প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডাকাতিতে বাধা দেয়ায় হোটেল ব্যবসায়ী রবিউলকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মিরপুরে হোটেল ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম লস্কর হত্যায় জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত সরদারসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার বশির, শেখ হাফিজ, আনোয়ার, আমির হোসেন, আল-আমিন, জুয়েল, নাঈম, তপন ও নজমুল। এ সময় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বাস, গাড়ির চাকা খোলার যন্ত্র হুইল রেঞ্জ উদ্ধার করা হয়। এই দলটি টেলিভিশনে ভারতীয় অনুষ্ঠান দেখে ডাকাতির বিভিন্ন কৌশল দেখে ডাকাতির কাজে সেই কৌশল প্রয়োগ করতো বলে জানিয়েছে পিবিআই।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানান, ২০ বছর ধরে ডাকাতি করছেন বশির। আশুলিয়ায় একটি মামলায় ২৬ মাস জেল খাটার পর এই ঘটনার তিন মাস আগে ছাড়া পান। এরপর আবারও অভিনব পদ্ধতিতে ডাকাতি শুরু করেন। পুরো বাস কয়েক দিনের জন্য ভাড়া নেন বশির। এরপর তার দলের চারজন সদস্যকে ডেকে পাঠান। তারা প্রত্যেকে আরও ৩ থেকে ৪ জন করে নিয়ে আসে। এরপর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজেদের ২০ থেকে ২২ জন সদস্যকে বাসে নিয়ে যাত্রা শুরু করে। অনেক যাত্রী দেখে সাধারণ যাত্রীরা বাসে ওঠেন। এরপর সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে সুবিধামতো জায়গায় যাত্রীদের নামিয়ে দেয় ডাকাত চক্রটি।

ডিআইজি বনজ কুমার বলেন, গত ৪ অক্টোবর ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটে নিরালা পরিবহনের একটি বাস তিনদিনের জন্য ভাড়া করেন বশির। বাসটি ভাড়া নেয়ার পর নিরালা পরিবহনের স্টিকার তুলে ঢাকা-দৌলতদিয়া-খুলনা লিখে ডাকাত দলের অন্যদের নিয়ে ঢাকা থেকে রওনা হন। গরু ব্যবসায়ীসহ কয়েকজনের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে রাতে দৌলতদিয়ায় অবস্থান করেন। ৫ অক্টোবর দৌলতদিয়া থেকে ফেরার পথে রবিউলকে বাসে তুলেন।

তিনি বলেন, রাত ১০টার দিকে নবীনগর থেকে রবিউলকে বাসে তোলা হয়। বাসে ওঠার পর ডাকাতির সময় বাধা দেন রবিউল। ডাকাত দলের কয়েকজন রবিউলকে চেপে ধরে কাপড় দিয়ে মুখ বেঁধে ফেলে। এতেও কাজ না হওয়ায় বশির তার হাতে থাকা হুইল রেঞ্জ দিয়ে রবিউলকে আঘাত করেন। বাসের মধ্যেই মারা যান রবিউল। এরপর নির্জন স্থান দেখে রবিউলের মরদেহ বলিয়ারপুর যমুনা ন্যাচারাল পার্কের পাশে ফেলে চলে যায় ডাকাতরা।

এদিকে বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় ওইদিন রাত ১২টার দিকে রবিউলের মা তার মোবাইল ফোনে কল দিলে অপর প্রান্ত থেকে এক অপরিচিত ব্যক্তি ফোন রিসিভ করে জানান, এই নম্বরের মালিক খুন হয়েছে। তার মরদেহ হেমায়েতপুরে রাখা হবে। এই বলে কল কেটে দেয় ডাকাত দলের সদস্যরা। এরপর রবিউলের মোবাইল ফোনটি ভেঙে ড্রেনে ফেলে দেয় ডাকাত দলের সদস্যরা।

পিবিআই প্রধান জানান, গত ৬ অক্টোবর রবিউলের মরদেহ উদ্ধারের পর অজ্ঞাত হিসেবে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। খবর পেয়ে হাসপাতলে গিয়ে পরিবার রবিউলকে শনাক্ত করে। রবিউল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই। গোয়েন্দা তৎপরতা ও প্রযুক্তির সহায়তায় গত মঙ্গলবার ডাকাত দলের প্রধান বশিরকে সাভার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যে সাভার, ধামরাই, ডেমরাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়িত চক্রের আরও ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া জড়িত আরও বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত