প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাজধানীতে মরদেহ সৎকারের জায়গা সকল ধর্মের জন্যই খুব সীমিত হয়ে গেছে

শাহীন খন্দকার :[২] যেকোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর দেহ সমাহিত করতে হয়,এটাই নিয়ম যুগ থেকে যুগের। এটা মুসলমান, খ্রিষ্টান, ইহুদিসহ অনেক ধর্মের বিধান। আর কবর দিতে প্রয়োজন জমির। আমাদের ১৬ কোটি মানুষের দেশটি প্রয়োজনের তুলনায় খুবই ছোট। সে জন্যই আমরা ধরে রাখতে পারছি না বনভূমি, কৃষিজমি এমনকি খাল-বিল, খেলার মাঠ, নদীনালা। এমনকি শিল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণের জন্যও জমির সংস্থান করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

[৩] তেমনি কঠিন হয়ে পড়েছে কবরের জমির সংস্থানও। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীতে এ সংকট ইদানীং প্রকট রূপ নিয়েছে। এখানে বসবাসকারী কেউ মারা গেলে কাউকে মফস্বলের পুরোনো ঠিকানায় নেওয়া হয়। তবে সে প্রবণতায়ও ভাটা পড়েছে। পুরোনো ঠিকানার সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলছেন অনেকে। তাই মৃত্যুর পর ঢাকাতেই তাঁদের কবর দিতে হয়। ঢাকায় কবরস্থান সংকটের বিষয়টি কারও অজানা নয়।

[৪] ঢাকার আজিমপুরের কবরস্থানটিতে ৩০ হাজারের মতো কবরের জায়গা, বনানীতে রয়েছে প্রায় ২২ হাজার কবরের জায়গা। ২০০৮ সাল থেকে দক্ষিণ জুরাইন ও আজিমপুরে আর ২০১২ সাল থেকে ঢাকা উত্তরের ৬ টি কবরস্থানে স্থায়ীভাবে আর কোন কবরের জায়গা দেয়া হচ্ছে না।
৫, ১০, ১৫ ও ২৫ বছর, এরকম নানা মেয়াদে সেখানে জায়গা বরাদ্দ আছে খুব অল্প কিছু কবরের। যার জন্য দেড় থেকে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়। কিন্তু সেটি যারা পারছেন না তাদের জন্যেই অস্থায়ী কবর। আর সেই সংখ্যাটিই বেশি। দুবছর পর পর সেসব কবরে যোগ করা হয় আরেকটি মরদেহ।

[৫] ১২ বছর আগে বোনের আত্মহত্যার পর থেকে বিভিন্ন উপায়ে তার কবরকে রক্ষা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এমন একজন ভাই জানালেন,”আমার বোনের কবর আজিমপুরে দেয়া সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। কারণ আমরা ভাইবোনেরা সবাই ঢাকাতেই থাকি। আমরা কবরটির দেখা শোনা করার জন্য একজনকে রেখেছি। ২২ মাস পর হঠাৎ সে জানালো কবরটি ভেঙে ফেলা হবে। প্রতি বছর হয় আগস্ট ও ফেব্রæয়ারি এরকম সময়ে সে খবর দেয় যে আপা কবর ভাঙবে। আমি তাকে প্রতি মাসে টাকা দেই কিন্তু ঐ সময়ে একটু বেশি দেই। এভাবেই ১২ বছর ধরে ওর কবরটা আমরা টিকিয়ে রেখেছে।

[৬] ঢাকায় বেশিরভাগ কবরই এখন দুবছর পর পর ভেঙে ফেলা হয়। নানা কবরস্থানে একই কবরে একের অধিক মৃত ব্যক্তিকে কবর দেয়া হচ্ছে। আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে দেখা গেলো অসংখ্য কবর একটি আরেকটির গায়ে লাগানো। কোন যায়গা অবশিষ্ট নেই। প্রচুর কবরের উপরে দেখতে পেলাম একের অধিক সাইনবোর্ড লাগানো। অর্থাৎ একের অধিক মানুষের জায়গা হয়েছে একেকটি কবরে।

[৭] এদিকে ভূমির অভাবে কবর নিয়ে ব্যাপক সমস্যায় পড়েছে ঢাকার খ্রিষ্টানদের সেমেটারি গুলো। তেজগাঁওয়ে হোলী রোজারী চার্চে সেখানে গিয়ে দেখলাম সাদা ক্রুশ চিহ্ন বসানো সারি সারি পাঁচশোর মতো কবর। অনেক ছিমছাম আর গোছানো সেগুলো। কিন্তু পাঁচ বছর পরপর একইভাবে পুরনো কবরে সমাহিত করা হয় নতুন মরদেহ। প্রধান পুরোহিত ফাদার কমল কোরাইয়া বলছিলেন খ্রিষ্টান স¤প্রদায়ের বেশিরভাগ মানুষ চার্চের সাথে সমাহিত হতে চান। সেখানে সবার স্থান সংকুলান আর সম্ভব হচ্ছে না।

[৮] তিনি বলছেন, “আমরা সরকারের কাছ থেকে কোনও অনুদান পাইনা। চার্চের কবরস্থানগুলো চার্চের পক্ষ থেকে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। কবরগুলো খুব যতেœ রাখা হয়। আমাদের মধ্যে অনেকে বিশ্বাস করে চার্চে কবর হলে তা পবিত্র থাকে। তাই অনেকেই চার্চে কবর চান। কিন্তু বিষয়টি খুবই কঠিন হয়ে পড়ছে। পাঁচ বছর পর আমরা যখন আবার খুড়ি, দেখা যায় হাড়গোড় বের হয়ে পড়ে এবং তখনো পচেনি।

[৯] আমরা নতুন জমি কেনার চিন্তা করছি কিন্তু জমির যা দাম তা সম্ভব হবে কিনা কে জানে”ঢাকায় খ্রিষ্টানদের জন্যে আরো দুটি কবরস্থান রয়েছে ওয়ারী ও মোহাম্মদপুরে। সেখানেও একই রকম অবস্থা। মৃত্যুর পরও মরদেহের জন্য একটুখানি জায়গা যে দরকার হয় তা মাথায় রেখে সেভাবে কোনও পরিকল্পনাই করা হয়নি ঢাকা শহরে। তথ্য বিবিসি বাংলা ও প্রথম আলো ।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত