প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ওমরাহ নিয়ে প্রতারণা শুরু করেছে কালো তালিকাভুক্ত শতাধিক এজেন্সি

যায়যায়দিন: ১ নভেম্বর থেকে বিদেশিদের জন্য ওমরাহ হজ করার সুযোগ উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে দিনে ২০ হাজার করে ৬০ হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ ওমরাহ করার সুযোগ পাবেন। তবে এখনো কোন কোন দেশ থেকে ওমরা করতে যেতে পারবেন তা চূড়ান্ত হয়নি। এদিকে ওমরাহ হজ নিয়ে প্রতারণায় মাঠে নেমেছে দেশের শতাধিক কালো তালিকাভুক্ত হজ এজেন্সি।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ে বৈধ হজ এজেন্সিগুলোর পক্ষ থেকে জমা দেওয়া এক অভিযোগে জানা গেছে, প্রাক-নিবন্ধনের জন্যও কালো তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলো সহজ-সরল হজযাত্রীদের কাছ থেকে টাকা ও পাসপোর্ট জমা নিচ্ছে। হজযাত্রীদের জিম্মি করে তারা তাদের লাইসেন্স নবায়নের চেষ্টাও করছে। ইতোমধ্যে এসব হজ এজেন্সি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে সারাদেশ থেকে শত কোটি টাকা তুলে এনেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম. শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, দেশে বছরজুড়ে বিভিন্ন কাফেলা ও নামসর্বস্ব এজেন্সিগুলো হজ এবং ওমরাহর জন্য নানা কৌশলে প্রচারণা চালিয়ে থাকে। মধ্যস্বত্বভোগীরা হজ এবং ওমরাহ করতে ইচ্ছুক ওইসব যাত্রীর সঙ্গে অর্থ লেনদেন করে হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। ফলে এসব ‘হায় হায় কোম্পানির’ কারণে হাবের সদস্য এজেন্সিগুলোর বদনাম হয়। হজ এবং ওমরাহ ব্যবস্থাপনায় এসব তথাকথিত ভুঁইফোড় এজেন্সি সবচেয়ে ক্ষতিকর। হজ এবং ওমরাহ নিয়ে দেশের ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা না করার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে দিনক্ষণ উলেস্নখ করে ওমরাহ পালনের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে কিছু হজ এজেন্সি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ওমরাহ পালনের সুযোগ করে দেওয়ার প্রচারণা বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে ওমরা হজ নিয়ে প্রতারণার দায়ে ৩৭টি হজ এজেন্সিকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (হজ-এক) আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহীন বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে ওমরাহ কার্যক্রম ২৬ ফেব্রম্নয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। কবে অনুমতি পাওয়া যাবে তা এখনো অনিশ্চিত। এ বিষয়ে সরকার কোনো অনুমতি না দিলেও প্রচার মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে কিছু হজ এজেন্সি। এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতির পরিপন্থি কাজে জড়িত হওয়ায় সালওয়া ওভারসিজ, ফরুক ট্রাভেলস, আকাশ ট্রাভেলস অ্যান্ড টু্যরস, সিলেটের এয়ার ট্রাভেলস, মুনতাহা ওভারসিজ, রহমত উলস্নাহ হজ এজেন্সি, তালহা ট্রাভেলসসহ অনেক এজেন্সিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রতারক হজ এজেন্সিগুলো গণমাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুক), অনলাইন মিডিয়াসহ নানা কৌশলে তাদের অশুভ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। হজ এজেন্সিগুলো প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে মাঠপর্যায় থেকে হজ এবং ওমরা করতে আগ্রহীদের টার্গেট করে কাজ করছে। সে সঙ্গে কমিশনের বিনিময়ে মাঠে নামিয়েছেন স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষক, কাজী, মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে। হজের নামে মানব পাচার ও হজ কার্যক্রমে অনিয়মের কারণে ইতোমধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক হজ এজেন্সিকে কালো তালিকাভুক্ত ও বিভিন্ন অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এসব এজেন্সিও ওমরাহ হজ পালনে আগ্রহী যাত্রীদের সংগ্রহে মাঠে নেমেছে।

এ বিষয়ে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) নেতৃবৃন্দ কালো তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। এখনই প্রতারকদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা না গেলে কালো তালিকাভুক্ত এসব হজ এজেন্সির মাধ্যমে হাজার হাজার ওমরাহ এবং হজযাত্রী প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি হজে যেতে জটিলতায় পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কারও সঙ্গে এখনই আর্থিক লেনদেন না করার আহ্বান জানিয়েছেন হাব নেতারা।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হজ) মু. আ. হামিদ জমাদ্দার বলেন, ওমরা ও হজ নিয়ে কিছু এজেন্সির প্রচারণা বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করতেই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। সারাদেশে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশর্-যাবসহ মসজিদ-মাদ্রাসায় এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারপরও মানুষ সচেতন হচ্ছে না, অনেকেই আবার প্রতারণার শিকারও হচ্ছেন।

জানা গেছে, ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন-২০২০’ এর খসড়ায় হজে অনিয়মে এক কোটি এবং ওমরাহর ক্ষেত্রে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, পরপর পাঁচ বছর হজ কার্যক্রম পরিচালনা না করলে লাইসেন্স বাতিল, হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাৎ করলে তা ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য হবে। পাশাপাশি কোনো এজেন্সি যদি হজযাত্রী বা ওমরাহ পালনকারীকে অঙ্গীকার অনুযায়ী সেবা দিতে ব্যর্থ হয় বা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে তাহলে তা অনিয়ম বা অসদাচরণ বলে গণ্য হবে। হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার কারণে কোনো এজেন্সি পরপর দু’বার তিরস্কৃত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী দুই বছরের জন্য তার লাইসেন্স স্থগিত হবে। হজ এজেন্সির লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে কমপক্ষে তিন বছর এবং ওমরাহর লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে দুই বছর ট্রাভেলস এজেন্সি পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

প্রসঙ্গত, হজের পাঁচ দিন (৮ থেকে ১২ জিলহজ) ছাড়া বছরে ৩৬০ দিন ওমরাহ করার নিয়ম রয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে মার্চ থেকে ওমরাহ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় সৌদি আরব সরকার। করোনা মহামারির কারণে প্রায় সাত মাস বন্ধ ছিল পবিত্র কাবাঘর। মহামারির কারণে এবার মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হজও সীমিত আকারে পালিত হয়েছে। চলতি মাসের চার অক্টোবর থেকে একেবারে সীমিত পরিসরে সৌদি নাগরিকরা ওমরাহ হজ করার সুযোগ পেয়েছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত