প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আগারগাঁওয়ে বসে মানুষ কেনা-বেচার হাট, অনেকেই থেকে যান অবিক্রিত

শাহীন খন্দকার : [২] মানুষের হাটে, মানুষ কেনা বেচা হয়। প্রাচীনকালে ও মধ্যযুগে সমাজে মানুষ কেনা-বেচার হাট বসত। সেই দাস প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে কবেই।কিন্তু একাবিংশ শতাব্দীর তথ্য-প্রযুক্তির যুগেও ক্ষুধা আর দারিদ্রের নির্মম আঘাতে নিন্ম আয়ের মানুষগুলো দু’বেলা রুটিরুজির জন্য নিজেকে বেচে দেন সারা দিনের জন্যে ।

[৩] রাজধানীর শেরে বাংলা নগর কোয়াটার রোডসহ পাসর্পোট অফিসের দক্ষিণে তেমনি একটি হাট। প্রতিদিন সকালে বসে মানুষ ক্রয় বিক্রয়ের এ হাট। রাজমিস্ত্রি,কাঠমিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি, সেনেটারি মিস্ত্রি, বাসা বাড়ি অফিস আদালতের নির্মাণ শ্রমিক দিনমজুরসহ নানা পেশার শ্রমজীবী মানুষে সরগরম হয়ে ওঠে এই বাজারে। শ্রমের এই বাজারে শ্রমিক কিনতে আসেন মালিকেরা। অনেক শ্রমজীবী বিক্রি হলেও অনেকেই থেকে যান অবিক্রিত।

[৪] কুড়িগ্রাম বগুড়া নেত্রকোণার দূর্গাপুর সোমেশ্বরী ভূঞাপুরের যমুনা নদের ভাঙ্গনে ভেঙ্গে যাওয়া মানুষেরা মোহম্মদপুর বেড়িবাঁধে, আগারগাঁ বিএনপি বস্তিতে এসে আবার গড়েছেন মাথাগুজার ঠাই করে নিয়েছে করিম (৩৫) শাহেদ (৫৫) সংসার চালানোর জন্য নিজেকে প্রতিদিন বিক্রি করতে আসেন এই মানুষের হাটে। ভাগ্যের পরিহাসে কোন কোন দিন থেকে যান অবিক্রিত।

[৫] দিনমজুর রাশেদ জানান, যমুনার ভাঙ্গনে বাড়ি ভেঙ্গে যাওয়াও ঢাকায় চলে আসি। যখন যে কাজ পাই সেই কাজ করি। সন্তানেরা নিজেরাই চলতে পারেনা, আমাদের কে দেখবে? তাই প্রতিদিন কামলা দিতে হয়। কামলার হাটে দাম একটু বেশি পাই। কেউ কিনলে, কোনদিন ৫০০ আবার কোনদিন ৬০০ টাকা থাকে। বেচা না হলে সেদিন রিকশা চালাই।’

[৬] বাসা ষাটফিট বসবাসরত আব্দুল্লাহ বলেন, শ্রমিকের দাম একটু বেশি হলেও এখানে সহজে কাজের লোক পাওয়া যায়। মানুষের এই হাটে বেচাকেনা চলে কাকডাকা ভোর থেকে সকাল ১০ টা পর্যন্ত। দাম দর ঠিক হয়ে গেলে শ্রমজীবী মানুষগুলো রওনা হন মালিকের গন্তব্যে। এরপর আরও একটি ভোরের অপেক্ষা, কাজের জন্য ছুটেচলা মানুষের হাটে।

[৭] এদিকে আগারগাঁও কলোনীর শাহীন চৌধুরী বলেন, ‘বাজারে মিস্ত্রির দাম ৭০০ টাকা আর এখানে শ্রমিক ও যোগালের দাম একটু কম ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা।’ এছাড়াও মোহাম্মাদপুর টাউনহল ও বাসস্ট্যান্ড, রামপুরা কাচাঁবাজার, মোহম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ফুটপাতে এবং জাপান সিটি গার্ডেন, কৃষিবাজারসহ রায়েরবাজার খেলার মাঠের পাশে মানুষের হাট বসে বলে তিনি জানান।

[৮] এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিতই বসে মানুষ বেচা কেনার হাট। তবে এই হাটে খাজনা, সমিতির ঝামেলা, হাট কমিটির চাঁদাবাজি নেই। নিজের আপন গতিতেই চলে এই হাট। শ্রমজীবী মানুষেরা সেদিক দিয়ে শান্তিতে থাকলেও তাদের কাজের নিশ্চয়তা এবং জীবনের নিরাপত্তা অনিশ্চিত বলে জানালেন দূর্গাপুরের রাশেদ আলী।

সর্বাধিক পঠিত