস্ট্রি শপ লিমিটেড, এবং গাজীপুরের তারগাসের কুনিয়া পাচরে অবস্থিত মি. বেকার সুইটস নামক প্রতিষ্ঠান দুটির হেড অফিস কাম কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে। পেস্ট্রি শপের ভ্যাট নিবন্ধন নং- ০০০৯৬৪৬৮২ -০১০২। অন্যটির ভ্যাট নিবন্ধন নং- ০০১১৪৬১৭৭-০১০৩। প্রতিষ্ঠান দুটি ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে কেন্দ্রীয়ভাবে নিবন্ধিত।

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর বলছে, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব আসিফ জামান গত ১৮ অক্টোবর তার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর রোডে অবস্থিত মি বেকারের বিক্রয় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ভ্যাট চালান না দেয়ার অভিযোগ করেন। তিনি স্ট্যাটাসে এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের কাছে প্রতিকার চেয়ে উল্লেখ করেন, ভোক্তারা ভ্যাট দিলেও তা সরকার পাচ্ছে না। ওই কেন্দ্রটিতে ভ্যাট কর্তন করে একটা কাঁচা চালান দিয়ে ক্রেতাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। ওই অভিযোগ ও গোয়েন্দা তথ্যে এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম অভিযোগটির তদন্ত করার জন্য ভ্যাট গোয়েন্দাকে নির্দেশ দেন।

এরই প্রেক্ষিতে ভ্যাট গোয়েন্দা দলের হঠাৎ পরিদর্শনকালে প্রতিষ্ঠান দুটি ভ্যাট আইনের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ক্রয় হিসাব পুস্তক (মূসক-৬.১) ও বিক্রয় হিসাব পুস্তক (মূসক-৬.২) পাওয়া যায়নি। ভ্যাট আইন অনুযায়ী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই দুটি হিসাব সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পরিদর্শনকালে ভ্যাট সংক্রান্ত অন্যান্য দলিলাদি দেখাতে বলা হলে, উপস্থিত মালিকপক্ষ তা দেখাতে পারেন নি এবং এগুলো সংরক্ষণ না করার বিষয়ে তারা কোনো সদুত্তরও দিতে পারেন নি। ভ্যাট গোয়েন্দাদের অভিযানের আশঙ্কায় প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গনে মালিকপক্ষ নিজস্ব বাণিজ্যিক দলিলাদিও রাখেন না। এতে ভ্যাট গোয়েন্দা দলের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, নিজস্ব মনগড়া হিসাবের ভিত্তিতে মি. বেকার স্থানীয় ভ্যাট সার্কেলে রিটার্ন দাখিল করে আসছে। সেই সঙ্গে তারা ভোক্তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ভ্যাট সরকারি কোষাগারে যথাযথভাবে জমা দেননি।

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর জানায়, অভিযানের এক পর্যায়ে গোয়েন্দা দল প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গনে অবস্থিত অন্য একটি ভবনের বিভিন্ন তলায় ও ছাদে অবস্থিত কর্মচারীদের থাকার কক্ষ তল্লাশি করে তাদের পুরোনো কিছু অসংগঠিত তথ্যাদি পায়। গোয়েন্দা দল সেখান থেকে এসব কাগজপত্র জব্দ করে। গোয়েন্দা দলের জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এমনকি অভিযানের আগের দিন যেসব পণ্য ফ্যাক্টরি থেকে বের করেছে তার মূসক-৬.৫ চালান দেখতে চাইলেও তারা দেখাতে পারেন নি।

অনুসন্ধানে ভ্যাট গোয়েন্দা জানতে পেরেছে, মি. বেকারের দুটি প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় নিবন্ধিত হওয়ায় মূসক-৬.৫ এর মাধ্যমে পণ্য ফ্যাক্টরি থেকে আউটলেটে নেয়ার বিধান থাকলেও তা মানেনা। পাশাপাশি ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের আরেকটি দল উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর রোডে অবস্থিত মি. বেকার কেক এন্ড পেস্ট্রি শপের বিক্রয় কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে। কর্মকর্তারা প্রথমে পরিচয় গোপন করে পণ্য ক্রয় করে দেখতে পান, ওই বিক্রয় কেন্দ্রটি মূসক চালান (মূসক-৬.৩) ছাড়া পণ্য বিক্রি করছে। সেখানে তারা অভিযোগকারী অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিবের অভিযোগের সত্যতা পান। সেই সঙ্গে গোয়েন্দা দল বুধবার রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত মি. বেকারের দুটি বিক্রয় কেন্দ্র থেকে পণ্য ক্রয় করেও দেখতে পান, তারা মূসক চালান ছাড়া পণ্য সরবরাহ করছে। এতে প্রমাণিত হয় ভ্যাট আইন অনুযায়ী রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ না করে এবং ভ্যাট আইন লংঘন করে প্রতিষ্ঠানটি ৩৪টি বিক্রয় কেন্দ্রে ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে।

প্রতিষ্ঠানের কারখানা ও বিক্রয় কেন্দ্রে ভ্যাট চালান ছাড়া পণ্য সরবরাহ ও বিক্রি করায় মি. বেকারকে ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব সাময়িকভাবে অপরিচালনযোগ্য করা হয়েছে। অভিযানে জব্দকৃত দলিলাদি ও ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত দলিলাদির ভিত্তিতে ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ নির্ণয় ও অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সেই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিযুক্ত মি. বেকারের যাবতীয় উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রয় সরাসরি তত্ত্বাবধান করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঢাকা উত্তর কমিশনারেটের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত